dalits protests

নয়াদিল্লি: সোমবার দলিতদের ডাকা ভারত বন্‌ধে দেশের বিভিন্ন অংশে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে মোট দশ জনের মৃত্যু হয়েছে। তার রেশ মঙ্গলবারও রয়েছে।

তফশিলি জাতি ও উপজাতিদের নিরাপত্তায় ‘এসসি/এসটি (প্রিভেনশন অব অ্যাট্রসিটিস) আইন’ লঘু করে দেওয়ার অভি‌যোগে সোমবার ভারত বনধের ডাক দিয়েছিল দেশের বেশ কয়েকটি দলিত সংগঠন। বন্‌ধের মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় অশান্তি ছড়ানোয় সুপ্রিম কোর্টে পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়েছে কেন্দ্র।

অন্য দিকে বিরোধীদের দাবি, দলিতদের এই ক্ষোভের কারণ আদতে আদালত নয়, কেন্দ্রই। কারণ তারা আদালতে দলিতদের স্বপক্ষে কিছু বলতেই পারেনি। দলিতদের এই অসন্তোষের মধ্যে মঙ্গলবার সংসদে বিবৃতি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। সাধারণ মানুষকে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়ে রাজনাথ বলেন, এই বিক্ষোভের জন্য কেন্দ্র দায়ী হতে পারে না, কারণ তারা এই আইনকে লঘু করেনি। রাজনাথের বক্তব্যের মধ্যেই হইহট্টগোল চালিয়ে যায় বিরোধীরা।

যে তিনটে কারণে দলিতদের মধ্যে এত অসন্তোষ ছড়িয়েছে, সেই ব্যাপারে একটু পর্যালোচনা করা যাক।

১) যে কারণে বন্‌ধ

তফশিলি জাতি ও উপজাতিদের নিরাপত্তায় ‘এসসি/এসটি (প্রিভেনশন অব অ্যাট্রসিটিস) আইন’ লঘু করে দেওয়া। এর ফলে দলিতদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কাজকর্ম হলেও অপরাধীরা ছাড়া পেয়ে যেতে পারে, এই ভয় গ্রাস করেছে দলিতদের মধ্যে। অন্য দিকে দলিতদের মনে হয়েছে রাষ্ট্রও এখন তাদের ন্যায়বিচার দিতে দেরি করবে।

২) সামাজিক বৈষম্য

দলিতদের প্রতি সামাজিক বৈষম্য আগে থেকেই হয়ে আসছে। এখনও চলছে। ২০১৬-এর একটি সমীক্ষার ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, ভারতের কিছু রাজ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ অদলিত হিন্দু এখনও দলিতদের অচ্ছুত হিসেবে দেখে।

সেই সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, গ্রামীণ রাজস্থানের ৬৬ শতাংশ অদলিত হিন্দু মহিলা এবং ৫০ শতাংশ অদলিত হিন্দু পুরুষ দলিতদের অচ্ছুত মনে করে। রাজ্যের শহরাঞ্চলে এই হার যথাক্রমে ৫০ এবং ৩৩ শতাংশ। অন্য দিকে গ্রামীণ উত্তরপ্রদেশে ৬৪ শতাংশ অদলিত হিন্দু মহিলা এবং ৪৩ শতাংশ অদলিত হিন্দু পুরুষ দলিতদের অচ্ছুত হিসেবে দেখা। শহরাঞ্চলে সেই হার যথাক্রমে ৪৮ এবং ৪২ শতাংশ। দিল্লিতে ৩৩ শতাংশ অদলিত হিন্দু মহিলা এবং ২৭ শতাংশ অদলিত হিন্দু পুরুষ দলিতদের অচ্ছুতের চোখে দেখে।

৩) শিক্ষিতদের মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা

এটা ঠিক যে বছরের পর বছর ধরে দলিতদের সামাজিক অবস্থা অনেকটাই উন্নত হয়েছে কিন্তু শিক্ষিতদের মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার ব্যাপারটা বেড়ে গিয়েছে। ২০১৬-এর সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, পুরো দলিত সম্প্রদায়ের তুলনায় ১৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সি স্নাতক দলিতদের সামাজিক বৈষম্যের ভয় অনেক বেশি।

শিক্ষিত দলিতদের মধ্যে ন্যায়বিচার না পাওয়া, জাতভিত্তিক শোষণ এবং সামাজিক বৈষম্যের ভয় অনেক বেশি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here