kerala floods
বানভাসি কোচির উপকণ্ঠের আলুভা। ছবি: টুইটার

ওয়েবডেস্ক: ‘ওয়াটার ওয়াটার এভরিওয়্যার, নট আ ড্রপ টু ড্রিঙ্ক।’ কেরলের বৃহত্তম শহর কোচির পরিস্থিতি এখন এ রকমই। শহরের কিছু এলাকায় ঢুকতে শুরু করেছে বন্যার জল, অথচ পানীয় জলের আকাল। আসলে পানীয় জলের জন্য যে পেরিয়ার নদীর ওপরে কোচি ভরসা করে, বানভাসি হওয়ার ফলে তাতে পলি জমে যাওয়ায় পানীয়ের কাজে আর ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তবে প্রশাসনের আশ্বাস, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

আসলে, মৃত্যুর সংখ্যা দিয়ে বিচার করলে কেরলের বন্যার ভয়াবহতা কিছুই বোঝা যাবে না। কেরল সরকারের সঠিক পরিকল্পনার জন্য মৃতের সংখ্যা অনেকটাই কম, এখনও পর্যন্ত রাজ্যে মৃত্যু হয়েছে মোট  ৩০ জনের। কিন্তু যে ভাবে একের পর এক জেলা বন্যার করাল গ্রাসে, এ ছবিটা ‘ভগবানের আপন দেশে’ আগে খুব একটা দেখা যায়নি। কেরলের এক মন্ত্রী বলেই দিয়েছেন গত ৫০ বছরে এ রকম বন্যা হয়নি রাজ্যে।

পার্বত্য জেলার মানুষ হোক বা উপকূলবর্তী, সবাই বৃষ্টিতে নাজেহাল। এক দিকে বন্যার জলে ভেসে যাচ্ছে উপকূলবর্তী অঞ্চলের একের পর এক গ্রাম অন্য দিকে ধসের কবলে পার্বত্য অঞ্চল। ধসের ফলে মুন্নারে আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধারে আসরে নামতে হয়েছে সেনাকে। তবে শুধু পর্যটকরাই নন, সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যেতে একযোগে কাজ করে চলেছে সেনা, নৌসেনা এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।

বৃষ্টি কতটা ভয়াবহ হয়েছে সেটা একটা পরিসংখ্যানেই পরিষ্কার হয়ে যাবে। ইদুকি বাঁধের সর্বোচ্চ জলধারনের ক্ষমতা ২৪০০ মিটারের কিছু বেশি। গত বৃহস্পতিবার এই বাঁধের একটি স্লুইস গেট খুলে দেওয়া হয়েছিল। গত ২৬ বছর এই প্রথম বার খোলা হল বাঁধের একটি গেট। কিন্তু শুক্রবার খুলে দেওয়া হল আরও চারটে গেট। ৪০ বছরে এই প্রথম বার পাঁচটা গেটের পাঁচটাই খুলে দেওয়া হল জল বার করার জন্য। এই জল এসে পড়ল পেরিয়ার নদীতে, যে নদীর কার্যত ধারেই অবস্থিত কোচি শহর। বানভাসি হয়ে পড়ল কোচির নিচু এলাকা এবং উপকন্ঠের আলুভা শহর।

আরও পড়ুন দক্ষিণবঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টা বজায় থাকবে গরম, তারপর?

তবে শনিবার থেকে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করেছে কেরল। বৃষ্টির দাপট কমায়, কমানো হয়েছে ইদুকি বাঁধ থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ। এই পরিমাণ কমানোর খবর জানিয়েছেন ইদুকির জেলাশাসক জীবন বাবু। এর ফলে উপকূলবর্তী শহরগুলির বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কিন্তু এই স্বস্তি কত দিনের? আবহাওয়া দফতর থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আগামী দু’ তিন দিন আবহাওয়া স্বস্তি দিলেও, স্বাধীনতা দিবসের সময় থেকে ফের রাজ্যে শুরু হয়ে যেতে পারে ভারী বর্ষণ। তখন কী হবে?

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন