kumbh mela

ওয়েবডেস্ক: একে রামে রক্ষা নেই, তায় সুগ্রীব দোসর!

বা, একটু সংশোধন করে নিয়ে বলা যায়, একে জাতীয় সঙ্গীতে রক্ষা নেই, তায় কুম্ভ মেলা দোসর!

বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে নিশ্চয়ই?

তা, সত্যি বললে অসুবিধাই তো হওয়ার কথা! কেউ কখনও ঘোর দুঃস্বপ্নেও কি ভাবতে পারবেন যে এবার থেকে প্রেক্ষাগৃহে ছবি দেখতে গেলে তার আগে এবং বিরতির সময় কুম্ভ মেলার নয়া লোগো সমন্বিত পোস্টারটাও দেখতে হবে?

শুনতে অবাক লাগলেও সম্প্রতি এমন ফরমানটাই জারি করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তাঁর ধর্মীয় মস্তিষ্ক এবং তা প্রসূত চিন্তাভাবনা বলছে, দেশের যুব সম্প্রদায় না কি ধর্মের পথ থেকে ক্রমেই সরে সরে যাচ্ছে। তাই তাদের সনাতন ভারতীয় ধার্মিক স্রোতে ফিরিয়ে আনতে, ছায়াছবির বাবুজির মতো সংস্কারী করে তুলতে এবার থেকে জাতীয় সঙ্গীত বাজানো শেষ হলেই দেখতে হবে পর্দা জুড়ে কুম্ভ মেলার পোস্টার। বিরতির পর যখন ছবি আরম্ভ হবে, তখনও একবার তা দেখানো হবে! বলা তো যায় না, যদি দেরি করে প্রেক্ষাগৃহে ঢোকার কারণে দর্শকদের কাছে প্রথম বারে পোস্টারটা অদেখাই থেকে যায়!

অবশ্য  সারা উত্তরপ্রদেশ জুড়ে শুধু প্রেক্ষাগৃহে এই গেরুয়া রংওয়ালা, সাধুদের কুম্ভস্নানের দৃশ্যযুক্ত ছবিটি দেখিয়েই ক্ষান্ত থাকছেন না যোগী। ইতিমধ্যেই কড়া ফরমান জারি করেছে তিনি, এখন থেকে উত্তরপ্রদেশের সব সরকারি কাগজপত্রে এই কুম্ভের লোগো ব্যবহার করতে হবে।

যদিও কুম্ভ মেলার পুণ্যস্নানের লগ্ন এ বছরে পড়ছে না। তা শুরু হওয়ার কথা ২০১৯ সালে। এ বারে সেই পুণ্যস্নানের পালা চলবে এলাহাবাদে। তা যাতে সর্বাত্মক হয়, তার জন্য বিজ্ঞাপনের হোর্ডিংয়েও কুম্ভের এই লোগো ব্যবহারের আদেশ দিচ্ছেন আদিত্যনাথ।

যদিও এই সব করতে গিয়ে সনাতন ভারতীয় ধর্মীয় রীতিতে আঘাত হানছেন যোগী নিজেই! কেন না, এলাহাবাদের ২০১৯ সালের মেলা শাস্ত্রমতে অর্ধকুম্ভ হলেও যোগী তাকে কুম্ভ বা পূর্ণকুম্ভ আখ্যা দিয়েই জগতে বিখ্যাত করতে চাইছেন!

বলুন, এবার কী বলবেন? ওই পোস্টার দেখানোর সময়েও দাঁড়িয়ে থাকতে হবে কি না?

তার উত্তর যোগীই ভালো দিতে পারবেন!

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন