লেহ: নিজের পছন্দের মুসলিম ছেলেকে বিয়ে করে ধর্মান্তরিত হওয়াটাই বৌদ্ধ মেয়েটির দোষ। ‘লাভ জেহাদ’-এর অভিযোগে তপ্ত হয়ে উঠেছে লাডাকের সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি। যদিও মেয়েটির দাবি কারও চাপে নয়, বরং নিজের ইচ্ছেতেই ধর্মান্তরিত হয়েছে সে।

কার্গিলের দ্রাস অঞ্চলের বাসিন্দা বছর ৩২-এর মুর্তাজা বছর দুয়েক আগে এক বৌদ্ধ মেয়েকে বিয়ে করেন। তার পর সেই মেয়েটি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং তাঁর নাম হয় সোফিয়া। জম্মু কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতিকে চিঠি দিয়ে সোফিয়া জানিয়েছেন, কারও চাপে নয়, সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছেতেই মুর্তাজাকে বিয়ে করেছেন তিনি। দিল্লিতে একটি এনজিও-তে কাজ করার সময়ে দু’জনের মধ্যে ভালোবাসা হয় বলেও জানিয়েছেন সোফিয়া।

যদিও এই যুক্তি মানতে নারাজ ‘লাডাক বুদ্ধিস্ট অ্যাসোসিয়েশন’ (এলবিএ)। সংস্থার আধিকারিক পি টি কুনজাং-এর মতে, মুর্তাজার চাপেই তাঁকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছেন সোফিয়া।

সোফিয়ার কথা শুনে তাঁর পাশেই দাঁড়িয়েছে জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্ট। এই দম্পতিকে যাতে কোনো ভাবেই হেনস্থা না করা হয়, সে দিকে নজর দেওয়ার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তবে কুনজাং-এর মতে, বৌদ্ধদের রাজ্য থেকে মুছে দেওয়ার জন্যই নাকি এই কাণ্ডে মদত দিচ্ছে রাজ্য সরকার। সেই সঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, “জীবনের শেষ রক্ত দিয়ে তারা এর বিরুদ্ধে লড়ব।”

কুনজাং-এর দাবি, ২০০৩ থেকে এখনও পর্যন্ত ৪৫টি বৌদ্ধ মেয়ে মুসলিম ছেলেকে বিয়ে করে ধর্মান্তরিত হয়েছে, এবং বলেছে নিজের ইচ্ছেতেই তারা এই কাজ করছে। তাঁর কথায়, “চাপে পড়েই এই মন্তব্য করতে বাধ্য হয় তারা।”

যদিও এই দাবি সম্পূর্ণ খণ্ডন করেছেন সোফিয়া। শ্রীনগরের একটি অজ্ঞাতস্থানে এখন রয়েছে ওই দম্পতি। সোফিয়ার দাবি, ২০১৫ সালে কর্নাটকের কেমানাহাল্লিতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন তিনি। তিনি জানান, বিয়ের আগে তাঁর নাম ছিল সাল্ডন।

উল্লেখ্য, দুই জেলা লেহ এবং কার্গিল নিয়ে লাডাক অঞ্চল। এখানে মোট জনসংখ্যার ৫১ শতাংশ বৌদ্ধ এবং ৪৯ শতাংশ মুসলিম। যদিও মুসলিমদের দাবি, ধর্মান্তরের ব্যাপারটা একতরফা নয়। অনেক মুসলিম মেয়েও বিয়ের পর বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেছে। আর সেটাই তো স্বাভাবিক। যেখানে দু’টি ধর্মীয় সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষরা সংখ্যায় প্রায় সমান, সেখানে এই ব্যাপারটি একতরফা হবে কী করে?

লাডাকে মুসলিম এবং বৌদ্ধদের মধ্যে অশান্তি নতুন কিছু নয়। ১৯৮৯ সালে দু’পক্ষের মধ্যে অশান্তি হয়েছিল। তখন মুসলিমদের সামাজিক বয়কটের ডাক দিয়েছিল এলবিএ। যদিও তিন বছর পরেই সেই বয়কট তুলে দেওয়া হয়। আপাতত ‘লাভ জেহাদ’-এর প্রতিবাদ জানাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করতে মরিয়া এলবিএ-এর প্রতিনিধিরা। তবে প্রধানমন্ত্রী দেখা করবেন কি না, সে ব্যাপারে এখনও কোনো খবর নেই তাদের আছে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন