পাকিস্তানের স্কুলে বোমা বিস্ফোরণ, নেপালে ভূমিকম্প! ৩৫ বছর ধরে প্রত্যেক শনিবার ধর্মঘট ভারতের তিন জেলার আইনজীবীদের

0

নয়াদিল্লি: তা হলে কি কতকটা ‘ফিল্মি কারণে’ই আইনজীবীদের ধারাবাহিক ধর্মঘট!

উত্তরাখণ্ডের তিনটি জেলায় গত ৩৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে পাকিস্তানের একটি স্কুলে বোমা বিস্ফোরণ অথবা নেপালের ভূমিকম্পের মতো “হাস্যকর কারণে” আইনজীবীদের ধর্মঘট চলছে বলে নাটকীয় কায়দায় দৃষ্টি আকর্ষণ করা হল সুপ্রিম কোর্টের। জাতীয় “রসিকতা” অবলম্বনের মূল কারণই হল সর্বোচ্চ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ।

প্রত্যেক শনিবার দেরাদুন এবং হরিদ্বার ও উধম সিং নগরের বিভিন্ন জায়গায় আইনজীবীদের ধর্মঘট বা আদালতের কাজ বয়কটকে উত্তরাখণ্ড হাইকোর্টের ‘অবৈধ’ আখ্যা দেওয়ার বিরুদ্ধে একটি আবেদনের শুনানি চলাকালীন বিষয়টি শীর্ষ আদালতের নজরে আসে।

গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বরের রায়ে উচ্চ আদালত আইন কমিশনের ২৬৬তম প্রতিবেদনের বিষয়টি উল্লেখ করে। যা আইনজীবীদের ডাকা ধর্মঘটের কারণে কার্যদিবসের ক্ষতি সম্পর্কিত তথ্য বিশ্লেষণ করে। এই ধরনের কার্যকলাপ আদালতের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে এবং এর জেরে জমে থাকা মামলার পাহাড় তৈরি হয় বলেও উল্লেখ করা হয়।

আইন কমিশনে উত্তরাখণ্ড সম্পর্কিত উচ্চ আদালতের পাঠানো তথ্য অনুসারে জানা যায়, ২০১২-১৬ সালে দেরাদুন জেলায় এই সময়ের মধ্যে আইনজীবীরা ৪৫৫ দিন ধর্মঘটে ছিলেন, অন্য দিকে হরিদ্বার জেলায় ৫৫৫ দিন ছিল।

হাইকোর্টের রায়ে ধর্মঘট বা বয়কটের কারণ হিসাবে তুলে ধরা হয়, “পাকিস্তানের একটি স্কুলে বোমা বিস্ফোরণ, শ্রীলঙ্কার সংবিধানের সংশোধনী, আন্তঃদেশীয় নদীর জল বিরোধ, একজন আইনজীবীর উপর হামলা / হত্যার ঘটনা, নেপালে ভূমিকম্প, আইনজীবীর নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুতে সমবেদনা জানিয়ে সংহতি প্রকাশ অন্যান্য রাজ্য আইনজীবী সমিতির সমর্থকরা, সামাজিক কর্মীদের আন্দোলনে নৈতিক সমর্থন, ভারী বৃষ্টিপাত …. এমনকী কবি-সম্মেলনের পক্ষেও”।

বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে একটি আবেদনের শুনানি হয় বিচারপতি অরুণ মিশ্র এবং এম আর শাহের বেঞ্চে। শুনানিতে বেঞ্চ জানায়, “এটা দেশের সর্বত্রই ঘটে চলেছে। স্বত‌ঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা করার জন্য এটা একটা সামঞ্জস্যপূর্ণ মামলা। বার অ্যাসোসিয়েশনকে বলতে হবে, তারা কেন ধারাবাহিক ভাবে ধর্মঘটকে টেনে নিয়ে চলেছে”?

একই সঙ্গে বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, হাইকোর্টের রায় যুক্তিসঙ্গত এবং ন্যায্য। বিচারপতিরা বলেন, “আমরা এটা মোটেই চলতে দিতে পারি না। সকলেই ধর্মঘটে যাচ্ছে। দেশের কোনায় কোনায় ধর্মঘট হচ্ছে। আমাদের এখন কঠোর হওয়া উচিত। আপনি কী করে বলছেন, বার অ্যাসোসিয়েশন প্রতি শনিবার ধর্মঘটে যাবে”?

------------------------------------------------
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.