জেএনইউ-এর পর আর এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় বাম-দলিত জোটের দখলে

0
left dalits sweeps HU
বাম-দলিত জোটের জয়।ছবি সৌজন্যে দ্য হিন্দুস্তান টাইমস।

ওয়েবডেস্ক: সর্ব ভারতীয় ছাত্র রাজনীতিতে বিজেপির সংগঠন এবিভিপি (অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ) কিছুতেই সে ভাবে জায়গা করতে পারছে না। জেএনইউ-তে ব্যাপক পরাজয়ের পর আবার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পরাজিত হতে হল তাদের। শুধু পরাজয়ই নয়, হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের ক্ষমতাও হারাল তারা। বাম, দলিত এবং আদিবাসী সংগঠনের জোট এক বছর পর ক্ষমতায় ফিরে এল।

কড়া নিরাপত্তার মধ্যে বৃহস্পতিবার ভোট নেওয়া হয়। শুক্রবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাছিবউলি ক্যামপাসের অম্বেডকর স্টেডিয়ামে ভোটগণনা হয় এবং রাতের দিকে ফল ঘোষণা কড়া হয়।

ছাত্র সংসদের চারটি গুরুত্বপূর্ণ পদ সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং যুগ্ম সম্পাদক। চারটি পদই দখল করেছে স্টুডেন্টস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (এসএফআই), দলিত স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (ডিএসইউ), অম্বেডকর স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (এএসএ) এবং ট্রাইবালস্‌ স্টুডেন্টস ফোরাম (টিএসএফ)-এর জোট।

গত নির্বাচনে এসএফআই আলাদা ভাবে লড়েছিল। আর আদিবাসী, দলিত, বহুজন এবং মুসলিম সংগঠনগুলি ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স (ইউডিএ) নামে জোট গড়েছিল। ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবিভিপি জিতে আট বছর পর ছাত্র সংসদের ক্ষমতায় আসে।

এ বার এসএফআই জোটে ফিরে আসায় সহজেই জিতল তারা। এবিভিপিও হাত মিলিয়েছিল আদার ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস ফেডারেশন (ওবিসিএফ) এবং নবগঠিত সেবালাল বিদ্যার্থী দলের সঙ্গে। কিন্তু লাভ কিছু হল না।

সভাপতি পদে জয়ী হয়েছেন এসএফআই-এর অভিষেক নন্দন। সহ-সভাপতি হয়েছেন ডিএসইউ-এর এম শ্রীচরণ। এএসএ-র গোপী স্বামী সাধারণ সম্পাদক এবং টিএসএফ-এর রাঠোড় প্রদীপ যুগ্ম সম্পাদক হয়েছেন।

স্পোর্টস সেক্রেটারি পদটি জিতেছেন এসএফআই-এর সোহেল আহমেদ এবং কালচারাল সেক্রেটারি পদটি জিতেছেন এএসএ-র প্রিয়াঙ্কা বদ্রাসেট্টি।

জেন্ডার সেনসিটাইজেশন কমিটি এগেনস্ট সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট (ইন্টারনাল কমপ্লেন্স কমিটি)-এ সামগ্রিক ভাবে ছাত্র প্রতিনিধির পদটি পেয়েছেন ডিএসইউ-এর পুট্টাপাগা সাই শ্রী, পিজি প্রতিনিধির পদটি পেয়েছেন এএসএ-র কালাইবানি জে এবং রিসার্চ স্কলার প্রতিনিধি পদটি পেয়েছেন এসএফআই-এর ইন্দিরা তায়েং।

বেশির ভাগ স্কুল বোর্ড এবং কাউন্সিলর পদগুলো পেয়েছে বাম জোট।

এই জয় সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে এএসএ-র সভাপতি এম ইনিয়াবন এক বিবৃতিতে বলেন, “রোহিত ভেমুলার মৃত্যু নিয়ে ন্যায়বিচারের দাবিতে এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে বিজেপি-শাসিত কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির বিরুদ্ধে ছাত্র সমাজ যে লড়াই চালাচ্ছে, নির্বাচনে এই জনমত তাকেই মান্যতা দিল।”        

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.