বড়ো ধরনের ধাক্কা খেলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। দিল্লি হাইকোর্ট বৃহস্পতিবার জানিয়ে দিল উপ-রাজ্যপালই দিল্লির প্রশাসনিক কর্তা। দিল্লি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং উপ-রাজ্যপাল কেন্দ্রের প্রতিনিধি হিসাবেই কাজ করেন। কেন্দ্রের সঙ্গে দিল্লি সরকারের বিবাদের জেরে উদ্ভূত ন’টি মামলার শুনানি বছর খানেক ধরে চালিয়ে  দিল্লি হাইকোর্ট বৃহস্পতিবার এই রায় দিয়েছে।    

হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জি রোহিণীর নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বলেছে, “সংবিধানের ২৩৯ এবং ২৩৯ এএ অনুচ্ছেদ দু’টির সঙ্গে ‘গভর্নমেন্ট অব ন্যাশনাল ক্যাপিটাল টেরিটোরি অব দিল্লি’ আইনের ধারাগুলি যদি পড়া যায়, তা হলে পরিষ্কার বোঝা যায়, দিল্লি এখনও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলই।”

হাইকোর্ট বলেছে, মন্ত্রীরা  যা সিদ্ধান্ত নেবেন সে সবই উপ-রাজ্যপালকে জানাতে হবে এবং উপ-রাজ্যপাল মন্ত্রীদের পরামর্শমতো চলতে বাধ্য নন। তা ছাড়া কোনও বিষয়ে যদি উপ-রাজ্যপালের সংঘাত বাধে তা মন্ত্রীদের তা কেন্দ্রকে অবশ্যই জানাবেন।

গত বছর অরবিন্দ কেজরিওয়াল কেন্দ্রীয় সরকারের অফিসারদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত শুরু করা থেকেই কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাতের সূত্রপাত। এই বিষয়েও দিল্লি হাইকোর্টের রায় কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে গিয়েছে। এ ছাড়া কেজরিওয়ালের বেশ কিছু ঘোষণা ও নিয়োগ খারিজ করে দিয়েছিলেন দিল্লির উপ-রাজ্যপাল নাজিব জং। এ ক্ষেত্রেও আদালত বলেছে, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে উপ-রাজ্যপাল মন্ত্রিসভার পরামর্শ মানতে বাধ্য নন। আদালত এ-ও বলেছে, দিল্লির প্রধান ক্রিকেট সংস্থার (ডিডিসিএ) বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করানোর কোনও অধিকার নেই কেজরিওয়ালের। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে ডিডিসিএ এক সময় দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি-র নেতৃত্বাধীন ছিল। পাবলিক বাসকে কনট্র্যাক্ট দেওয়া সংক্রান্ত আর একটি ব্যাপারে কেজরিওয়াল সরকার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। আদালত সেটিও খারিজ করে দিয়েছে। সিএনজি ফিটনেস সার্টিফিকেট মঞ্জুর করার বিষয়ে যে বেনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল তা নিয়েও তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল কেজরিওয়াল সরকার। আদালত তা-ও নাকচ করে দিয়েছে।

কেজরিওয়াল এখন ধরমশালায় মেডিটেশন কোর্স নিয়ে ব্যস্ত। তাঁর সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন বলেছেন, তাঁরা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাবেন কারণ, “সংবিধান ব্যাখ্যা করার ক্ষমতা একমাত্র সুপ্রিম কোর্টেরই আছে।”

উপ-রাজ্যপাল নাজিব জং বলেছেন, “এটানাজিব জং-এর জয় আর অরবিন্দ কেজরিওয়ালের পরাজয় নয়। আদালতের রায় হল একটা ব্যাখ্যা যাতে ভুল বিষয়গুলোকে শুধরে ফেলা যায়।”    

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here