Ayodhya
ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত ছবি

ওয়েবডেস্ক: আগামী বছরের লোকসভা ভোটের দিকে তাকিয়ে অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের আওয়াজ তীব্র হয়েছে। তবে অযোধ্যার ওই বিতর্কিত জমির সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের চাহিদা রাজনীতিবিদদের সঙ্গে মোটেই খাপ খাচ্ছে না।

অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার ভয়ঙ্কর স্মৃতি মনে করেই স্থানীয় বাসিন্দা বিজয় সিং থেকে শুরু করে মহম্মদ আজিম নতুন করে আপদ ডেকে নিয়ে আসতে চান না বলেই জানিয়েছেন ইকনোমিক্স টাইমস-এর কাছে।

রামজন্মভূমি হিসাবে তুলে ধরা স্থানটির কাছেই থাকেন বিজয়। তিনি পেশায় একজন চিকিৎসক। নিজেকে ধর্মীয় ভাবে হিন্দু হিসাবে তুলে ধরার পরেও তিনি সংবাদ মাধ্যমের কাছে জানিয়েছেন, দু’টি সম্প্রদায়ের কাছে বিভীষিকা সৃষ্টিকারী এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়। ওই জায়গায় মন্দির-মসজিদ তৈরি করার কোনো প্রয়োজন নেই।

ওই স্থানটিই যে রামজন্মভূমি, সে কথা বিশ্বাস করেন অনেকেই।

৪৮ বছরের ওই চিকিৎসক বলেন, ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর তথাকথিত হিন্দুত্ববাদীদের হাতে সৎকার হয়ে যায় বাবরি মসজিদের। যার জেরে সাম্প্রদায়িক হাঙ্গামা শুরু হয় গোটা দেশ জুড়েই। অযোধ্যার মানুষ সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে উঠে কয়েক যুগ ধরে মিলেমিশে বাস করছে। কিন্তু রাজনীতিকরা সেই শান্তি বিঘ্নিত করছে।

এ কথা বলছেন এমন এক মানুষ, যিনি নিজের চেম্বারের লোহার গেটে হিন্দিতে লিখে রেখেছেন ‘জয় শ্রীরাম’।

বিজয়ের মতো সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার প্রবীণ ত্রিপাঠীও নিজের শৈশবের সেই দু:সহ স্মৃতিকথা ভুলতে পারেন না। যে কারণে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি চান না তিনিও।

৪৬ বছরের মহম্মদ আজিমও ১৯৯২-এর সেই ভয়াবহতার শিকার। তিনি সংবাদ মাধ্যমের কাছে বলেন, হিন্দু ও মুসলমানরা এখানে মিলেমিশেই বাস করে। রাজনীতিকরা নিজেদের ফায়দা তুলতে সেই সুসম্পর্কে চিড় ধরাতে উদ্যত। তা মোটেই হতে দেওয়া যাবে না।

৪৫ বছর বয়স্ক জ্যোতিষী রাম লোচনের স্পষ্ট ভাবেই জানিয়ে দেন, “আমিও চাই রামমন্দির গড়ে উঠুক। কিন্তু অযোধ্যার এই বিতর্কিত জমিতে শিশুদের খেলার মাঠ নির্মাণ করলে সব থেকে ভালো। যতই হোক শিশুদের মধ্যেই তো আছেন শ্রীরাম”।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here