নয়াদিল্লি: ২ মে খুলেছিল এলআইসি আইপিও। বন্ধ হয়েছে ৯ মে। আগামী সপ্তাহে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হবে দেশের বৃহত্তম জীবন বিমা সংস্থার শেয়ার। আইপিও-তে আবেদনকারীদের জন্য শেয়ার বরাদ্দ করবে সংস্থা। এরই মধ্যে এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন দাখিল হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। বৃহস্পতিবার সেই আবেদন খারিজ করে দিল সর্বোচ্চ আদালত।

সমস্যা অর্থ বিল নিয়ে

অংশীদারিত্ব বাজারে ছাড়ার আগে লাইফ ইন্সুরেন্স কর্পোরেশন অ্যাক্ট, ১৯৫৬-র অবশ্যাম্ভাবী সংশোধন করে কেন্দ্র। সংস্থার কাঠামোগত পরিচালনা সম্পর্কিত বিষয়েও পরিবর্তন আনা হয়। অর্থ বিল এনে বাজারে ছাড়া হয়েছে এলআইসির আইপিও। যদিও কর্পোরেশনের মূলধনকে এ ভাবে ‘ইকুইটি ক্যাপিটাল’ হিসেবে ধরা অসাংবিধানিক ও নিয়মবিরুদ্ধ বলে দাবি করে আদালতের দ্বারস্থ হন মামলাকারীরা। তাঁদের আরও অভিযোগ, আর্থিক নীতির যে ধারাগুলি প্রয়োগ করা হচ্ছে তাতেও সংবিধান মানা হয়নি।

তবে এলআইসি আইপিওতে শেয়ার বরাদ্দ স্থগিত করতে অস্বীকার করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আইপিও-তে শেয়ার বরাদ্দ স্থগিত করতে এবং কিছু পলিসি হোল্ডারের আবেদনের উপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকার করেছে সর্বোচ্চ আদালত। বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি পিএস নরসিমার একটি বেঞ্চ এ দিন জানিয়ে দেয়, বাণিজ্যিক বিনিয়োগ এবং আইপিও-র ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী স্থগিত দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত আদালতের। সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দেয়, “আমরা কোনো অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিতে চাই না।”

বেঞ্চের এই সিদ্ধান্তের পরে, পূর্বনির্ধারিত সময়ে এলআইসি আইপিও-তে শেয়ার বরাদ্দ এবং তালিকাভুক্তির পথ পরিষ্কার হয়ে গেল। এই আবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্র এবং এলআইসি-কে নোটিশ জারি করে সুপ্রিম কোর্ট আট সপ্তাহের মধ্যে জবাব চেয়েছে। বেঞ্চ বলেছে, অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ নিয়ে প্রাথমিক ভাবে মামলার সুপ্রতিষ্ঠিত নীতিগুলি দেখতে হবে আদালতকে। যেমন, কোনো অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে কি না ইত্যাদি।

শুনানিতে জোর সওয়াল-জবাব

বুধবার এলআইসির আইপিও-র বিরুদ্ধে একটি আবেদন গ্রহণ করে সুপ্রিম কোর্ট। এটি পলিসি হোল্ডারদের পক্ষে ওই আবেদন দাখিল করে একটি অ-সরকারি সংগঠন। সেটারই শুনানি হয় এ দিন। শুনানি শুরু হলে পলিসি হোল্ডারদের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী শ্যাম দিবান বলেন, সরকার যে ভাবে অর্থ বিল এনে এলআইসি আইপিও আনার পথ তৈরি করেছে, সেটা নিয়ে ভাবা দরকার। তিনি বলেন, “মানুষের অধিকার এলআইসির সঙ্গে যুক্ত। এমতাবস্থায় অর্থ বিলের মাধ্যমে আইপিও আনার পথ তৈরি করা যায় না”।

আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিংও এলআইসি আইপিও-র বিরুদ্ধে যুক্তি দেন। তিনি বলেনে, “তথাকথিত অ-অংশগ্রহণকারী উদ্বৃত্তের নামে পলিসিধারীদের কাছ থেকে ৫২৩ লক্ষ কোটি টাকা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কোম্পানির মালিকানা পরিবর্তন হচ্ছে। তা নতুন হাতে যাচ্ছে। বিক্রি হচ্ছে শেয়ারহোল্ডারদের হাতে। এর থেকে যে অর্থ পাওয়া যাবে তা পলিসি হোল্ডারদের কাছে যাবে না, বরং সমস্ত টাকা ভারত সরকারের বাজেটের ভারসাম্য রক্ষায় ব্যয় হবে”।

তবে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে সওয়াল করে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল বলেন, “এলআইসি আইপিও স্থগিত করা যাবে না। এমন আবেদনের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কোনো নোটিশ দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, নিয়ম দেখুন। বিমা ব্যবসার উদ্বৃত্ত কী ভাবে ব্যবহার করা হয়, সেটাও দেখুন”। জবাবে জয়সিং বলেন, “পলিসি হোল্ডারদের কাছে একটা বিশ্বাসের জায়গায় রয়েছে এলআইসি। পলিসি হোল্ডারদের অধিকারকে এ ভাবে পদদলিত করা যাবে না”।

আইপিও-র চেয়ে তিনগুণ আবেদন

প্রসঙ্গত, এলআইসি-র ৩.৫ শতাংশ অংশীদারিত্ব ছেড়ে বাজার থেকে ২১ হাজার কোটি টাকা তুলতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার। আইপিও-র শেষ দিন ছিল গত সোমবার। সংস্থার শেয়ার কেনার জন্য আবেদন জমা পড়েছে ২.৯৫ গুণ। সে অর্থে এটাই দেশের সর্বকালের সবচেয়ে বড়ো আইপিও। তবে ১৬,২০,৭৮,০৬৭ শেয়ারের আইপিও হওয়া সত্ত্বেও আবেদন জমা পড়েছে ৪৭,৮৩,২৫,৭৬০।

আরও পড়তে পারেন:

১০ জুন রাজ্যসভার ৫৭ আসনে ভোটগ্রহণ, আসন কমতে পারে বিজেপির

জল্পনার অবসান! এয়ার ইন্ডিয়ার সিইও বেছে নিল টাটা

৯ মাসের আগেই কোভিডের বুস্টার ডোজ নেওয়া যাবে, বিদেশ সফরের জন্য নিয়ম শিথিল কেন্দ্রের

আরও জেলা বাড়বে রাজ্যে, ইঙ্গিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

স্বস্তি অভিষেকের! কয়লা পাচার মামলায় কলকাতায় কেন জিজ্ঞাসাবাদ নয়, ইডি-র কাছে জানতে চাইল সুপ্রিম কোর্ট

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন