চেন্নাই: ঘূর্ণিঝড় বর্ধার হাতে তছনছ হওয়ার পর ধীরে ধীরে ছন্দে ফেরার চেষ্টা করছে চেন্নাই। বর্ধা এখন দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়ে অবস্থান করছে দক্ষিণ কর্নাটকে। এর প্রভাবে মঙ্গলবার সকাল থেকে হাল্কা বৃষ্টি শুরু হয়েছে বেঙ্গালুরুতে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্তত দশ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে, যার মধ্যে চেন্নাইয়ে রয়েছেন চার জন, তিরুভাল্লুর আর কাঞ্চিপুরমে দু’জন করে, ভিল্লুপুরম আর নাগাপট্টিনমে এক জন করে। অন্ধ্রপ্রদেশে মৃত্যু হয়েছে দু’জনের। মৃতদের পরিবারপিছু ৪ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী পনিরসেলভাম। তিনি জানিয়েছেন, উত্তর তামিলনাড়ুর উপকূলবর্তী অঞ্চল থেকে প্রায় দশ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

চেন্নাই শহর জুড়ে ঘূর্ণিঝড়ের দাপট স্পষ্ট। গোটা শহরে প্রায় চার হাজার গাছ পড়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব রাস্তাই গাছ পড়ে বন্ধ, বিস্তীর্ণ অংশে বিদ্যুৎ সংযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন। প্রবল বৃষ্টির ফলে বিভিন্ন জায়গায় জল জমে রয়েছে। আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় দেড়শো মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে চেন্নাই শহরে। এক দিন বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার সকাল থেকে অবশ্য বিমান পরিষেবা শুরু হয়েছে চেন্নাই বিমানবন্দরে, যদিও শহরতলির ট্রেন পরিষেবা এখনও বন্ধ রয়েছে। সোমবারের পর মঙ্গলবারও বন্ধ রয়েছে বিভিন্ন স্কুল আর কলেজ। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমাবেদনা জানিয়ে টুইট করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১৪০ কিমি হাওয়ার গতিবেগ নিয়ে সোমবার বিকেল ৩টে নাগাদ চেন্নাইয়ে আছড়ে পড়েছিল বর্ধা। বিকেল পর্যন্ত শহরে তাণ্ডব চালানোর পর ধীরে ধীরে হাওয়ার গতিবেগ কমতে শুরু করে। যদিও প্রায় গভীর রাত পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস, মঙ্গলবার দুপুর থেকেই উন্নতি হবে চেন্নাইয়ের আবহাওয়া। তবে বর্ধা নিম্নচাপে পরিণত হয়ে দক্ষিণ কর্নাটকে অবস্থান করায় মঙ্গলবার সারা দিন বৃষ্টি হবে বেঙ্গালুরু-সহ রাজ্যের দক্ষিণাংশে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here