জালিয়ানওয়ালাবাগ গণহত্যাকাণ্ডের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী ব্রিটিশ মেয়র

অমৃতসর : জালিয়ানওয়ালাবাগ গণহত্যাকাণ্ডের জন্য ব্রিটিশ সরকারের ক্ষমা চাওয়ার সময় এসেছে। ভারত সফরে এসে পঞ্জাবের অমৃতসরে বুধবার এ কথা বললেন লণ্ডনের মেয়র সাদিক খান। এ দিন অমৃতসরে জালিয়ানওয়ালাবাগ কাণ্ডের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন লণ্ডনের মেয়র। তিনি সেখানে ভিজিটর্স বুকে লেখেন, ১৯১৯ সালের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের জন্য তিনি ক্ষমা চাইছেন। ব্রিটিশ সরকারকেও অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে।

এর আগে মঙ্গলবার বেঙ্গালুরুর মেয়র সম্পত রাজের সঙ্গে তিনি একটা যৌথ ঘোষণা করেন। ঘোষণায় বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী বায়ুদূষণ মোকাবিলা করার জন্য হাতে হাত মিলিয়ে নেতৃত্ব দেবে লণ্ডন আর বেঙ্গালুরু। উল্লেখ্য, এই কর্মসূচিতে রয়েছে বিশ্বের মোট ২০টি শহর। সাদিক খান দেখা করেন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির সঙ্গেও। তাঁদের আলোচনার মূল বিষয় ছিল ভারত-লন্ডনের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসাবাণিজ্য আর সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন।

এ দিন অমৃতসরে তিনি লেখেন, এখানে আসা তাঁর কাছে একটা অবিশ্বাস্য ব্যাপার। আর এখানের সেই মর্মান্তিক ঘটনা কখনওই ভোলার নয়। এ দিন তিনি ঐতিহাসিক সেই কুয়ো-ও ঘুরে দেখেন। তা ছাড়া স্বর্ণমন্দির আর তার লঙ্গরখানাও দেখতে যান তিনি।

বলাই বাহুল্য, ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল কর্নেল রেগিনল্ড ডায়ারের নির্দেশে ব্রিটিশ সৈনিকরা দেওয়াল ঘেরা জালিয়ানওয়ালাবাগ উদ্যানে ভারতীয়দের উপর গুলিবর্ষণ করেছিল। নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করা হয়েছিল সমবেত নিরস্ত্র জনগণের উপর। ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল ১০০০ জন ভারতীয়র।

সফরে লন্ডন মেয়র নয়াদিল্লির অক্ষরধাম মন্দিরের গিয়েছিলেন। নয়াদিল্লির বায়ুদূষণের মধ্যেই মহারাজা অগ্রসেন পাবলিক স্কুলের পড়ুয়াদের সঙ্গে দেখা করেন সাদিক।

তিনি বলেন, এই পবিত্র জায়গায় ঘুরতে পেরে তিনি দারুণ আনন্দ অনুভব করছেন।

এ ছাড়াও সফরের অঙ্গ হিসেবেই তিনি ভারত সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, আমলা আর ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সঙ্গে বৈঠক করেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.