jahan-hadiya

নয়াদিল্লি: রাজ্যে তথাকথিত ‘লাভ জিহাদ’ নিয়ে জাতীয় তদন্ত সংস্থাকে (এনআইএ) দিয়ে তদন্ত করানোর কোনো প্রয়োজন নেই। সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা হলফনামায় পরিষ্কার জানিয়ে দিল কেরল সরকার। জোর করে ধর্মান্তর করিয়ে এক হিন্দু মহিলাকে বিয়ে করার যে অভিযোগ উঠেছে সে সম্পর্কে কেরল সরকারের অভিমত এটাই।

উল্লেখ্য, ‘লাভ জিহাদ’ শব্দটি দক্ষিণপন্থী হিন্দু গোষ্ঠীগুলি ব্যবহার করে থাকে। তাঁদের মতে, এটি হল ইসলামি ষড়যন্ত্র। যখন একজন হিন্দু মেয়েকে বিয়ে করে বা ইসলামে ধর্মান্তরিত করা হয়, তখন সেটা হল ‘লাভ জিহাদ’।

আরও পড়ুন: কেরল ‘লাভ জেহাদ’: বিয়ে খারিজ সংক্রান্ত হাইকোর্টের নির্দেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট

শনিবার শীর্ষ আদালতে পেশ করা হলফনামায় রাজ্য সরকার জানিয়ে দিয়েছে, রাজ্য পুলিশ যথেষ্ট দক্ষতার সঙ্গে এই ঘটনার তদন্ত করছে। রাজ্য পুলিশ যতটুকু তদন্ত করেছে, তাতে এই ঘটনায় এমন কোনো অপরাধের কথা জানা যায়নি যাতে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করাতে হবে। সাধারণত বিভিন্ন রাজ্যে সন্ত্রাসমূলক অপরাধের তদন্ত করে ওই সংস্থা।

হোমিওপ্যাথ ডাক্তার অখিলা অশোকান ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে হাদিয়া নাম নিয়ে সুফিন জহাঁ নামে কোল্লমের এক মুসলিম যুবককে বিয়ে করেন। এই ঘটনার পর হইচই শুরু হয়ে যায়। এই বিয়েকে মেনে নেননি অখিলার বাবা। তাঁর মেয়েকে জোর করে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে এই অভিযোগ করে প্রাক্তন সেনাকর্মী কেরল হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। হাদিয়ার বাবা তাঁর আবেদনে বলেছিলেন, তাঁর মেয়েকে সম্ভবত আফগানিস্তানে নিয়ে যাওয়া হবে, যেখানে কেরল থেকে উধাও হয়ে যাওয়া ২১ জন যুবক ইসলামি বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। এদের মধ্যে ছ’ জন ধর্মান্তরিত। গত মে মাসে কেরল হাইকোর্ট হাদিয়া-সুফিনের বিয়ে রদ করে দেয়।

সুফিন জহাঁ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন। এনআইএ সুপ্রিম কোর্টে দাবি করে, দক্ষিণী রাজ্যে ধর্মান্তরকরণের যে ‘ধরন’ চলছে, হাদিয়ার ঘটনাটি তারই একটি অংশ।

শনিবার পিনারাই বিজয়নের সরকার শীর্ষ আদালতে যে হলফনামা পেশ করেছে, তাতে এনআইএ-র এই দাবি নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব সুব্রত বিশ্বাসের তরফে পেশ করা হলফনামায় বলা হয়েছে, “কেরল পুলিশ ঘটনা নিয়ে এ পর্যন্ত যতটুকু তদন্ত করেছে তাতে এমন কোনো ঘটনার কথা জানা যায়নি যা কোনো তফশিলিভুক্ত অপরাধের পর্যায়ে পড়ে এবং ২০০৮-এর জাতীয় তদন্ত সংস্থা আইনের ছ’ নম্বর ধারা অনুসারে কেন্দ্রীয় সরকারকে রিপোর্ট করতে হয়।”

আরও পড়ুন: মুসলিম ছেলেকে বিয়ে করে ধর্মান্তরিত বৌদ্ধ মেয়ে, ‘লাভ জেহাদ’-এর অভিযোগে তপ্ত লাডাক

সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি জে এস খেহরের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ১৬ আগস্ট হাইকোর্টের রায় রদ করতে অস্বীকার করে ঘটনাটি নিয়ে এনআইএ-কে তদন্তের নির্দেশ দেয়। এই ঘটনার তদন্ত হঠাৎ করে এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রাজ্য। বলেছে, রাজ্যের পুলিশ প্রধান ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত করার দায়িত্ব ইতিমধ্যেই পুলিশের অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেলের (অপরাধ) হাতে দিয়েছেন এবং একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন।

তবে নিজেদেরই দেওয়া এনআইএ তদন্ত সংক্রান্ত ১৬ আগস্টের নির্দেশ নিয়ে শীর্ষ আদালত ৩ অক্টোবর প্রশ্ন তুলেছে। প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের আপাতদৃষ্টে মনে হয়েছে, সুফিন ও হাদিয়ার আন্তঃধর্ম বিবাহ রদ করার কোনো অধিকার কেরল হাইকোর্টের নেই। গত কয়েক মাস ধরে হাদিয়ার বাবা যে হাদিয়াকে নিজের হেফাজতে রেখে দিয়েছেন তার আইনি বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ।

প্রধান বিচারপতি এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ৯ অক্টোবর ধার্য করে বলেছেন, “প্রশ্ন হল হাইকোর্ট কি ২২৬ অনুচ্ছেদ বলে কোনো বিবাহ খারিজ করতে পারে? এই ঘটনাটি নিয়ে কি এনআইএ-কে দিয়ে তদন্তের দরকার আছে? আমরা ওই দিন দু’টি বিষয়ের ওপর যুক্তিনিষ্ঠ ও আইনগত বক্তব্য শুনব।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here