প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকা কট্টর আরএসএস প্রচারক এখন মহারাষ্ট্রের হর্তাকর্তাবিধাতা

0
bhagat singh koshyari

ওয়েবডেস্ক: মহারাষ্ট্রে শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে সকলের নজরের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন রাজ্যপাল ভগৎ সিং কোশয়ারি। দু’ দিন আগেও যাঁর নাম অনেকেই জানতেন না, সেই তিনি উঠে এসেছেন সংবাদের শিরোনামে।

কিন্তু কে এই ভগৎ সিং কোশয়ারি?

এই ভগৎ সিং কোশয়ারি সেই সব হতভাগ্য বিজেপি নেতাদের একজন, যাঁরা গত নির্বাচনে বয়সের কারণে প্রার্থী হওয়ার টিকিট পাননি। দল সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যাঁদের বয়স ৭৫ বা তার বেশি হয়ে গিয়েছে, তাঁদের আর প্রার্থী করা হবে না। তার পরিবর্তে অবশ্য তিনি মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল পদটি পুরস্কার পেয়েছেন।

কোশয়ারির জন্ম ১৯৪২-এর ১৭ জুন, অধুনা উত্তরাখণ্ডের বাগেশ্বর জেলায়। আলমোড়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরিজিতে স্নাতকোত্তর কোশয়ারি তাঁর কলেজজীবনেই সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। কলেজে ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনটি মেয়াদের জন্য তিনি কুমায়ুন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজিকিউটিভ কাউন্সিলে প্রতিনিধিত্ব করেন।

আরও পড়ুন: মহারাষ্ট্রে উত্তেজনার মঝেই পশ্চিমবঙ্গের উপনির্বাচনে প্রার্থী দিল শিবসেনা

এর পর উত্তরাখণ্ডের কুমায়ুন অঞ্চলে আরএসএস-এর প্রচারক হিসাবে কাজ শুরু করেন। ইন্দিরা গান্ধীর জমানায় জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে তিনি জেলে যান। প্রায় দু’ বছরের জন্য তাঁর কারাবাস হয়।

আরএসএস-এর প্রচারক হওয়ার আগে তিনি কিছু দিন উত্তরপ্রদেশের রাজ ইন্টার কলেজে অধ্যাপনা করেন। তিনি সাংবাদিকতাও করেছেন। ১৯৭৫-এ ‘পর্বত পীযূষ’ নামে একটি সাপ্তাহিক কাগজ প্রকাশ করতে শুরু করেন। তিনি দু’টি বই লিখেছেন – ‘উত্তরাঞ্চল প্রদেশ কিঁউ?’ এবং ‘উত্তরাঞ্চল সংঘর্ষ এবম সমাধান’।

১৯৯৭-এ তাঁর রাজনৈতিক জীবনে বড়ো ‘ব্রেক’ আসে। উত্তরপ্রদেশ বিধান পরিষদের সদস্য হন। উত্তরাখণ্ড গঠিত হওয়ার পর তিনি নিত্যানন্দ স্বামীর জায়গায় মুখ্যমন্ত্রী হন। তবে বছর খানেক সেই পদে ছিলেন। ২০০২-এর নির্বাচনে বিজেপি পরাস্ত হওয়ার পর তিনি বিরোধী দলের নেতা হন। ২০০৭-এর নির্বাচনে বিজেপি রাজ্যের ক্ষমতায় ফিরে এলে ভাবা হয়েছিল ভগৎ সিং কোশয়ারি মুখ্যমন্ত্রী হবেন। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দল মুখ্যমন্ত্রী করে ভুবন চন্দ্র খান্ডুরিকে।

২০১৪-এর লোকসভা ভোটে কোশয়ারি নৈনিতাল-উধমসিং নগর কেন্দ্র থেকে জিতলেও, পরের নির্বাচনে বয়সের কারণে আর টিকিট পেলেন না।

সব সময়ে প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকা এই কট্টর আরএসএস প্রচারকের (তিনি যে কতটা কট্টর আরএসএস তার প্রমাণ রাজ্যপাল হওয়া সত্ত্বেও তিনি হিন্দুবাদী সংগঠনের ট্রেড মার্ক কালো টুপিটি পরতে ভোলেন না) উপরেই এখন সব প্রচারের আলো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.