শেষ রক্ষা আর হল না। গত চার দিন ধরে না খেয়ে এক প্রকার নিজেকে লুকিয়ে রেখেছিল সে। নিজের আস্তানা থেকে বেরোতে দেখা যায়নি তাকে। অনেকেরই আশঙ্কা ছিল বোধ হয় এ বার আর তাকে বাঁচানো যাবে না। তবে কেউ কেউ আশাবাদী ছিলেন এই ভেবে, যে এর আগেও সে বেশ কয়েক বার এমন ভাবে না খেয়ে কাটিয়েছে। আবার ঠিকও হয়ে গিয়েছে। এ বারও হয়তো তাই হবে। কিন্তু না। সকলের আশায় জল ঢেলে দিয়ে চলে গেল সে। এ যাত্রায় আর বাঁচানো গেল না তাকে।

সে হল রাজস্থানের রণথম্ভোর জাতীয় উদ্যানের রানি ‘মছলি’। ভারতে বাঘ সংরক্ষণের আদর্শ উদাহরণ ‘মছলি’। ন’টি সন্তানের জন্ম দেয় সে। সরিস্কা বাঘশূন্য হয়ে যাওয়ার পর ‘মছলি’র সন্তানদের কাউকে কাউকে ওখানে পাঠিয়ে ওই অভয়ারণ্যকে পুরোনো চেহারায় ফিরিয়ে আনা হয়। ১৯ বছরের ‘মছলি’পৃথিবীর সব চেয়ে বয়স্ক জীবন্ত বাঘিনি হিসাবেও সুপরিচিত।

‘মছলি’ শেষ চার দিন উদ্যানে অসুস্থ অবস্থায় অর্ধ-চেতন অবস্থায় ছিল। শেষ খেয়েছিল চার দিন আগে, ৪ কিলোগ্রাম মাংস। সেই সময় তার চলাফেরাতেও বেশ কষ্ট হচ্ছিল।

সাধারণত বাঘেদের জীবন ১২ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ। বাঘেদের ১৯ বছরের এই লম্বা জীবন মানে মানুষের ১১০ থেকে ১২০ বছর বয়সের সমান।

১৯৯৭ সালে ‘মছলি’-র জন্ম। তার মুখের ওপর একটা চিহ্ন ছিল, যেটা দেখতে অনেকটা মাছের মতো। তাই তার নামকরণ করা হয় ‘মছলি’। কিন্তু বন দফতরের খাতায় তার পরিচয় ছিল টি-১৬ নামে। তার ছবি খুবই বিখ্যাত হয়ে যায়। তাকে দেখার আকর্ষণে প্রতি বছর বহু পর্যটক এই উদ্যানে ভিড় করতেন। ‘মছলি’কে নিয়ে তথ্যচিত্র করার ব্যাপারে অনেকেই উৎসাহিত হন। তাকে নিয়ে করা তথ্যচিত্রগুলির মধ্যে সব থেকে জনপ্রিয় হল ‘টাইগার কুইন’।  ২০১৩ সালে রণথম্ভোর জাতীয় উদ্যানের রানির সম্মানে ডাকটিকিট  চালু করা হয়। রকমারি নামে ডাকা হত ‘মছলি’কে। জলাশয়ের ধারে প্রায় সময়ে সে ঘুরে বেড়াত, তাই তাকে ‘লেডি অফ লেক’ বলা হত।

এক বনকর্মী জানাচ্ছেন, বনের অন্য বাঘিনিরা তাকে তার প্রিয় লেক থেকে সরিয়ে দিয়েছিল। প্রায় এক দশক পরে দু’মাস আগে আশ্চর্যজনক ভাবে সে আবার ওখানে ফিরে আসে। কুমিরের সঙ্গে লড়াইয়ে তার বেশ কয়েকটা দাঁত পড়ে যায়। গুরুতর ভাবে আহতও হয় রানি। গত প্রায় এক মাস ধরে অসুস্থ থাকার পর অবশেষে হার মানল ‘মছলি’।   

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here