ম্যাডাম বলেছিলেন আমাকে প্রচণ্ড মারবেন, ছাদ থেকে ফেলে দেবেন, বললেন জোহরা

0
696

২৬ বছরের পরিচারিকা জোহরা বিবিকে সারা রাত আটকে রাখার অভিযোগে বুধবার নয়ডার মহাগুন মডার্ন হাউসিং সোসাইটিতে লাঠি পাথর নিয়ে হামলা করে ক্ষিপ্ত গ্রামবাসীরা। এই হাউসিং সোসাইটির একাধিক বাড়িতে ঠিকে কাজ করেন জোহরা। তাঁর স্বামী নয়ডা থানায় ওই আবাসনের একটি ফ্ল্যাটের মালিক মিতুল শেঠি আর হারসু শেঠির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন। তরুণীর পরিবারের অভিযোগ, মঙ্গলবার সারা রাত জোহরা বাড়ি ফেরেননি। অন্য দিকে শেঠি দম্পতির দাবি, জোহরা ১০ হাজার টাকা চুরি করেছিলেন। শুধু তা-ই নয়, চুরির কথা তিনি স্বীকারও করেছিলেন। তখন তাঁকে ভয় দেখানো হলে তিনি পালিয়ে যান। পালানোর সময় তিনি তাঁর মোবাইল ফোনটা ফেলে রেখে যান।

আমাকে সত্যি সত্যি উনি মারধর করতে থাকলেন। আমার মোবাইল ফোনটা কেড়ে নিলেন। আমাকে নানা রকম ভয় দেখানো কথা শুনিয়ে ফ্ল্যাটের ভিতরে তালা দিয়ে আটকে দিলেন।

আবাসনের অন্য বাসিন্দারা জানান, জোহরাকে সেখানে আটকে রাখা হয়নি। জোহরা কমপ্লেক্সেই এক জন বয়স্ক মহিলার বাড়িতে কাজ করেন। রাতে সেখানেই ছিলেন। আবাসনের বাসিন্দাদের অভিযোগ, জোহরা বাংলাদেশি। তাই তাঁরা সিদ্ধান্ত করেছেন, বাংলাদেশি পরিচারিকাদের আর তাঁদের আবাসনে কাজ দেওয়া হবে না। এক আবাসিক ডঃ অমিত সচদেবের মতে, “বুধবারের ঘটনার পর সমস্ত আবাসিকই সন্ত্রস্ত হয়ে রয়েছেন। আমরা এখন থেকে কোনো মতেই বাংলাদেশি পরিচারিকাদের আবাসনে ঢুকতে দেব না। ওদের সমস্ত টাকা মিটিয়ে দেব। বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে নতুন পরিচারিকা নেব।”

কিন্তু যাঁকে নিয়ে এত কাণ্ড, তিনি কী বলেন। ‘ন্যাশনাল হেরাল্ড’ পত্রিকার তরফ থেকে জোহরা বিবিকে ধরা হয়েছিল। তাঁর কাছে মঙ্গলবারের ঘটনা সম্পর্কে  জানতে চাওয়া হয়েছিল।

জোহরা বলেন, “ম্যাডাম আমাকে ১১ তারিখ বিকেলে আসতে বলেছিলেন। বলেছিলেন আমার সব পাওনা মিটিয়ে দেবেন। তো আমি গেলাম, কাজও শুরু করলাম। কাপড় কাচলাম, শুকনো কাপড় তুললাম, ঘরদোর মুছলাম, তার পর বাসনপত্তর ধুচ্ছিলাম। হঠাৎ তিনি এলেন, আমাকে হুমকি দিতে থাকলেন। বললেন, আমাকে প্রচণ্ড মারবেন, আমাকে ছাদ থেকে ফেলে দেবেন, ডাস্টবিনে পুরে দেবেন, আরও কত কী। এ সব শুনে আমি ওখান থেকে পালিয়ে আসার চেষ্টা করলাম। তখন আমাকে সত্যি সত্যি উনি মারধর করতে থাকলেন। আমার মোবাইল ফোনটা কেড়ে নিলেন। আমাকে নানা রকম ভয় দেখানো কথা শুনিয়ে ফ্ল্যাটের ভিতরে তালা দিয়ে আটকে দিলেন। হঠাৎ করে বলতে লাগলেন, ‘আমার শতরা হাজার রুপিয়া দেনা আওর চলা যানা’। একটা বন্দির মতো ওই ফ্ল্যাটে আটকে থাকলাম, আমাকে বেরোতে দেওয়া হল না।”

আরও পড়ুন: পরিচারিকাকে আটকে রাখার অভিযোগ, নয়ডার আবাসনে হামলা

আপনাকে কি মারধরও করা হয়েছে?

জোহরা বলেন, “হ্যাঁ, ম্যাডাম আমাকে মেরেছেন। আমার বুকে এত লেগেছে যে আমি ঠিকঠাক তাল রাখতে পারছি না। সব খুঁটিনাটি মনে করতে পারছি না।”

আরও পড়ুন: নয়ডা হামলা: বাংলাদেশি পরিচারিকাদের নিষিদ্ধ করল অভিযুক্ত আবাসন

ফ্ল্যাটে যতক্ষণ আটকে রাখা হল সে সময়ে কি আপনাকে খাবার বা জল দেওয়া হয়েছিল?

জোহরা পরিষ্কার ভাবে মাথা নেড়ে বুঝিয়ে দিলেন, ‘না’।

কী ভাবে ছাড়া পেলেন?

আমার পরিবারের লোকেরা আর প্রতিবেশীরা যখন পরের দিন সকালে গিয়ে প্রতিবাদ জানাতে লাগলেন, তখনই আমাকে ছেড়ে দেওয়া হল। সিকিউরিটি গার্ডরা আমাকে বাইরে নিয়ে এল।”

ছবি: সৌজন্যে ন্যাশনাল হেরাল্ড

 

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here