ওয়েবডেস্ক: মধ্যপ্রদেশ এবং মিজোরাম। বিজেপি এবং কংগ্রেসের কাছে দুটিই গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য। এই দুটিতেই শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। তবে গত কয়েকটি বিধানসভা নির্বাচনের মতো এই নির্বাচনেও ইভিএম খারাপ হওয়ার খবর আসতে শুরু করেছে।

বুধবার সকাল থেকে মধ্যপ্রদেশের ২৩০টি বিধানসভা আসন এবং মিজোরামের ৪০টা আসনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। একদিকে যখন প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার হাওয়া কাটিয়ে মধ্যপ্রদেশ ধরে রাখতে মরিয়া বিজেপি, তখন তাদের লক্ষ্য মিজোরামেও নিজেদের প্রভাব বিস্তার করা। উল্লেখ্য, এই মিজোরামই উত্তরপূর্ব ভারতে বিজেপির কাছে ‘লাস্ট ফ্রন্টিয়ার।’ এই রাজ্যটা জিততে পারলে, পুরো উত্তরপূর্ব ভারত, তাদের দখলে চলে আসবে।

মধ্যপ্রদেশে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইভিএম খারাপের খবর আসছে। শেষ পাওয়া খবরে, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় অন্তত একশোটা ইভিএমের খারাপ হওয়ার খবর এসেছে। ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ ভাবে চললেও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে দু’জন ভোটকর্মীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।

বিভিন্ন জনমত সমীক্ষা জানাচ্ছে মধ্যপ্রদেশে এ বার বিজেপি চাপে। পনেরো বছর পর লড়াই হাড্ডাহাড্ডি হবে বলেই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এই আবহে মানুষের মনে প্রভাব ফেলতে জোরদার প্রচার করেছে কংগ্রেসও। এই পরিপ্রেক্ষিতেই ভোটের আগের দিনই মধ্যপ্রদেশের জনগণের উদ্দেশে খোলা চিঠি লিখলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী।

কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে মানুষকে সুশাসন উপহার দেবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন রাহুল। সেই সঙ্গে মনে করিয়ে দিয়েছেন, গত দশ থেকে পনেরো বছরে কী ধরনের বিতর্কিত কাজ করেছে বিজেপি। কৃষকদের ওপরে গুলি চালনার ঘটনা, মহিলাদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনার কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি ব্যাপম দুর্নীতি এবং বুন্দেলখন্দ দুর্নীতির কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন রাহুল। সেই সঙ্গে রাজ্যে বেকারত্বের হার বেড়ে যাওয়ার কথাও বলেন তিনি।

আরও পড়ুন “সৃষ্টির মতো যেন সৃষ্টিছাড়া কাজ করবেন না”, নতুন জেলা সভাধিপতিকে মমতা

চিঠিতে রাহুল বলেন, “মানুষকে এই প্রতিশ্রুতি আমরা দিচ্ছি যে কৃষি ঋণ আমরা মকুব করব, বিদ্যুতের বিল অর্ধেক করব। মহিলারা ন্যায় বিচার পাবেন, যুবসমাজ চাকরি পাবে এবং আদিবাসী ও গরিবরা তাঁদের অধিকার পাবেন।” রাহুল মনে করে কৃষকদের ঋণ মকুব করলে দেশের অর্থনীতিই আরও সমৃদ্ধ হবে। তিনি বলেন, “কৃষকরা যদি সমৃদ্ধ হন, তা হলে অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।”

স্কুলশিক্ষা থেকে পিএইচডি করা পর্যন্ত সমস্ত কন্যা সন্তানকে কংগ্রেস সরকার সাহায্য করবে বলেও জানিয়েছেন রাহুল। পাশাপাশি, বিবাহযোগ্যা কন্যার পরিবারকে ৫১ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্য করা হবে বলেও জানান তিনি।

এখন দেখার রাহুলের এই আবেদনে সাড়া দিয়ে রাজ্যের মানুষ কংগ্রেসকে ফিরিয়ে আনে কি না।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here