তিন দিন পর মহারাষ্ট্রে দৈনিক সংক্রমণ ছ’হাজারের নীচে, ব্যাপক পতন সংক্রমণের হারেও

0

খবরঅনলাইন ডেস্ক: মহারাষ্ট্র সরকার লকডাউন হুঁশিয়ারি দিলেও তাদের দাবি রাজ্যে নতুন করে সংক্রমণ বাড়ার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, সেটা আদৌ দ্বিতীয় ঢেউ নয়। কিছুদিন মধ্যেই সংক্রমণ কমবে, এমন আশাও করছে তারা। গত ২৪ ঘণ্টায় মহারাষ্ট্রের দৈনিক কোভিড সংক্রমণের যে রিপোর্ট এসেছে, তাতে কিন্তু কিছুটা আশার আলো দেখাই যায়।

টানা তিন দিন ছয় হাজারের ওপরে থাকার পর সোমবার রাজ্যে দৈনিক সংক্রমণ পাঁচ হাজারের ঘরে চলে এসেছে। অন্যদিকে, গত কয়েকদিনের তুলনায় নমুনা পরীক্ষাও অনেক বেশি হয়েছে, এর ফলে সংক্রমণের হারেও ব্যাপক পতন দেখা গিয়েছে।

Shyamsundar

স্বস্তির বিষয় আরও দুটো রয়েছে। প্রথমত, মুম্বই এবং সন্নিহিত অঞ্চলে কোভিডের কারণে কারও মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। আর দ্বিতীয়ত, দৈনিক সুস্থতার সংখ্যাটিও নতুন সংক্রমণের সংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়েছে।

মহারাষ্ট্রের কোভিড-তথ্য

গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৫,২১০ জন। এই সংক্রমণ রেকর্ড করা হয়েছে ৭৩ হাজার ১৫৬টি নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে। অর্থাৎ, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে সংক্রমণের হার ছিল ৭.১২ শতাংশ। গত তিন দিন ধরে এই সংক্রমণের হারটি বাড়তে বাড়তে রবিবার দশ শতাংশের ওপরে উঠে গিয়েছিল। সেটা কমে আসায় কিছুটা স্বস্তি পাওয়া গিয়েছে। তবে সংক্রমণের হারের স্বস্তিটা বহাল থাকে কি না, সেটা মঙ্গলবারের রিপোর্টে দেখা যাবে।

এ দিকে গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে সুস্থ হয়েছেন ৫,০৩৫ জন। রাজ্য জুড়ে মৃত্যু হয়েছে ১৮ জনের। এর মধ্যে মুম্বই মেট্রোপলিটান অঞ্চল, অর্থাৎ মুম্বই-নবী মুম্বই-ঠানে অঞ্চলে কেউ কোভিডে মারা যাননি। মুম্বই শহরে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে পজিটিভ হয়েছেন ৭৬১ জন। এই সংখ্যাটাও গত তিন দিনের মধ্যে সব থেকে কম।

সব মিলিয়ে মহারাষ্ট্রে এখন মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২১ লক্ষ ৬ হাজার ৯৪। এর মধ্যে ৯৪.৯৬ সুস্থতার হার নিয়ে মোট সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৯ লক্ষ ৯৯ হাজার ৯৮২ জন। এখনও পর্যন্ত মারা গিয়েছেন ৫১ হাজার ৮০৬ জন। রাজ্যে মৃত্যুহার ২.৪৬ শতাংশ।

অমরাবতী-নাগপুর চিন্তায় রাখছে

মুম্বই ছাড়া, মহারাষ্ট্রে করোনার এই ঘুরে দাঁড়ানোর কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে বিদর্ভ অঞ্চল। এই অঞ্চলের দুই প্রধান শহর নাগপুর এবং অমরাবতীতে গত ২৪ ঘণ্টায় পজিটিভ হয়েছেন যথাক্রমে ৬৪৩ এবং ৫৫৫ জন। যদিও এই সংখ্যাটা গত তিন-চার দিনের তুলনায় কম।

অমরাবতীর করোনা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে দেখেই সে জেলায় এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণা করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। ওই লকডাউনে আদৌ কোনো কাজ হয় কি না, সেটা দেখা যাবে কিছুদিনের মধ্যেই।

তবে করোনার প্রথম ঢেউয়ের কেন্দ্রবিন্দু পুণেতে দৈনিক সংক্রমণ এখন তুলনামূলক ভাবে কমই। এই শহরে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৩৬ জন। পাড়শি শহর পিম্পড়ি-চিঞ্চাওয়াড়ে ২০৭ জন কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন।

খবরঅনলাইনে আরও পড়তে পারেন

রাজ্যের কোভিড পরিস্থিতি স্থিতিশীল, কলকাতা মৃত্যুহীন

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন