মহারাষ্ট্রে দৈনিক সংক্রমণের হার ৪ শতাংশের নীচে, ১৫ মাসে প্রথম বার

    আরও পড়ুন

    খবরঅনলাইন ডেস্ক: গত বছর মার্চে দেশে করোনার ঢেউ আছড়ে পড়েছিল। তার ১৫ মাস পর ছোটোখাটো একটি মাইলফলক পেরিয়ে গেল মহারাষ্ট্র। গত ১৫ মাসের মধ্যে এই প্রথম বার রাজ্যে দৈনিক করোনা সংক্রমণের হার নেমে এল ৪ শতাংশেরও নীচে।

    সংক্রমণের দাপট কতটা ভয়াবহ রয়েছে, সেটা বোঝার জন্য আমাদের সংক্রমণের হারের দিকে তাকাতে হয়। এ ক্ষেত্রে দৈনিক সংক্রমিতের সংখ্যাটি ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ ব্যাপক ভাবে নমুনা পরীক্ষা হলে এমনিতেও প্রচুর সংক্রমিত মানুষের সন্ধান মিলবে।

    Loading videos...

    সংক্রমণের হারের অর্থ হল প্রতি ১০০টি টেস্টের মধ্যে কত জন পজিটিভ হচ্ছেন। প্রকারান্তরে এটাও ধরে নেওয়া যায় যে আপনার আশেপাশের ১০০ জনের মধ্যে সম্ভাব্য কোভিড সংক্রমিত কত জন রয়েছেন, সেটাও বুঝিয়ে দেবে এই সংক্রমণের হার।

    - Advertisement -

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন বলে সংক্রমণের হার যদি দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ৫ শতাংশ বা তার নীচে থাকে তা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে বলে ধরে নেওয়া হবে। মহারাষ্ট্র কিন্তু সেই গাইডলাইনটি দুর্দান্ত ভাবে পাশ করে গিয়েছে।

    সংক্রমণ অবশ্য বেড়েছে

    মঙ্গলবার মহারাষ্ট্রে নতুন কতে কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৪৭০ জন। সোমবার এই সংখ্যাটাই ছিল ৬ হাজার ২৭০। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে সংক্রমণ এতটা বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই মানুষ চিন্তিত হয়ে পড়েন। কিন্তু আসল তথ্যটা লুকিয়ে ছিল অন্য জায়গায়, যেটা নিয়ে খুব একটা প্রচার করাও হয়নি।

    সোমবার রাজ্যে ১ লক্ষ ৫৪ হাজার মানুষের নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল। মঙ্গলবার সেটা বেড়ে হয় ২ লক্ষ ১৬ হাজার ৮৬১। অর্থাৎ সোমবার রাজ্যে সংক্রমণের হার ছিল ৪.০৪ শতাংশ। কিন্তু মঙ্গলবার সেটা কমে হয়েছে ৩.৯০ শতাংশ।

    শুধু সামগ্রিক ভাবে মহারাষ্ট্রই নয়, মুম্বই শহরেও সংক্রমণের হার ব্যাপক কমেছে। সোমবার শহরে ২৬ হাজার ২৮৬টি টেস্টের বিপরীতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৫২১ জন, কিন্তু মঙ্গলবার শহরে ৩২ হাজার ৩০৭টি নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে আক্রান্ত হন ৫৭০ জন। অর্থাৎ মুম্বইয়ে সোমবার সংক্রমণের হার ছিল ১.৯৮ শতাংশ। মঙ্গলবার সেটা আরও কমে হয়েছে ১.৭৬ শতাংশ।

    সংক্রমণের হার ১৫ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন

    উল্লেখ্য, মহারাষ্ট্রে প্রথম থেকেই সংক্রমণের হার ব্যাপক ভাবে বেশি ছিল। গত বছর মার্চ-এপ্রিলে যখন কোভিডের দাপট বাড়তে থাকে তখনই রাজ্যে সংক্রমণের হার ২০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২০-এর ফেব্রুয়ারি-মার্চে বিদেশ থেকে আসা মানুষদের ওপরে সে ভাবে নজরদারি চালায়নি মহারাষ্ট্র সরকার। সে কারণে এই রাজ্যে করোনার ব্যাপক ভাবে গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়ে যায়।

    সংক্রমণের হারটা মহারাষ্ট্রে সব সময় বেশি থাকত বলে রাজ্যে সামগ্রিক সংক্রমণের হার এখনও বাকি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির থেকে বেশি। গত ১৫ মাসে রাজ্যে ৩ কোটি ৯৮ লক্ষ ৮৬ হাজার ৫৫৪ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে পজিটিভ হয়েছেন ৫৯ লক্ষ ৮৭ হাজার ৫২১। অর্থাৎ রাজ্যে সামগ্রিক সংক্রমণের হার ১৫.০১ শতাংশ।

    ১৫ মাসের মধ্যে এই প্রথম বার রাজ্যে দিনের সংক্রমণের হার ৪ শতাংশে নীচে নামল। তবে মহারাষ্ট্রের যে ধারা চলছে গত বছর থেকে, তাতে এই হারের বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। আর যদি এটা আরও কমে, তা হলে এর থেকে মঙ্গলের আর কিছু হতে পারে না।

    আরও পড়তে পারেন সোমবার ১৭ লক্ষের পর মঙ্গলবার মাত্র ৫ হাজারের টিকাকরণ করল মধ্যপ্রদেশ, সারা দেশের সংখ্যাও ব্যাপক কমল

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

    - Advertisement -

    আপডেট খবর