ওয়েবডেস্ক: শুক্রবার মুম্বইয়ের এলফিনস্টোন রেলস্টেশনের ফুটব্রিজে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে ২২ জনের। রেলের ফুটব্রিজে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা নতুন হলেও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে বা তীর্থস্থানে এমন ঘটনা এ দেশে নিয়মিতই ঘটে থাকে। ২০০৮ সালে রাজস্থানের চামুণ্ডা দেবী মন্দিরে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছিল ২২৪ জন পূণ্যার্থীর। আসুন দেখে নিই গত এক দশকের গুরুত্বপূর্ণ পদপিষ্টের ঘটনাগুলি।

১৫ অক্টোবর, ২০১৬- হিন্দুদের পূণ্য তীর্থ বারাণসীতে একটি ব্রিজে পদপিষ্ট হয়ে মারা যান ২৪ জন। পূণ্যার্থীদের মধ্যে এক ব্যক্তি ভিড়ের মধ্যে পড়ে যান। গুজব ছড়ায় ব্রিজ ভেঙে গেছে। শুরু হয় হুড়োহুড়ি। তার থেকেই ঘটে যায় দুর্ঘটনাটি।

আরও পড়ুন: মুম্বইয়ে রেলস্টেশনের ফুটব্রিজে পদপিষ্ট হয়ে হত ২২

১৪ জুলাই, ২০১৫- অন্ধ্রপ্রদেশের গোদাবরী নদীর তীরে চলছিল হিন্দুদের স্নান উৎসব মহাপুষ্করম। স্নান করছিলেন বহু মানুষ। এর মধ্যে চটি হারিয়ে যাওয়ায়, কয়েকজন পুণ্যার্থী ভিড়ের মধ্যে জলে ডুবে চটি খুঁজতে চান। এ দিকে কাতারে কাতারে মানুষ জলে নেমে পড়েন স্নান করতে। ফলে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় ২৯ জনের। আহত হন ৬০ জন।

১৩ অক্টোবর, ২০১৩- উত্তর মধ্যপ্রদেশের ডাটিয়া জেলায় একটি মন্দিরের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন বহু মানুষ। একটি ব্রিজের ওপর পদপিষ্টের ঘটনাটি ঘটে। মৃত্যু হয় ১১৩ জনের। আহত হন ১০০ জনেরও বেশি। প্রাণে বাঁচতে ব্রিজ থেকে নদীতে ঝাঁপ দেন অনেকে। তাতেও বহু লোকের মৃত্যু হয়। ওই একই জায়গায়, একই ভাবে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছিল ২০০৬ সালে। জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে মধ্যপ্রদেশ পুলিশের ব্যর্থতা আরও একবার সামনে আসে।

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩- উত্তরপ্রদেশের একটি রেল স্টেশনে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় ৩৭ জনের। আহত হন বহু। ভক্তরা কুম্ভমেলা থেকে ফিরছিলেন।

১৯ নভেম্বর, ২০১২- বিহারের পটনায় ছট পূজার সময় একটি সেতুতে পদপিষ্ট হয়ে মারা যান ১৮ জন।

১৪ জানুয়ারি, ২০১১- পৌষ সংক্রান্তির দিন কেরলের সবরিমালায় পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় ১০৪ জনের।

১৬ মে, ২০১০- নয়াদিল্লি রেল স্টেশনে শেষ মুহূর্তে প্ল্যাটফর্ম পালটে দেওয়া হয় দুটি ট্রেনের। যাত্রীরা দ্রুত মালপত্র নিয়ে প্ল্যাটফর্ম পালটানোর চেষ্টা করেন। তখনই মৃত্যু হয় এক মহিলা ও এক শিশুর।

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০০৮- রাজস্থানের যোধপুরে চামুণ্ডা দেবী মন্দিরে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় ২২৪ জন পূণ্যার্থীর।

৩ আগস্ট, ২০০৮- হিমাচল প্রদেশের বিলাসপুরে নয়না দেবী মন্দিরে পাহাড় থেকে ধস নামার গুজব ছড়ায়। হুড়োহুড়িতে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় ১৫০ জনের।

২৫ জানুয়ারি, ২০০৫- মহারাষ্ট্রের সাতারা জেলার মান্ধার দেবী মন্দিরে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় ৩৪০ জনের। ভক্তরা নারকেল ফাটানোয় পিছল হয়ে গেছিল পথ। সেখানে পড়ে যান কয়েক জন। তারপরই ঘটে ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here