mamata modi rahul

নয়াদিল্লি: নীতি আয়োগের বৈঠকে যোগ দিয়ে আগামী লোকসভা নির্বাচনের ঘুটি যে তিনি সাজাবেন, তা আগে থেকেই পরিষ্কার ছিল। কিন্তু বিজেপি-বিরোধী ওই জোট নিয়ে যে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির পাশাপাশি জাতীয় কংগ্রেসকেও এ ভাবে চিন্তায় ফেলে দেবেন, তার আগাম আঁচ পাওয়া যায়নি।

শনিবার দিল্লি পৌঁছে মমতা অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্নাটক বা কেরলের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে নিয়ে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের ধরনা মঞ্চে যাওয়ার উদ্যোগ দেখালেন, তখন কিন্তু সম্পূর্ণ ভাবে এড়িয়ে চললেন কংগ্রেসকে। রবিবারও দেখা গেল, প্ল্যানিং কমিশন নিয়ে কেন্দ্রের বিশেষ পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও প্রতিবাদ জোরালো করলেন মমতা। পাশে সেই তিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীই। যদিও কর্নাটকে কংগ্রেস-জেডি(এস) জোট সরকারের প্রতিনিধিত্ব করছেন কুমারস্বামী। কিন্তু মমতার প্রস্তাবিত ফেডারেল ফ্রন্টে কংগ্রেসের আদৌ কোনো ভূমিকা থাকছে কি না, তা নিয়ে কোনো আলোচনার অবকাশ মেলেনি এই দুই দিনে। উল্টে বাইরে থেকে কেজরিওয়ালের বিরোধিতায় নেমেছেন স্থানীয় কংগ্রেস নেতৃত্ব।

নীতি আয়োগের বৈঠক চলাকালীন মমতা জানান, “আমি কর্নাটক, কেরল ও অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন রাখছি, অবিলম্বে দিল্লির রাজ্য সরকারের দাবি বিবেচনা করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হোক”।

পাশাপাশি অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু দাবি তোলেন, পঞ্চদশ ফিনান্স কমিশনে ২০১১-র আদমশুমারির অন্তর্ভুক্তি হোক। মমতা চন্দ্রবাবুর দাবিকে সমর্থন করে জানান, যে সব রাজ্য সক্রিয়তা দেখিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো রকমের আর্থিক দণ্ড আরোপ করা চলবে না।

সব মিলিয়ে আগামী লোকসভা ভোটে বিজেপি-বিরোধী জোটে মমতা যে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়ে ফেলেছেন, তা নিশ্চিত হলেও এখনও স্পষ্ট নয় কংগ্রেসের গুরুত্ব। অন্য দিকে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলকে শত্রু আখ্যা দিয়ে পৃথক জোট গঠনের পথে পা বাড়িয়ে ফেলেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরীও।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here