tin-talaq

মেঘনগর: নদী দিয়ে জল বহু দূর গড়িয়ে গিয়েছে। কিন্তু তিন তালাকের ব্যমো এখনও সারেনি। এখন আনাচে কানাচে এমন ঘটনা ঘটে চলেছে। আর মুসলিম মহিলাদের তিন তালাকে বলি হতে হচ্ছে যখন তখন। অতি সাম্প্রতিক একটি ঘটনা। মধ্যপ্রদেশের মেঘনগরের সালমা বানো। দৈহিক গঠনে সে মোটা এই অভিযোগে তাকে তিন তালাক দিল তার স্বামী আরিফ হুসেন। এর পর সালমা নিকটবর্তী থানায় অভিযোগ জানায়। তার অভিযোগের ভিত্তিতে আরিফকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

সালমার অভিযোগ, তার স্বামীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক আছে। এক দিন অন্য মহিলার সঙ্গে স্বামীকে ফোনে কথা বলতেও শুনে ফেলে সালমা। তা নিয়ে আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরিফ আর তার মা সালমাকে নানা ভাবে মানসিক ভাবে অত্যাচার করে। সে মোটা বলে খোঁটা দিতে থাকে। এই অজুহাতে আরিফ তাকে তিন তালাক দিয়ে দেয়। সালমা আরও জানায়, এর পর থেকে সে সন্তানদের নিয়ে মায়ের কাছে চলে যায়। কিন্তু আরিফ সেখানে গিয়েও তার ওপর অত্যাচার করে।  সন্তানদের কেড়ে নিতে চায়। সালমা সন্তানদের দিতে অস্বীকার করায় তাকে মারধর করে। শুধু তাই নয় তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়। তার পর সালমা থানায় অভিযোগ জানায়।

পুলিশ আধিকারিক কুশল সিং রাওয়াত বলেন, আরিফকে গ্রেফতার করা হয়েছে ভারিতীয় দণ্ডবিধি ৩২৩ আর ৪৯৮ ধারায়।

প্রসঙ্গত, গত বছরই তিনি তালাককে আইনত নিষিদ্ধ ঘোষণা করে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। একে অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়েছে আদালত। গত মাসে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ একটি অর্ডিন্যান্স জারি করেন। তাতে তিন তালাককে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। কেউ এই কাজ করলে তার তিন বছর পর্যন্ত কারাবাস ও জরিমানা হবে। এবং তার সঙ্গে স্ত্রীর খরচ চালানোর দায়িত্ব নিতে হবে। লোকসভায় ‘মুসমমান মহিলা (বিবাহ সম্পর্কিত ওধিকার সুরক্ষা) বিল’ পাশ হয় ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে। ওই বিলে তিন তালাককে বেআইনি ও অকার্যকর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এখন অপেক্ষা রাজ্যসভায় বিলটি পাশ হওয়ার।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here