উনা (হিমাচলপ্রদেশ): শেষে কিনা নিজের জুতো-মোজার জন্য শ্রীঘরে যেতে হল?

কী এমন ঘটনা ঘটল?

বিহারের বাসিন্দা ২৭ বছরের প্রকাশ কুমার। দিল্লি যাবেন বলে হিমাচলপ্রদেশের কাংড়া জেলার ধর্মশালা থেকে দিল্লিগামী শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ভলভো বাসে উঠে বসেছেন। বাসে ওঠার পরই যত বিপত্তি। সহযাত্রীরা তাঁর উপর বেজায় বিরক্ত। তাঁর জুতোমোজা জোড়া থেকে নাকি বেজায় দুর্গন্ধ ছাড়ছে।

হয় জুতোমোজা ব্যাগে পুরে ফেলো। না হল ওগুলো জানলা দিয়ে বাইরে ফেলে দাও। বাসময় ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধে অতিষ্ট হয়ে সহযাত্রীরা তাঁকে এ কথা বলেই বসলেন।

কিন্তু তা বললে কি হয়? যার জুতো মোজা তার অধিকার তো সব চেয়ে বেশি। ফেলবে কি রাখবে? ব্যাগে পুরবে কি না তা তো সেই মালিকই ঠিক করবে। না কি? প্রকাশের অব্যক্ত মনোভাব এ রকমই।

তাই জুতো-মোজা ফেলে দেওয়া তো দূর। নাড়িয়েও দেখলেন না তিনি।

ব্যাস আর যায় কোথায়। প্রকাশ আর সহযাত্রীদের মধ্যে ঝগড়ার পারদ ক্রমশ চড়তে লাগল।

পরিস্থিতি ঘোলা হচ্ছে দেখে ভলভো বাসের চালক, কনডাকটার দু’ তিনবার তাদের থামানোর চেষ্টা করেন। প্রকাশকে মোজাজোড়া ফেলে দেওয়ার জন্যও বলেন। কিন্তু না। প্রকাশ কথায় কান দেননি।

তখন বাধ্য হয়েই যাত্রীরা বাসচালককে উনা জেলার ভরবাইন থানায় বাস নিয়ে যেতে বলেন। সেখানে প্রকাশের নামে নালিশ জানানো হয়। ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭/৫১ ধারায় পুলিশ তাঁর নামে অভিযোগ দায়ের করে। তাঁকে আটক করে।

পরে অবশ্য প্রকাশ জামিনে ছাড়া পেয়ে যান। সাব-ডিভিশন্যাল ম্যাজিস্ট্রেট তাঁর জামিন করিয়ে দেন।

উনার পুলিশ সুপারিন্টেডন্ট সঞ্জীব গান্ধী বলেন, প্রকাশ কুমার তাঁর সহযাত্রীদের করা অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার হয়েছেন। ‘মানুষের অসুবিধা সৃষ্টি করছে’ এই মর্মে তাঁর নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রকাশ থানাতেও হট্টোগোল জুড়ে দিয়েছিল।

অবশ্য প্রকাশও ছাড়বার পাত্র নন। পরে তিনিও পাল্টা অভিযোগ ঠুকেছেন ওই সহযাত্রীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগে তিনি বলেছেন, তাঁর মোজায় মোটেও কোনো গন্ধ ছিল না। তাও তাঁরা অকারণেই তাঁর সঙ্গে ঝামেলা করেছেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here