১২৮ কোটি টাকার মাসিক বিল পাঠাল বিদ্যুৎ পর্ষদ! মাথায় হাত গরিব গ্রামবাসীর

0

ওয়েবডেস্ক: মাসিক বিদ্যুতের বিলটা হাতে নিয়েই চমকে গিয়েছিলেন শামিম। উত্তরপ্রদেশের হাপুরের চামরি গ্রামে ছোট্ট একটা বাড়িতে স্ত্রীকে নিয়ে থাকেন তিনি। কিছু দিন আগেই বিদ্যুতের বিলটা হাতে নিয়ে তিনি দেখেন, বিদ্যুৎ দফতর থেকে ১২৮ কোটি টাকার বিল পাঠানো হয়েছে তাঁর কাছে। সেই টাকা দিতে না পারায় এখন তাঁর বাড়িতে বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন।

সংবাদসংস্থা এএনআই সূত্রে খবর, ২ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ খরচের জন্য তাঁর কাছে মোট ১২৮,৪৫,৯৫,৪৪৪ টাকার বিল পাঠিয়েছে পর্ষদ। ছাপার ভুলেই যে এই গণ্ডগোলটা হয়েছে সেটা বুঝতে পেরেছিলেন শামিম। তিনি তৎক্ষণাৎ পর্ষদের অফিসে যান। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, কোনো সুরাহা সেখানে তিনি পাননি। তাঁকে অবিলম্বে এই টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিছু দিনের মধ্যেই তাঁর বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় পর্ষদ।

এই প্রসঙ্গেই শামিম বলেন, “কেউ আমাদের সমস্যা, অসুবিধার কথা শোনে না। এই টাকা কী ভাবে দেব! যখন আমাদের সমস্যার কথা বলার জন্য পর্ষদের অফিসে গেলাম, তখন তারা বলল টাকা না দিলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেবে।”

মাসে ৭০০-৮০০ টাকা বিল দেওয়া শামিম বলেন, “পর্ষদ আমার থেকে গোটা হাপুরের বিদ্যুৎ খরচের টাকা আদায় করতে চাইছে।”

আরও পড়ুন বেছে বেছে ভ্রূণহত্যা? গত তিন মাসে উত্তরাখণ্ডের একাধিক গ্রামে জন্মায়নি কোনো শিশুকন্যা!

তবে এই খবরটা জানাজানি হতেই নড়েচড়ে বসেছে বিদ্যুৎ পর্ষদ। ব্যাপারটা যে প্রযুক্তিগত ত্রুটির জন্য হয়েছে সেটা মেনে নিয়েছেন পর্ষদের আধিকারিক রাম শরন। তিনি বলেন, “এটা প্রযুক্তিগত ত্রুটির জন্য হয়েছে। ওঁরা আমাদের কাছে বিলটা নিয়ে আসুক, আমরা ঠিক করে দেব।”

তবে শামিমের দুর্দশা হয়তো মিটে যাবে, কিন্তু মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদে একজনের জীবন যে চলে গেল, তার বেলায় সে রাজ্যের বিদ্যুৎ পর্ষদ কি কোনো দায়িত্ব নেবে? উল্লেখ্য, গত মার্চে ৮.৬৪ লক্ষ টাকার বিদ্যুতের বিল হাতে পেয়ে আত্মহত্যা করেন ঔরঙ্গাবাদের এক সবজি ব্যবসায়ী জগন্নাথ শেলকে। পর্ষদের যুক্তি ছিল, ডেসিমেলের বিন্দু ঠিক জায়গায় বসেনি বলেই এই ঘটনা ঘটে গিয়েছে।

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here