জিতল প্রেম! যৌনকর্মীকে উদ্ধার করে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হতে চলেছেন দিল্লির যুবক

0
1290

নয়াদিল্লি: কথায় বলে স্বামী-স্ত্রী জুটি ঈশ্বরই তৈরি করে দেন। ব্যাপারটা সত্যি কি না কোনো ধারণা নেই। কিন্তু কোনো জাদুবল না হলে ওদের দু’জনের দেখা হত না। সেখান থেকে প্রেমও হত না এবং বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার কোনো প্রশ্নও উঠত না।

কিন্তু সেটা হল। দু’জনের মধ্যে প্রেমও হল। তবে এটা আদৌ কোনো স্বাভাবিক প্রেমের গল্প নয়। মেয়েটির জীবনে ছেলেটি যদি না আসত, তা হলে মেয়েটিকে উদ্ধার করাই যেত না। কারণ সে যে এক যৌনকর্মী।

দু’বছর আগে দিল্লির একটা বাজারে দেখা হয়ে যায় সুভি এবং সাগরের (নাম পরিবর্তিত)। দেখা মাত্রই পরস্পরকে ভালোবেসে ফেলে দু’জন। সিদ্ধান্ত নেয় বিয়ে করার। কিন্তু সুভির তো বিয়ে করার ইচ্ছে থাকলেও, করতে পারবে না। কারণ যৌনকর্মী সুভি যৌনপল্লির ৬৮ নম্বর বাড়িটা থেকে পালাবে কী করে?

এখানে মুশকিল আসান সেই সাগরই। নিয়মিত যৌনপল্লিতে যাতায়াত শুরু করে সাগর। গ্রাহক হিসেবে ঢুকলেও, তাঁর একমাত্র লক্ষ্য ছিল তাঁর প্রেমিকা সুভির সঙ্গে কিছুক্ষণ সময় কাটানোর। দু’বছর ধরে সে রকম চলার পর, সুভি সিদ্ধান্ত নেয় সে ওই যৌনপল্লি থেকে পালাবে। কিন্তু ওই পল্লির মালকিনের কড়া নজরদারিতে পালাতে ব্যর্থ হয় সে।

কিন্তু ততক্ষণে সাগর যা করার করে দিয়েছে। দিল্লির মহিলা কমিশনকে সব কথা জানিয়ে দিয়েছে। সাগরের কথা শুনে বৃহস্পতিবার বিশাল পুলিশবাহিনী যৌনপল্লির ৬৮ নম্বর বাড়িতে তল্লাশি চালায় এবং সুভিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

মহিলা কমিশনের এক আধিকারিক জানান, দু’বছর আগে নেপালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পরে সুভি দিল্লিতে চলে আসে। সাগরের কথায়, “ভূমিকম্পের ফলে ও সব কিছু হারায়। খাবার এবং অর্থের অভাবে ও দিল্লি চলে আসে এবং কেউ ওকে এই যৌনপল্লিতে বিক্রি করে দেয়।”

কী ভাবে তাকে উদ্ধার করা হল?

ওই আধিকারিক বলেন, “কিছু দিন আগে আমরা একজনের ফোন পাই। সে বলে সে যৌনপল্লির একটি মেয়েকে ভালোবেসে ফেলেছে এবং তাকে বিয়ে করতে চায়। এর পর সেই বলে যে মেয়েটি যৌনপল্লির ৬৮ নম্বর বাড়িতে রয়েছে, এবং সেখান থেকে সে বেরিয়ে আসতে চায়।” তিনি আরও বলেন, মেয়েটিকে তার যৌনকর্মীর জীবন নিয়ে কেউ যাতে তার সম্পর্কে কুৎসা না ছড়ায়, সেটা স্থানীয় পুলিশ দেখবে।

সুভিকে পেয়ে দৃশ্যত আনন্দিত সাগর বলে, সে বাড়িতে তার ভালোবাসার কথা জানিয়ে দিয়েছে এবং খুব তাড়াতাড়িই তার ভালোবাসাকে বিয়ে করবে।

দিল্লির গার্স্টিন বাস্টিওন রোড বা জিবি রোড, যৌনপল্লি হিসেবে পরিচিত। ওখানে মোট ৯৩টি বাড়িতে রয়েছে সাড়ে তিন হাজার যৌনকর্মী যাদের মধ্যে ৮০০ জন নাবালিকা। এই যৌনপল্লিটিকে বন্ধ করে দেওয়ার জন্য অনেক দিন ধরেই চেষ্টা করলেন মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন স্বাতী মালিওয়াল। কিন্তু শত চেষ্টা করেও এখনও পর্যন্ত স্বাতীর উদ্দেশ্য সফল হয়নি।

মূলত নেপাল, অসম, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, সিকিম, ঝাড়খণ্ড থেকেই মেয়েরা এই যৌনপল্লিতে আসে। নিজের ইচ্ছেয় নয়, বেশির ভাগই পাচারের শিকার হয়ে এখানে চলে আসে। স্বাতী বলেন, “পাচারকারীদের সঙ্গে এই যৌনপল্লির গভীর চক্র রয়েছে। এই যৌনপল্লি এখনই বন্ধ না হলে আরও অনেক মেয়েরই জীবন বিপন্ন হবে।”

আপাতত একটাই প্রার্থনা, নিজের অতীত ভুলে গিয়ে সাগরের সঙ্গে নতুন করে পথ চলা শুরু করুক সুভি।

 

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here