মঙ্গলসূত্র নিয়ে পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের। সংগৃহীত ছবি

চেন্নাই: বিবাহের মঙ্গলচিহ্ন হিসেবে পরিচিত মঙ্গলসূত্র নিয়ে বড়োসড়ো পর্যবেক্ষণ মাদ্রাজ হাইকোর্টের। একটি বিবাহবিচ্ছেদ মামলায় আদালত বলে, স্ত্রী যদি মঙ্গলসূত্র খুলে ফেলেন, তা হলে সেটা স্বামীর প্রতি চরম নিষ্ঠুরতা।

নিম্ন আদালতে খারিজ হয় আর্জি

বিবাহবিচ্ছেদ চেয়ে নিম্ন আদালতে আবেদন করেছিলেন এক ব্যক্তি। এরোদের মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপক সি শিবকুমার স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ চেয়ে মামলা করেছিলেন। তবে স্থানীয় পারিবারিক আদালতে সেই আর্জি খারিজ হয়ে যায় গত জুন মাসে। এর পরই তিনি মাদ্রাজ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।

মাদ্রাজ হাইকোর্ট বলেছে, আলাদা থাকলেও স্ত্রী যদি ‘থালি’ (মঙ্গলসূত্র) খুলে ফেলেন, তবে তা স্বামীর পক্ষে মানসিক নিষ্ঠুরতার সমান হবে। এই মন্তব্য করে আদালত স্বামীর বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন মঞ্জুর করে।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

হাইকোর্টের বিচারপতি ভিএম ভেলুমনি এবং বিচারপতি এস সোনথারের একটি ডিভিশন বেঞ্চ শিবকুমারের আবেদন মঞ্জুর করার সময় এই পর্যবেক্ষণ করেছে। তবে অধ্যাপকের স্ত্রী আদালতে জানান, পৃথক থাকার সময় তিনি শুধুমাত্র মঙ্গলসূত্রের চেনটি সরিয়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু প্লেটটি তাঁর শরীরেই ছিল।

এ ক্ষেত্রে মহিলার আইনজীবী হিন্দু বিবাহ আইনের ধারা ৭ উল্লেখ করে বলেন, গলায় মঙ্গলসূত্র পরা কোথাও বাধ্যতামূলক বলা নেই। ফলে মঙ্গলসূত্র খুলে ফেলার সঙ্গে গাঁটছড়া ছিন্নের কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে না।

এ ব্যাপারে বেঞ্চ বলে, “একজন মহিলার গলায় থাকা মঙ্গলসূত্র বিবাহিত জীবনের ধারাবাহিকতার প্রতীক। শুধুমাত্র স্বামীর মৃত্যুর পরই তা খুলে ফেলা হয়। কিন্তু এখানে স্ত্রী, তাঁর মঙ্গলসূত্র স্বেচ্ছায় গলা থেকে খুলে ফেলেন। এটা স্বামীর প্রতি চূড়ান্ত নিষ্ঠুরতারই নিদর্শন। যা মামলাকারীর কাছে তীব্র মানসিক যন্ত্রণার কারণ হতে পারে এবং অনুভূতিকে আঘাত করতে পারে”।

প্রমাণ সাপেক্ষে বিচ্ছেদের অনুমতি

বেঞ্চ আরও বলে, “মঙ্গলসূত্র অপসারণ প্রায়শই একটি অমানবিক কাজ হিসাবে বিবেচিত হয়। আদালত এ কথা বলতে পারে না, এক মুহূর্তের জন্য মঙ্গলসূত্র অপসারণের সঙ্গে গাঁটছড়া ছিন্নের জন্য যথেষ্ট। কিন্তু বিভিন্ন প্রমাণ সাপেক্ষে আমরা বিবাহবিচ্ছেদে অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি। বৈবাহিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার অথবা পুনর্মিলনে কোনো ইচ্ছা যে নেই, সেটা রেকর্ড থেকে পাওয়া তথ্যেই স্পষ্ট”।

এ ছাড়াও, বেঞ্চ উল্লেখ করেছে, স্বামীর বিরুদ্ধে মহিলা সহকর্মীদের সঙ্গে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ করেছিলেন স্ত্রী। অধ্যাপকের সহকর্মী, ছাত্রদের উপস্থিতিতে এবং পুলিশের সামনেও এই অভিযোগ করেছিলেন তিনি।

সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের রায়ের রেশ টেনে বিচারপতিরা বলেছেন, স্ত্রী যে স্বামীর চরিত্র নিয়ে সন্দেহ বশে অন্যদের সামনে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের মিথ্যা অভিযোগ করে স্বামীর প্রতি মানসিক নিষ্ঠুরতা দেখিয়েছেন, তা বলতে তাঁদের কোনো দ্বিধা নেই।

আদালত জানায়, “আবেদনকারী এবং তাঁর স্ত্রী গত ২০১১ সাল থেকে পৃথক থাকেন। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে স্ত্রী যে স্বামীর কাছে ফিরে আসার জন্য চেষ্টা করেছেন, রেকর্ডে তারও কোনো প্রমাণ নেই। সবমিলিয়ে মামলার ঘটনা ও পরিস্থিতিতে এবং এ ছাড়াও আমাদের অনুসন্ধানের পরিপ্রেক্ষিতে স্ত্রীর কাজকর্ম স্বামীর প্রতি মানসিক নিষ্ঠুরতা সৃষ্টি করেছে”।

আরও পড়তে পারেন: বেছে বেছে ভ্রমণকেই টার্গেট! বাংলার প্রথম সারির এক দৈনিকের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে পর্যটনমহল

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন