দীর্ঘ এক দশকের টালবাহানা শেষ। অবশেষে ভারত আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সই হল একটি উল্লেখযোগ্য সামরিক চুক্তি। এই চুক্তির ফলে দুই দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা আরও বাড়বে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মনোহর পরিক্কর আর মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব অ্যাশ কার্টারের মধ্যে সই হল ‘লজিস্টিকস এক্সচেঞ্জ মেমোরান্ডাম অফ এগ্রিমেন্ট’ (এলএএমওএ) চুক্তি। একটি যৌথ বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মনোহর পরিক্কর আর মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব অ্যাশ কার্টার বলেন, “কৌশলগত ও আঞ্চলিক সহযোগিতা, সামরিক আদানপ্রদান আর প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিষয়ক সহযোগিতা” বাড়ানোর ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে।

গত কয়েক বছর ধরেই দু’দেশের মধ্যে সামরিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়লেও, এই চুক্তিটির ব্যাপারে ভারতের কিছু আপত্তি ছিল। বহু নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন যে এই চুক্তি হলে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সামরিক চুক্তিবদ্ধ হয়ে যাবে ভারত, তার ফলে রাশিয়া, চিন আর মধ্য-প্রাচ্যের বন্ধুদেশদের হারাতে হতে পারে ভারতকে।

প্রাক্তন প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী পল্লাম রাজু বলেন, “এই চুক্তির ব্যাপারে আমাদের আপত্তি ছিল। কারণ আমরা চাইনি যে অন্য কোনও দেশ, বিশেষত চিন, মনে কুরুক যে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে হাত মিলিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতে চাই”।

২০০৮-এ ভারত-মার্কিন পরমাণবিক চুক্তির পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক আর কৌশলগত সহযোগিতা আরও বেড়েছে। গত তিন বছর ধরে ভারতকে সামরিক সামগ্রী দিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

নতুন চুক্তির মাধ্যমে, ভারত আর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর মধ্যে আরও সহযোগিতা বাড়বে। সামরিক ক্ষেত্রে খাদ্য, জল, তেল, মেরামতের সামগ্রী আর চিকিৎসা পরিষেবা আদানপ্রদান হবে এই চুক্তিটির মধ্যে দিয়ে।

তবে এই চুক্তির ফলে দুই দেশের যৌথ সামরিক অভিযান হওয়ার কথা নস্যাৎ করেন পরিক্কর। এই বিষয়ে মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে একটি বিবৃতিতে জানানো হয়, “এই চুক্তির মধ্যে দিয়ে দুই দেশের কোনও ভাবেই যৌথ ভাবে কোনও সামরিক অভিযানে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। এমনকি এক দেশ অন্য দেশের মাটিতে সামরিক ঘাঁটি তৈরি করতে পারবে না।”

বিবৃতিতে আরও জানানো হয় যে শুধুমাত্র যৌথ প্রশিক্ষণ, বিপর্যয় মোকাবিলা আর মানবিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেই এই চুক্তি কার্যকর হবে।          

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here