Connect with us

দেশ

বিক্ষোভ আটকাতে কড়া ব্যবস্থা, তিন রাজধানী পরিকল্পনায় অন্ধ্র বিধানসভায় বিশেষ বিল

ওয়েবডেস্ক: আনা হবে রাজধানী স্থানান্তরিত করার বিল। আর সে কারণে অন্ধ্রপ্রদেশে অন্তত ৮০০ বিরোধী নেতাকে গৃহবন্দি করল জগন্মোহন রেড্ডি সরকার। গৃহবন্দিদের মধ্যে অধিকাংশই টিডিপি আর সিপিআইয়ের নেতা।

উল্লেখ্য, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইড়ুর ইচ্ছে ছিল অমরাবতীকে রাজ্যের রাজধানী করার। সে জন্য অমরাবতীর উন্নয়নের খ্যাতে ব্যাপক অর্থবরাদ্দ করা হয়েছিল। শুরু হয়ে গিয়েছিল উন্নয়নের কাজও। কিন্তু চন্দ্রবাবুর সেই পরিকল্পনায় জল ঢেকে দেন জগন।

তিন রাজধানীর পরিকল্পনা নিয়ে আসেন জগন। তাঁর পরিকল্পনায় অমরাবতী হবে আইনবিভাগীয় রাজধানী, অর্থাৎ বিধানসভা হবে অমরাবতীতে। প্রশাসনিক রাজধানী হবে বিশাখাপত্তনমে। অর্থাৎ রাজ্যের মূল প্রশাসনিক ভবনটি থাকবে এই বন্দরশহরে। অন্য দিকে বিচারবিভাগীয় রাজধানী হবে কুর্নুল। অর্থাৎ এই শহরে থাকতে পারে অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্ট।

এই নিয়ে বিল পাশ করানোর জন্য সোমবার রাজ্য বিধানসভায় বিশেষ অধিবেশনের ডাক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সকাল এগারোটা থেকে এই অধিবেশন শুরু হয়ে গিয়েছে। তিন দিন চলবে এই অধিবেশন।

এই অধিবেশনে রাজধানী সংক্রান্ত যে বিল পেশ করা হবে তার বিষয়বস্তু হবে, প্রশাসনিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের জন্য রাজ্যের তিন প্রান্তে তিনটে রাজধানী। সেই সঙ্গে পূর্বতন সরকার অমরাবতীকে রাজধানী করার যে বিল এনেছিল, তার সংশোধনী প্রস্তাবও পেশ করা হবে।

শাসকদল ওয়াইএসআর কংগ্রেসের এই ভূমিকার তীব্র বিরোধিতা করছে বিভিন্ন বিরোধী দল। যদিও তার মধ্যে সব থেকে বেশ সরব টিডিপি আর সিপিআই। তারা সোমবার বিধানসভা অভিযানেরও ডাক দিয়েছে।

সেই অভিযান আটকাতে আর রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিরোধীদের বিক্ষোভ আটকাতে বিরোধী নেতাদের গৃহবন্দি করে জগন্মোহন প্রশাসন। পাশাপাশি অমরাবতী শহর এবং লাগোয়া ২৯টি গ্রাম পুরো পুলিশি ঘেরাটোপে চলে গিয়েছে। কোথাও কোনো বিক্ষোভ দেখলেই তা প্রতিহত করছে পুলিশ।

আরও পড়ুন সিএএ নিয়ে ফের অস্বস্তি বাড়িয়ে দলকে বিশেষ পরামর্শ বিজেপি নেতা চন্দ্র বসুর

যদিও বিরোধিতার মধ্যেই অবিচল জগন্মোহন রেড্ডির সরকার। দলের এক নেতা বলেন, “রাজ্যের ১৩টি জেলা এবং তিনটে অঞ্চলকে আমরা সমান ভাবে গুরুত্ব দিতে চাই। সে কারণেই তিন প্রান্তে তিনটে রাজধানীর প্রস্তাব দিয়েছেন আমাদের মুখ্যমন্ত্রী। চন্দ্রবাবু নাইড়ু শুধুমাত্র রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্যই বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন।”

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে তেলঙ্গানা তৈরি হওয়ার পরেই হায়দরাবাদ হাতছাড়া হয় অন্ধ্রপ্রদেশের। তখন একটি চুক্তিতে বলা হয়েছিল দশ বছর, অর্থাৎ ২০২৪ পর্যন্ত অন্ধ্রের রাজধানী থাকবে হায়দরাবাদই। কিন্তু ২০২৪-এর পর অমরাবতীকে অন্ধ্রের রাজধানী করার তোড়জোড় শুরু করে চন্দ্রবাবু সরকার।

Continue Reading
Advertisement
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

দেশ

দুর্বল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে নিসর্গ আঘাত হানতে পারে মুম্বইয়ে

মুম্বই: সম্ভবত মামুলি ঘূর্ণিঝড় হিসেবেই উপকূল পেরোবে নিসর্গ (Cyclone Nisarga)। ল্যান্ডফলের সময়ে হাওয়ার গতিবেগ খুব বেশি হলে ঘণ্টাপ্রতি ১০০ কিলোমিটারের আশেপাশে থাকতে পারে। কিন্তু তাতেই কার্যত ত্রস্ত হয়ে গিয়েছে মুম্বই-সহ গোটা মহারাষ্ট্র (Maharashtra) উপকূল।

আসলে মহারাষ্ট্র খুব একটা ঘূর্ণিঝড়প্রবণ নয়। ২০০৯ সালে শেষবার একটি ঘূর্ণিঝড় মহারাষ্ট্রে আছড়ে পড়েছিল ঠিকই, কিন্তু সেও মামুলি ঝড় হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি খুব একটা হয়নি। তাই ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে ঠিক ভাবে পরিচিত নয় মহারাষ্ট্রে। ফলে মামুলি ঘূর্ণিঝড় হলেও তা নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে মুম্বইয়ে।

এ বার করোনাভাইরাসের (Coronavirus) কারণে আতঙ্ক অনেকটাই বেশি। সোমবারের হিসেব বলছে মহারাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র মুম্বইয়েই ৪০ হাজার। শহরে অসংখ্য কনটেনমেন্ট জোন। প্রশাসনের আশঙ্কা, ঝড়ের কারণে কোনটেনমেন্ট জোনে নজরদারি কমতে পারে। এর ফলে শহরে করোনা-আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

আবহাওয়া দফতরের থেকে ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথের যে মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে তাতে বলা হয়েছে যে মহারাষ্ট্রের হরিহরেশ্বর (Harihareswar) আর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল দমনের (Daman) মধ্যে দিয়ে ঝড়টি স্থলভাগে ঢুকবে। মুম্বই, ঠানে, পালঘর অঞ্চলগুলি ঝড়ের গতিপথেই পড়েছে।

বুধবার রাতের দিকে এই ঝড় স্থলভাগে ঢুকতে পারে। তবে ঘূর্ণিঝড় উম্পুনের (Cyclone Amphan) সঙ্গে তুলনা করলে নিসর্গ খুবই মামুলি ঝড় তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু এই ঝড়ের সঙ্গেই প্রচুর বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মহারাষ্ট্র আর দক্ষিণ গুজরাত উপকূলে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবিলা করতে রাজ্যে ন’টি দল পাঠিয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)। এর মধ্যে শুধুমাত্র মুম্বইয়েই তিনটে দল রয়েছে। পালঘরে ২টি দল রয়েছে। এ ছাড়া একটি করে দল রয়েছে ঠানে, রায়গড়, রত্নাগিরি, সিন্ধুদুর্গে।”

তবে নিসর্গকে মোকাবিলা করা যে অনেকটাই সহজ হবে, সেটা জানিয়েছেন এনডিআরএফের (NDRF) ডিজি এসএন প্রধান। তিনি বলেন, “নিসর্গতে হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১০০ কিমি থাকতে পারে। এটা মোকাবিলা করা অনেকটাই সহজ। তবুও আমরা ঢিলে দিচ্ছি না। উপকূলে বসবাসকারী মানুষদের নিরাপদে সরাতে শুরু করেছি।”

ঘূর্ণিঝড় উম্পুনের তাণ্ডবে কলকাতা তছনছ হওয়ার পর এ বার মুম্বইয়ের পালা। তবে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, হাওয়ার গতিবেগ কম থাকায় কলকাতার মতো ভয়াবহ অবস্থা মুম্বইয়ের হবে না।

Continue Reading

দেশ

১৮টি রাজ্যসভা আসনে ভোট আগামী ১৯ জুন: নির্বাচন কমিশন

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে রাজ্যসভার ১৮টি আসনে নির্বাচন স্থগিত ছিল।

Parliament

নয়াদিল্লি: দেশের সাতটি রাজ্য থেকে ১৮টি রাজ্যসভা আসনের স্থগিত থাকা ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন।

সোমবার নির্বাচন কমিশন (Election Commission) জানায়, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে রাজ্যসভার (Rajya Sabha) যে ১৮টি আসনে নির্বাচন স্থগিত ছিল, সেগুলিতে আগামী ১৯ জুন ভোটগ্রহণ হবে।

কোন রাজ্যে ক’টি আসন?

অন্ধ্রপ্রদেশ-৪টি

গুজরাত-৪টি

মধ্যপ্রদেশে-৩টি

রাজস্থান-৩টি

ঝাড়খণ্ড- ২টি

মণিপুর-১টি

মেঘালয়-১টি

একই সঙ্গে একটি বিবৃতিতে কমিশন জানায়, ১৯ জুন সন্ধ্যায় ভোটগণনা হবে।

ভোটগ্রহণে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির মুখ্যসচিবকে কোভিড-১৯ (Covid-19) প্রতিরোধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

গত মার্চ মাসে এই আসনগুলিতে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারি (Coronavirus pandemic) এবং লকডাউনের জেরে তা স্থগিত হয়ে যায়।

প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারিতে ১৭টি রাজ্যের ৫৫ আসনে ভোট ঘোষণা করে কমিশন। সেগুলির মধ্যে ১০টি রাজ্যের ৩৭ জন প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

Continue Reading

দেশ

করোনা নিয়ে বিএসএফের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ত্রিপুরায় মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের

আগরতলা: করোনাভাইরাস (Coronavirus) নিয়ে সীমান্তরক্ষীবাহিনী তথা বিএসএফের (BSF) বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব (Biplab Deb)। তাঁর অভিযোগ, বিএসএফ জওয়ান এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা কোয়ারান্টাইন এবং শারীরিক দূরত্ববিধির নিয়ম লঙ্ঘন করায় রাজ্যে করোনা পরিস্থিতি এতটা খারাপ হয়ে গিয়েছে।

উল্লেখ্য, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে ত্রিপুরাকে করোনামুক্ত ঘোষণা করেন বিপ্লব। কারণ তার আগে সনাক্ত হওয়া দুই রোগীই সুস্থ হয়ে ওঠেন। কিন্তু আচমকা পরিস্থিতি অন্য দিকে মোড় নেয়। হুহু করে বাড়তে থাকে করোনা-আক্রান্তের সংখ্যা। ২ মে’র মধ্যে ১৫১ জনের শরীরে করোনা ধরা পড়ে।

এর পর আরও বাড়ে সংক্রমিতের সংখ্যা। বিপ্লব জানান, রাজ্যে বিএসএফের দু’টি ব্যাটিলিয়ন করোনার হটস্পট হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে করোনা না ছড়ালেও বিএসএফের দুই ব্যাটিলিয়নে সংক্রমণ বাড়তে থাকা যে খুব চিন্তার পর্যায়ে চলে যায় সেটা জানান মুখ্যমন্ত্রী।

পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ত্রিপুরায় হাজির হয় কেন্দ্রীয় দল। দলটি করোনার পরিস্থিতির ওপরে একটি রিপোর্ট তৈরি করে বিপ্লবের কাছে পাঠান। বিপ্লব সেটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে পাঠান।

ওই রিপোর্টের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে বিপ্লব সোমবার বলেন, “বিএসএফ জওয়ান এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা যে হেতু ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছেন, তাই তাঁদের কোয়ারান্টাইনে থাকা উচিত ছিল। শারীরিক দূরত্ববিধিও মানা উচিত ছিল।” অর্থাৎ, জওয়ানরা কোয়ারান্টাইনে থাকেননি বলেই প্রকারান্তরে বুঝিয়ে দিয়েছেন বিপ্লব।

এখনও পর্যন্ত ত্রিপুরায় করোনারোগীর সংখ্যা ৩১৩। এর মধ্যে ১৭৩ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন, বাকিরা চিকিৎসাধীন। এখনও পর্যন্ত এ রাজ্যে করোনায় কারও মৃত্যু হয়নি।

Continue Reading

ট্রেন্ড্রিং