goa

ওয়েবডেস্ক: দক্ষিণ তামিলনাড়ু, দক্ষিণ কেরল, লাক্ষাদ্বীপে তাণ্ডব চালিয়ে মুম্বই-সুরাতের দিকে এগোচ্ছে ঘূর্ণিঝড় অক্ষি। যাওয়ার পথে বেশ খানিকটা দুর্বল হলেও সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে মায়ানগরী মুম্বই। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, মঙ্গলবার রাতের মধ্যে সুরাতের কাছাকাছি কোনো অঞ্চল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করবে গভীর নিম্নচাপে দুর্বল হওয়া অক্ষি।

অক্ষির প্রভাবে সোমবার দুপুরের পর থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়েছে মুম্বইয়ে। সাধারণত ডিসেম্বরে বিশেষ বৃষ্টি হয় না শহরে। গোটা মাসে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ মাত্র ৫ মিমি। গত সাত বছরে একবারই ডিসেম্বরে বৃষ্টি হয়েছিল সেখানে। ২০১৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর। সোমবার বিকেল থেকে ভারী বৃষ্টি না হলেও, ডিসেম্বরের বৃষ্টির রেকর্ড কিন্তু মুম্বই ভেঙে দিয়েছে। গড়ে দশ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে শহরে।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, মঙ্গলবারও সারা দিন বৃষ্টি হবে মুম্বই এবং মহারাষ্ট্রের উপকূলবর্তী অঞ্চলে। বিক্ষিপ্ত ভাবে ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। তবে বর্ষার মতো বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। মঙ্গলবার রাতে নিম্নচাপটি স্থলভূমিতে প্রবেশ করে গেলেই আবহাওয়া উন্নতি করতে শুরু করবে। তবে জলোচ্ছ্বাসের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে শহরের সমুদ্রের ধারে বসবাসকারী মানুষের জন্য।

তবে ‘অক্ষি’র জন্য আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মঙ্গলবার মুম্বইয়ের সমস্ত স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে মহারাষ্ট্র সরকার। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী বিনোদ তাওড়ের কথায়, “আগাম সতর্কতা হিসেবে মুম্বই, সিন্ধুদুর্গ, ঠানে, পালঘর এবং রায়গড় জেলায় স্কুল এবং কলেজ বন্ধ থাকবে।”

এ দিকে অক্ষির প্রভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে গোয়ায়। জলোচ্ছ্বাসের প্রভাবে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে সমুদ্রের ধারের শ্যাকগুলি। পর্যটকদের জন্য আমোদ-বিলাসের জন্য বিখ্যাত এই শ্যাক। বসে বসে ঠান্ডা বা গরম পানীয়তে চুমুক দিতে দিতে সমুদ্রের মজা নেন পর্যটকরা।

সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মহারাষ্ট্র লাগোয়া উত্তর গোয়ার পেরনেম সৈকত। এখানে প্রায় ৮০ শতাংশ শ্যাকই সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাসের কবলে পড়েছে। শ্যাক মালিকদের ক্ষোভ, মৎস্যজীবীদের সতর্ক করা হলেও, তাদের কিছু জানানোই হয়নি। পেরনেমের পাশাপাশি আশ্বেম, মেন্দ্রেম, মোরজিম এবং কেরিতেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ভালোই।

শ্যাক মালিকদের সংগঠনের সভাপতি ক্রিজ কারদোসো বলেন, “এখন আমরা শ্যাক মালিকদের সঙ্গে দেখা করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হিসেব করছি। এর পর মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করব।” শ্যাকগুলির ক্ষয়ক্ষতির ফলে গোয়ার পর্যটনেও প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন শ্যাকমালিকরা। সোমবারই এই ব্যাপারে আলোচনা করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মনোহর পররিকরের সঙ্গে দেখা করেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী মনোহর অজগাওকর।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here