নয়াদিল্লি: সমাজকল্যাণ মূলক প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকারের মাথাব্যথা যে ক্রমশই কমছে, তার একটি নজির হল মাতৃত্ব সুবিধা প্রকল্পে কাটছাঁট। এই কাটছাঁট অনুমোদন করেছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। এখন থেকে শুধু প্রথম জাতকের ক্ষেত্রেই ওই সুবিধা পাবেন গর্ভবতী মহিলারা। আগে প্রথম দু’টি জীবিত সন্তানের জন্য ওই সুবিধা পেতেন মায়েরা। মজার কথা হল, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, এই প্রকল্প দেশের প্রতিটি জেলা, প্রতিটি ব্লকে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। কথা রাখলেন না প্রধানমন্ত্রী।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী গর্ভবতী মহিলারা  ৬ হাজার টাকা পাবেন, তিনটি কিস্তিতে।  মহিলারা গর্ভবতী হওয়ার বিষয়টি নথিভুক্ত হলে প্রথম ১ হাজার টাকা দেওয়া হবে। ছ’ মাস পরে দেওয়া হবে ২ হাজার টাকা এবং বাকিটা দেওয়া হবে শিশুর জন্ম নথিভুক্ত হওয়া এবং নবজাতক বা নবজাতিকাকে প্রথম দফার টিকাদানের পর। তবে রাজ্য সরকারসমূহ বা কেন্দ্রীয় সরকার বা যাঁরা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থায় কাজ করেন বা অন্য কোনো আইন বলে এই সুবিধা পেয়ে থাকেন, তাঁরা মাতৃত্ব প্রকল্পের কোনো  সুবিধা পাবেন না। মাতৃত্ব সুবিধা কর্মসূচির উদ্দেশ্য হল মাতৃত্বকালীন মৃত্যুর হার কমানো।

‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর খবর অনুযায়ী, এই প্রকল্পের জন্য যে টাকা বরাদ্দ করা হয়, তার পরিমাণ কেন্দ্র বিপুল ভাবে কমিয়ে দেওয়ায় এই কাটছাঁট করতে হয়েছে। ২০১৩ সালে খাদ্য, ক্রেতা বিষয়ক এবং সরকারি বণ্টন সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটি মাতৃত্ব সুবিধা প্রকল্পটি রূপায়ণ করার জন্য ১৪ হাজার ৫১২ কোটি টাকা বরাদ্দ করার প্রস্তাব দিয়েছিল। রিপোর্টে বলা হয়েছে, “ছ’ মাস ধরে প্রতি মাসে যদি ১ হাজার টাকা করে ২.২৫ কোটি গর্ভবতী মহিলাকে দেওয়া হয়, তা হলে খরচ দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৫১২ কোটি টাকা।” কিন্তু ২০১৭-১৮ সালের বাজেটে ওই প্রকল্প বাবদ কেন্দ্রীয় সরকার বরাদ্দ করেছে মাত্র ২৭০০ কোটি টাকা।

২০১০ সালে থেকে দেশের ৫৬টি জেলায় যে ইন্দিরা গান্ধী মাতৃত্ব সহযোগ যোজনা চালু আছে তাতে ১৯ বছরের বেশি বয়সি প্রতিটি গর্ভবতী মহিলাকে দু’টি সন্তানের জন্য ৬ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই প্রকল্পকে সারা ভারতে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন এবং বলেছিলেন, দেশের প্রতিটি জেলা, প্রতিটি ব্লক ২০১৭-এর ১ জানুয়ারি থেকে এই প্রকল্পের আওতায় আসবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here