fraudster

নিজস্ব প্রতিবেদন: একটি ম্যাট্রমনি সাইটে আপলোড করা প্রোফাইল দেখে একের পর এক বিবাহবিচ্ছিন্না মুসলিম মহিলার সঙ্গে আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগে বেঙ্গালুরুর রচাকোন্ডা পুলিশ গ্রেফতার করল ৩০ বছর বয়সি নবলকিশোর বর্মা ওরফে এমির আজার মালিককে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিশদ প্রমাণ সংগ্রহের পরই তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

শুক্রবার রচকোন্ডার পুলিশ কমিশনার একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, মারওয়াড়ি সম্প্রদায়ের ওই যুবক এক জন ইন্টেরিয়ার ডিজাইনার। তার বাড়ি রাজস্থানের সিকার জেলায়। অভিযোগকারিণী একটি মুসলিম ডিভোর্স ম্যাট্রিমনি সাইটে নিজের প্রোফাইল আপলোড করেন। সেখান থেকেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে নবলকিশোর। নিজেকে একটি ইন্টেরিয়ার ডিজাইনিং সংস্থার সিইও পরিচয় দিয়ে ফোনালাপ শুরু করে অভিযোগকারিণীর সঙ্গে। দিনের পর দিন এ ভাবেই কথার জাদুতে জালে তুলে নেয় তাঁকে। আদায় করে নেয় তাঁর বিশ্বাস। নবলকিশোরের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে অভিযোগকারিণী বেঙ্গালুরুতে অভিযুক্তের ফ্ল্যাটে নিজের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে যান। এমনকি দু’জনের সম্মতিতে সেখানে কিছু ধর্মীয় আচার-আচরণও পালিত হয়।

এই সুযোগের ব্যবহার করে নবলকিশোর। সে বলে তার কিছু টাকার প্রয়োজন। ওই টাকা তাকে ধার হিসাবে দিলে কয়েক দিনের মধ্যেই ফিরিয়ে দেবে। অভিযোগকারিণীর পরিবার কোনো রকম সন্দেহ না করেই অভিযুক্তের হাতে ৯০ হাজার টাকা তুলে দেন। কিন্তু সেই টাকা হাতে পাওয়ার পরেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার পথে হাঁটা শুরু করে নবলকিশোর। অভিযোগকারিণী তাকে ফোন করলেও সে টাকার প্রসঙ্গ এড়াতে থাকে। আবার ফোনে বিরক্ত করতেও শুরু করে।

আরও পড়ুন অন্ধ্রপ্রদেশে ‘নিষিদ্ধ’ হল সিবিআই, এ বার কি একই পথে মমতা?

এর পরই এল বি নগর সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করেন প্রতারণার শিকার হওয়া ওই মহিলা। যেটির কেস নম্বর: ৯৫/২০১৮। এই মামলায় ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪১৭, ৪১৯, ৪২০ এবং সাইবার ক্রাইমের ৬৬ (সি অ্যান্ড ডি) ধারা প্রয়োগ করে তদন্তে নামে পুলিশ।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, মাত্র ১৩ বছর বয়সে ঘর ছেড়ে মুম্বই পালায় নবলকিশোর। সেখানে এটা-ওটা কাজ করে। এর পর সুরাতের চন্দ্রা বর্মা নামে এক মহিলাকে বিয়ে করে ২০০৬ সালে। দুর্ভাগ্যবশত ২০১০ সালে চন্দ্রার মৃত্যু হয়। ২০১১ সালে বেঙ্গালুরু চলে যায়। পরিযায়ী শ্রমিক হিসাবে সেখানকার বিভিন্ন ইন্টেরিয়ার ডিজাইনিং সংস্থায় কাজ করতে থাকে। তার দাবি, ২০১৭ সালে সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে।

এর পর থেকেই সে মুসলিম ডিভোর্স ম্যাট্রিমনি সাইটের মাধ্যমে নিজের জাল ছড়াতে শুরু করে। এমির আজার মালিক নামে সে একে একে জালে তোলে মুম্বই এবং ছত্তীসগঢ়ের দুই মহিলাকে। আর তার পরেই বেঙ্গালুরুর এই অভিযোগকারিণী।

পুলিশ জানিয়েছে, ম্যাট্রিমনি সাইটে প্রোফাইল আপলোড করার পর বিশদ অনুসন্ধানের মাধ্যমেই অজ্ঞাতপরিচয়ের সঙ্গে সম্পর্কস্থাপন এবং আর্থিক বিনিময় করা উচিত।

অভিযোগকারিণী খবরঅনলাইনকে জানান, নবলকিশোরের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয় গত ২১ জুন। এর পর আগস্টে তিনি পরিবারের সদস্য-সহ তাঁর ফ্ল্যাটে যান। তার পর থেকে প্রতারকের পিছনে লেগে থেকেও সুরাহা না হওয়ায় গত ৮ নভেম্বর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তবে অভিযু্ক্তের অতীত যে আরও রহস্যঘন, সে তথ্য সংগ্রহে সক্ষম হয়েছেন তিনি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here