শহর জুড়ে মাংস বিক্রেতাদের ধর্মঘট, মাথায় হাত লখনউবাসীর

0
218

লখনউ: গলৌটি, তুন্ডে, বটি, গালাবতি- এই শব্দগুলোর পর যদি কোনো শহরের নাম বসতে পারে, তার নাম লখনউ। নবাবের শহরের এই সব অতি সুস্বাদু, জনপ্রিয় কাবাব এখন মিলছেই না বাজারে। কারণ, উত্তর প্রদেশের সমস্ত অবৈধ কসাইখানা বন্ধ করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে অনির্দিষ্ট কালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন রাজধানী লখনউ-এর কসাইখানার মালিকরা। নবাবি আদব কায়দা, নবাবি খানার শহরে এখন বন্ধ মাংসের বিক্রি! হোটেল, রেস্তোরাঁর মালিকদেরও মাথায় হাত। এখন তবে উপায়? অগত্যা মাংসের  বিকল্প হিসেবে বাজারে আসছে মাছ। 


তুন্ডে কাবাব, গালাবতি কাবাবের মতো নবাবি পদ তৈরি হয় মোষের মাংস দিয়েই। পসন্দা, নিহারি-ও তাই। মোষের মাংস নিষিদ্ধ হওয়ায় প্রথম বার মুরগি আর খাসির মাংস দিয়ে তৈরি হল এই সব জিভে জল আনা পদ। ফল? এক ধাক্কায় বিক্রি কমেছে আশি শতাংশ।


লখনউ-এর জনসংখ্যার একটা বড়ো অংশ বাঙালি হওয়ায় মাছের চাহিদা এখানে আগেও ছিল। এই পরিস্থিতিতে অবাঙালি আমিষাশীরাও ভিড় করছেন কাইজার বাগের মাছের বাজারে। সব মিলিয়ে লখনউ-এর মাছের বাজারের চেনা ছবিটা বেশ অন্যরকম এখন। নতুন খদ্দেরকে মাছ রান্নার পদ্ধতি শেখাতেও শোনা যাচ্ছে বিক্রেতাদের। দিন কয়েকের মধ্যে বাড়িতে বিয়ে কিংবা ধর্মীয় অনুষ্ঠান আছে এমন অনেকেই পাশের জেলা থেকে ভিড় করছেন কাইজার বাগে। উত্তরপ্রদেশের কিছু জেলাতে মুরগি কিংবা খাসির মাংস পাওয়া গেলেও অনুষ্ঠান বাড়ির প্রয়োজনের তুলনায় পরিমাণে কম হচ্ছে তা। তাই শেষ মুহূর্তে মেনু বদল। সব মিলিয়ে এক লাফে মাছের চাহিদা বাড়ায় দামও উঠছে চড়চড় করে। ৩০ থেকে ৫০% বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে যেকোনো মাছ। বাঙালির জিভে জল আনা ইলিশের দাম গত সপ্তাহেই  ছিল কেজি প্রতি হাজার টাকা। এক লাফে প্রতি কেজি দাম চারশো টাকা বেড়েছে। দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে চিংড়ি (৬০০ থেকে বেড়ে ১২০০ টাকা/কেজি)। রুই-এর দাম বেড়েছে দেড় গুণ। 

বাজারে মাংসের আকাল। তার বদলে অনেকে বেছে নিচ্ছেন ‘ফ্রোজেন’ মাংস।আগে থেকেই যথেষ্ট পরিমাণে সঞ্চয় করে রাখছেন বাড়ির ফ্রিজে। বহু লখনউবাসির মুখ গোমড়া করেছে এই ধর্মঘট। প্রাক নবরাত্রি উদযাপন তো তবে মাঠে মারা যাবে! শহরের বহু নামি দামি রেস্তোরাঁর মেনুতে থাকছেনা কোনো আমিষ পদ।  কেউ কেউ আবার আপাতত কাজ চালাচ্ছেন সঞ্চয় করে রাখা মাংস ব্যবহার করে। তাদের স্বস্তি একটাই, সামনে নবরাত্রি। এই সময় নিরামিষ খান অনেকেই। ব্যবসায়িক ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কম হবে, এইটুকুই আশা। কিন্তু নবরাত্রির পরেও ধর্মঘট চললে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, সেই প্রশ্ন ঘুরছে অনেকের মনেই।

আরও পড়ুন: উত্তরপ্রদেশের কসাইখানা বন্ধ করার নির্দেশ দিলেন আদিত্যনাথ

 সমস্যায় পড়েছেন সেইসব মুসলিম পরিবার, যাদের বাড়িতে চলছে বিয়ের অনুষ্ঠান। মোষ, খাসি, মুরগি কিছুই পাওয়া যাচ্ছেনা শহরে। যদি বা কেটারাররা ব্যবস্থা করছেন আমিষ পদের, সে ক্ষেত্রে দাম নিচ্ছেন আকাশ ছোঁয়া।

তুন্ডে কাবাব, গালাবতি কাবাবের মতো নবাবি পদ তৈরি হয় মোষের মাংস দিয়েই। পসন্দা, নিহারি-ও তাই। মোষের মাংস নিষিদ্ধ হওয়ায় প্রথম বার মুরগি আর খাসির মাংস দিয়ে তৈরি হল এই সব জিভে জল আনা পদ। ফল? এক ধাক্কায় বিক্রি কমেছে আশি শতাংশ।

লখনউ চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ পড়েছে নতুন সমস্যায়। পশুদের খাওয়ানোর জন্য দৈনিক ২৩৫ কেজি মোষের মাংস প্রয়োজন হয়ে তাদের। সেখানে রোজ সরবরাহ হচ্ছে ৮০ কেজি মাংস। বাকিটা পোষানো হচ্ছে মুরগি কিংবা খাসি দিয়ে। তাতে মোটেও খুশি নয় চিড়িয়াখানার সদস্যরা। প্রায়শই খাবার খাচ্ছে না অনেক সদস্যই। তাছাড়া ক্যালোরি কম থাকায় মুরগি, খাসি কোনোটাই তাদের খাদ্যাভ্যাসের জন্য উপযুক্তও নয়। চিন্তায় রয়েছে কর্তৃপক্ষ।

 সৌজন্য: টাইমস অব ইন্ডিয়া

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here