নয়াদিল্লি : ভালো লাগে বলে অষ্টম শ্রেণি থেকেই চিকিৎসাশাস্ত্র নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেছিল সে। সব থেকে প্রিয় বিষয় হৃদরোগের চিকিৎসা। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের পত্র-পত্রিকা কিনে পড়তে অনেক টাকার খরচ। সেই জন্য বাড়ি থেকে এক ঘণ্টারও বেশি দূরে অবস্থিত ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স লাইব্রেরিতে সেই সব পত্রিকা পড়তে যেত। এখন সে দশম শ্রেণিতে। এই বয়সেই আবিষ্কার করে ফেলেছে সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক নির্ণয় করার যন্ত্র। 

কথা হচ্ছে, আকাশ মনোজের। তামিলনাড়ুর হসুরের বাসিন্দা। দশম শ্রেণির ছাত্র। এইটুকু একটা ছেলের হাত ধরে আবিষ্কার হয়ে গেল চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রাণদায়ী একটা যন্ত্র। আকাশের ইচ্ছা, সে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্স থেকে পড়াশোনা করবে।

সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাকের কবলে পড়ে ভারতে প্রতি বছর বহু মানুষ বেঘোরে প্রাণ হারান। এই যন্ত্র আগে থেকেই বলে দিতে পারবে রোগীর এই অ্যাটাকের সম্ভাবনা আছে কিনা। এত দিন যা নির্ণয় করা যেত না। ফলে বিনা চিকিৎসায় চলে যেতে হয়েছে অনেককেই। 

আকাশ মনোজ জানায়, সে দেখেছে মানুষ এই রোগের ভয়ে আতঙ্কে থাকে। সেটাই অন্যতম কারণ এই আবিষ্কারের। তা ছাড়া, তার ঠাকুরদাদার মৃত্যু তাকে এই যন্ত্র আবিষ্কারের দিকে খানিকটা ঠেলে দিয়েছে। ঠাকুরদা ছিলেন উচ্চরক্ত চাপ আর ডায়াবেটিকে আক্রান্ত। তিনি হঠাৎ এক দিন সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাকে প্রাণ হারান। সেই থেকেই আকাশ মনস্থ করে এই রোগের একটা যন্ত্র আবিষ্কার করতে হবে। এগিয়ে যায় লক্ষ্য পূরণের দিকে।

সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক কী ?

চিকিৎসা শাস্ত্র বলছে বুকে ব্যথা, স্বল্প দৈর্ঘ্যের শ্বাস, বাঁ হাতে ব্যথা অনুভব করা এগুলোই হার্ট অ্যাটাক বোঝার রকম ফের। কিন্তু সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে এগুলোর কোনোটাই হয় না। ডায়াবেটিক, অধিক মাত্রায় কোলেস্ট্রেরল, উচ্চ রক্তচাপ এগুলো ধীরে ধীরে সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাকের দিকে মানুষকে ঠেলে দেয়। 

রোগীরা বদহজম, বমি বমি ভাব, পেশীতে ব্যথা, প্রচণ্ড জ্বর এই গুলোর সঙ্গে সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাককে মিলিয়ে ফেলে ভুল করেন।  

সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক হওয়ার পর আবার একটা হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। যার থেকে হার্ট ফেল করার মতো ঘটনাও ঘটে। 

কেবল মাত্র ইকোকার্ডিওগ্রাম, ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাম করেই এই রোগ নির্ণয় করা সম্ভব।

আকাশের আবিষ্কার করা যন্ত্রটি কাজ করবে কী ভাবে ?

আকাশ যে যন্ত্রটি আবিষ্কার করেছে সেটি সিলিকনের একটা পাতের মতো। এটি চামড়ার ওপর লাগাতে হয়। মূলত, কবজি বা কানের পেছনে লাগাতে হয় এটি। এই যন্ত্রটিকে নিয়মিত ব্যবহার করতে হয়। এটি ত্বকের ওপরে ‘পজিটিভ’ বিদ্যুৎ স্পন্দন ছাড়তে থাকে। এই স্পন্দন হৃদয়ে তৈরি হওয়া ‘নেগেটিভ’ প্রোটিনকে আকর্ষণ করবে। হৃদয়ের এই ‘নেগেটিভ’ প্রোটিন নিঃসরণই হল হার্ট অ্যাটাকের সংকেত। এই ‘নেগেটিভ’ প্রোটিনটি হল এফএবিপিথ্রি। এর মাত্রা যদি অতিরিক্ত থাকে তা হলে রোগীকে অবিলম্বে চিকিৎসা করাতে হবে। যে সব রোগীর এই রিস্ক ফ্যাক্টর বেশি তাঁদের দিনে দু’ বার, সকালে আর রাতে শুতে যাওয়ার আগে এই যন্ত্রটি ব্যবহার করতে হবে। 

এই যন্ত্রটি মানুষের ওপর পরীক্ষা করার পর সব কিছু ঠিক থাকলে বাজারে আনা হবে। তার জন্যে বাকি মাত্র দু’ মাস। এর দাম রাখা হবে মাত্র ৯০০ টাকা, যা গ্লুকোমিটারের দামের থেকেও কম। 

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here