Rajsamand shambulal

ওয়েবডেস্ক: রাজসমন্দের গ্রামগুলিতে এখন বেশ কিছু ঘরেই ঝুলছে তালা। হাতে গোনা কয়েক দিন আগে সেখানেই বাস করতেন বাংলা থেকে বিশেষ করে মালদহ থেকে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকরা। কিন্তু এখন আর তাঁরা রাজস্থানে থাকতে চাইছেন না। তার একটাই কারণ আফরাজুল খানের নৃশংস হত্যাকাণ্ড। তাঁদের চোখের সামনে যখনই ভেসে উঠছে আফরাজুলের বীভৎস মৃতদেহটা, তখন আর নিজেদের ঠিক রাখতে পারছেন না তাঁরা। নিরাপত্তাহীনতা আর অনিশ্চয়তার দোলাচলে পড়ে বাংলায় ফেরার পদক্ষেপ নিয়ে ফেলছেন।

ইতিমধ্যেই গোটা রাজস্থান থেকে বিশাল সংখ্যক আতঙ্কিত বাঙালি শ্রমিক বাংলায় ফিরে এসেছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশ্বাস দিয়েছেন, ভিন রাজ্য থেকে পরিযায়ী শ্রমিকরা বাংলায় ফিরে এলে তাঁদের একশো দিনের কাজ দেওয়া হবে। সেই আশাতেই বুক বাঁধছেন তাঁরা। তাঁদের আক্ষেপ, রাজস্থানে তাঁরা এক দশকের বেশি সময় ধরে কাজ করে অর্থ উপার্জন করেছেন। কিন্তু এমন দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়নি আগে। রাজস্থানে যেমন কাজ আছে তেমন টাকাও আছে। কিন্তু আফরাজুলের ঘটনার পর ভবিষ্যতে কার ভাগ্যে কী লেখা রয়েছে, সেই দুর্ভাবনাতেই তাঁরা বাংলায় ফিরে আসছেন।

রাজসমন্দের দোহিন্দা, যে গ্রামে আফরাজুল থাকতেন সেখানকার বেশির ভাগ ঘরই এখন জনমানব শূন্য। যদিও বা কিছু বাসিন্দা আছেন, তাঁরা কাজ ছেড়ে আসতে পারছেন না টাকার জন্যই। কারণ ঠিকাদারের সঙ্গে কাজ সম্পূর্ণ করার চুক্তি থাকায় মাঝ পথে কাজ থামিয়ে দিলে প্রাপ্য টাকা কোনো মতেই পাওয়া যাবে না। তবে তাঁরাও জানিয়েছেন, কাজ শেষ হলেই তাঁরা নিজের গ্রামে ফিরে আসবেন।

প্রশ্ন উঠছে, সবাই যদি এভাবে আচমকা ফিরে আসেন তাহলে তাঁদের কর্মসংস্থানের কী হবে? মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ঠিকই কিন্তু সবার জন্য চটজলদি কাজ জোটানো সহজে হবে তো? এ ব্যাপারে এক শ্রমিক জানিয়েছেন, তিনি রাজস্থানে যাওয়ার আগে বিড়ি বাঁধার কাজ করতেন। ঘরে ফিরে তেমন কোনো কাজ না মিললে ফের বিড়ি বাঁধাতেই মন দেবেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here