kashmir police militants
জঙ্গিদের সঙ্গে চার পুলিশকর্মীর মৃত্যুর পর তাঁদের দেহ নিয়ে যাচ্ছেন কাশ্মীর পুলিশের ডিজি এসপি বৈদ। ছবি: টুইটার(কাশ্মীর পুলিশ)

শ্রীনগর: বৃহস্পতিবার কাশ্মীরের পুলিশকর্মীদের পরিবারের এগারো জনকে অপহরণ করেছিল জঙ্গিরা। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হলেও এই ঘটনায় উপত্যকা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠছে নিরাপত্তাবাহিনীর নীতি নিয়েও।

জঙ্গি নিধনের উদ্দেশ্যে বুধবার সোপিয়ানে একটি অভিযানে গিয়েছিল যৌথ বাহিনী। সেখানে জঙ্গিদের বাড়িতে তল্লাশির সময়ে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। ঘটনাস্থলে চার পুলিশকর্মী নিহত হন। অভিযোগ, ওই ঘটনার পরে জঙ্গিদের ডেরায় হানা দিয়ে তাদের বেশ কিছু আত্মীয়কে তুলে আনে পুলিশ। সেই দলে ছিলেন হিজবুল কম্যান্ডার রিয়াজ নায়কুর বাবা আসাদুল্লা নায়কু। পরের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার পালটা আক্রমণ করে জঙ্গিরা। দক্ষিণ কাশ্মীরের বিভিন্ন জায়গা থেকে পুলিশকর্মীদের বাড়িতে হানা দিয়ে ১১ জন আত্মীয়কে অপহরণ করে তারা। জঙ্গি পরিবারের সদস্যদের মুক্তির দাবিতে ‘চোখের বদলে চোখ’— এই হুমকি দিয়ে পুলিশকে খোলা চ্যালেঞ্জ জানায় রিয়াজ। এ দিকে অপহৃত আত্মীয়দের মুক্তি চেয়ে জঙ্গিদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলেন পুলিশকর্মীদের পরিবারও।

জোড়া চাপে নতি স্বীকার করে শুক্রবার সকালে জঙ্গিদের আত্মীয়দের ছেড়ে দেয় পুলিশ। তার পরেই সন্ধ্যা নাগাদ পুলিশের অপহৃত আত্মীয়দের ছেড়ে দেয় জঙ্গিরাও।

যদিও সেনা, সিআরপিএফের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ রেখেই জঙ্গি অভিযান চালায় পুলিশ, কিন্তু পুলিশকর্মীদের অবস্থা সব থেকে সঙ্গীন কারণ তাঁদের এবং জঙ্গিদের পারিপার্শ্বিক পরিবেশ একই। এক দিকে যখন সেনা বা সিআরপিএফ জঙ্গিরা সুরক্ষিত ক্যাম্পে থাকেন, তখন পুলিশকর্মীদের নিরাপত্তা বলতে কার্যত কিছু নেই। ফলে জঙ্গিদের এই অপহরণ উন্মত্ততার ফলস্বরূপ নিচুতলার পুলিশকর্মীদের মধ্যে খুব স্বাভাবিক ভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

আরও পড়ুন গোয়ালপাড়া ডিটেনশন ক্যাম্পে আমরণ অনশন, অনেকেই অসুস্থ

জঙ্গি দমনে গিয়ে জঙ্গিদের পরিবারকে হেনস্থা করার বিরুদ্ধে মুখ খুলেছে রাজ্য পুলিশেরই একাংশ। মধ্য কাশ্মীরের এসএইচও পদমর্যাদার এক পুলিশ অফিসার বলেন, “আমার কর্মীরা খুব চাপে রয়েছে। পরিবার নিয়ে চিন্তিত তারা। এই ধরনের ঘটনা আমাদের বা জঙ্গিদের দিক থেকে হওয়া উচিত নয়। দু’পক্ষের পরিবার যদি জড়িয়ে পড়ে, তা হলে পরিস্থিতি আর সামলানো যাবে না। আমার অনেক কর্মীই দক্ষিণ কাশ্মীর থেকে সরে যেতে চায়, অনেকে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছে।”

এক পুলিশকর্মীর ভাই বলেন, “পাগলামিটা করছে জঙ্গিরা, কিন্তু পুলিশও বোকার মতো তাদের আত্মীয়দের হেনস্থা করছে। এর বদলা তো ওরা নেবেই।” পুলিশকর্মীদের ওপরে আরও বড়ো দুর্দশা নেমে আসতে পারে, এই কথা ভেবে চিন্তায় পড়ে গিয়েছেন তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। শ্রীনগর নিবাসী শোপিয়ানে কর্মরত এক পুলিশকর্মীর এক আত্মীয়ের কথায়, “আমরা ওকে বাড়িতে নিয়ে আসব। ও অসুস্থ। ও যদি বাড়িতে না ফেরে আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ব।”

এক পুলিশকর্মীর মায়ের কথায়, “কী আর করা যাবে? জীবন, মৃত্যু সব ভগবানের হাতে। ও চাকরি ছেড়ে দিতে রাজি কিন্তু এমনটা করলে পরিবার চালানোর মতো ব্যাঙ্ক ব্যাল্যান্সই তো আমাদের কাছে নেই।”

সব মিলিয়ে পুলিশ-সহ নিরাপত্তাবাহিনীর একটা ভূমিকায় কাশ্মীর পুলিশের মনোবলটাই কার্যত ভেঙে গিয়েছে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন