ওয়েবডেস্ক: দশম এবং দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় পাশ করার ক্ষেত্রে ন্যূনতম নম্বরের পরিমাণ কমাল কাউন্সিল ফর ইন্ডিয়ান স্কুল সার্টিফিকেট এগজামিনেশনস (সিআইএসসিই)। অন্যান্য বোর্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতেই এই সিদ্ধান্ত বোর্ডের। আইএসসি অর্থাৎ দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার ন্যূনতম নম্বর ৪০% থেকে কমিয়ে করা হল ৩৫%। পাশাপাশি আইসিএসই অর্থাৎ দশম শ্রেণির পরীক্ষার ন্যূনতম নম্বর ৩৫% থেকে কমিয়ে ৩৩% করা হয়েছে। এই নিয়ম কার্যকর হবে ২০১৮-‘১৯ পরীক্ষা বর্ষ থেকেই। অর্থাৎ যারা ২০১৯ সালে বোর্ডের পরীক্ষায় বসবে তাদের ক্ষেত্রে এই পাশ নম্বর ধার্য হবে।

সিআইএসসিই-এর প্রধান কার্যনির্বাহী সচিব গ্যারি আর্থন বলেন, ইন্টার বোর্ড ওয়ার্কিং গ্রুপ (আইবিডব্লিউজি) অনেকগুলি বিষয়ে সুপারিশ করেছে। তার মধ্যে একটি হল দেশের সব ক’টি বোর্ডের মধ্যে নম্বরের সামঞ্জস্য রাখার ব্যাপারটা।

বিভিন্ন বোর্ডের খবরাখবর:

১/ সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই)-এ ১০ ও ১২ ক্লাসের পাশ নম্বর ৩৩%। ইন্টারনাল, প্রাকটিক্যাল ও বোর্ডের থিয়োরি মিলিয়ে গোটা পরীক্ষায় ৩৩% নম্বর পেতে হবে।

২/ কাউন্সিল ফর ইন্ডিয়ান স্কুল সার্টিফিকেট এগজামিনেশনস (সিআইএসসিই)-এ ১০ ও ১২ ক্লাসের জন্য ন্যূনতম নম্বরের পরিমাণ যথাক্রমে ৩৩% ও ৩৫%।

৩/ কেরল বোর্ড-এ সেকেন্ডারি স্কুল লিভিং সার্টিফিকেট (এসএসএলসি) অর্থাৎ দশম শ্রেণীর জন্য পাশ নম্বর হয় গ্রেডে। এ ক্ষেত্রে পড়ুয়াদের প্রতি বিষয়ে ৩০% নম্বর পেতে হয়। হায়ার সেকেন্ডারি এগজামিনেশন বা ১২ ক্লাসের জন্য ৩০% নম্বর পেতে হবে। তবে এই ক্লাসের সব ক’টি পরীক্ষাতেই ৩০% নম্বর পাওয়া আবশ্যিক।

৪/ তেলেঙ্গানা বোর্ড (টিএসবিআইই)

তেলেঙ্গানায় বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশন (বিএসই) অর্থাৎ দশম শ্রেণীর  ও বোর্ড অব ইন্টারমিডিয়েট এডুকেশন (বিআইই) অর্থাৎ ১০+২। এই বোর্ডের ন্যুনতম নম্বর ৩৫%।

৫/ গুজরাত বোর্ড (জিএসইবি)

গুজরাত সেকেন্ডারি আর হায়ার সেকেন্ডারি এডুকেশন বোর্ড দশম আর দ্বাদশ শ্রেণীর জন্য পাশ নম্বর ২০১০ সালেই কমিয়ে দিয়েছে। বিষয় পিছু ৩৫% থেকে কমে তা ৩৩% হয়েছে।

৬/ তামিলনাড়ু (টিএন বোর্ড)

তামিলনাড়ুতে দশম আর দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষা হয় ডিরেক্টরেট অব গভর্নমেন্ট এগজামিনেশনস (ডিজিই)-র অধীনে। এখানে ২০০-র মধ্যে ৭০ নম্বর পেলে পাশ হয়। থিয়োরিতে ১৫০-র মধ্যে ৪০ পেতেই হবে। আর প্র্যাকটিকাল পরীক্ষায় ৫০-এর মধ্যে ৩০ নম্বর পেতেই হবে।

৭/ কর্নাটক (কেএসইইবি)

দশম শ্রেণির পরীক্ষা হয় কর্নাটক সেকেন্ডারি এডুকেশন এগজামিনেশন বোর্ড (কেএসইইবি)-এর অধীনে। আর ডিপার্টমেন্ট অব প্রি ইউনিভার্সিটি-র অধীনে প্রি ইউনিভার্সিটি কোর্স (পিইউসি)-র পরীক্ষা হয়। পিইউসি পরীক্ষায় পাশ করতে লাগে ৩৫% নম্বর। ভাষায় লাগে ৭০ নম্বর। আর অন্য বিষয়ে ৩০ নম্বর করে পেতে হয়। পরীক্ষার মোট নম্বর ৬০০। তাতে ২১০ নম্বর পেলে পাশ করা যায় ।

৮/ মধ্যপ্রদেশ (এমপিবিএসই)

মধ্যপ্রদেশ বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশন (এমপিবিএসই) দ্বাদশ শ্রেণি অর্থাৎ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট এগজাম (এইচএসএসসিই)-র আয়োজন করে। এখানে পাশের জন্য ন্যুনতম ৩৩% নম্বর   নম্বর পেতে হবে।

৯/ ওড়িশা

ওড়িশার বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশনের নিয়ম অনুযায়ী পাশ নম্বর ৩০%। তবে ৪৫%-এর কম নম্বরে পাশ করলে থার্ড ডিভিশনে পাশ বলে ধরা হয়।

১০/ মিজোরাম (এমবিএসই)

মিজোরাম বোর্ড অব স্কুল এডুকেশন (এমবিএসই)-র নিয়ম অনুযায়ী দশম শ্রেণিতে পাশের জন্য থিয়োরি আর প্রাকটিক্যাল মিলিয়ে মোট ৩৩% নম্বর পেতে হয়। আবার বিষয় প্রতিও থিয়োরি আর প্রাকটিক্যাল পরীক্ষায় আলাদা ভাবে ৩৩% নম্বর পেতেই হবে।

১১/ পশ্চিমবঙ্গ (ডব্লিউবিসিএইচএসই)

ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট কাউন্সিল অব হায়ার এডুকেশন (ডব্লিউবিসিএইচএসই)-র অধীনে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা হয়। পড়ুয়াদের আবশ্যিক বিষয়ে ৩০% পেতেই হয়। আবশ্যিক বাদে অন্য বিষয় প্রতি ২৫% করে নম্বর পাওয়া জরুরি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here