শ্রীনগরে জামিয়া মসজিদের সামনে গণপিটুনিতে খুন পুলিশ অফিসার

0
434

শ্রীনগর : জম্মু-কাশ্মীরে এক জন ডেপুটি সুপারিন্টেনডেন্ট অব পুলিশকে পিটিয়ে মেরে ফেলল বিক্ষুব্ধ জনতা। শুক্রবার রাত ২টোয় শ্রীনগরের জামিয়া মসজিদের বাইরে ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ডিএসপি-র নাম মহম্মদ আয়ুব পণ্ডিত। মসজিদের বাইরে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ডিএসপি আয়ুব হলেন জামিয়া মসজিদ থেকে সামান্য দূরেই শ্রীনগরের নোয়াপাড়ার বাসিন্দা। তাঁর ওপর যখন হামলা করা হয় সেই সময় মসজিদের ভেতরে শতাধিক মানুষ প্রার্থনা করছিলেন। তাঁর ওপর হামলা করেন প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ মানুষ।

পুলিশ জানিয়েছে, তিনি মসজিদের বাইরে ছবি তুলছিলেন। সেই দেখে সেখানকার লোকেরা খেপে ওঠে। প্রথমে কয়েক জন যুবক তার ওপর হামলা করে। মারতে শুরু করে। তার পর তা বিশাল আকার নেয়। জনতার দল তাঁকে পাথর দিয়ে মারতে শুরু করে। ডিএসপি আয়ুব সম্ভবত নিজেকে বাঁচাতে গুলি চালান, তাও সেটা আক্রমণকারীদের পায়ে। তাতেই আহত হয়েছে তিন জন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঘটনার পরই এলাকার যুবকদের সঙ্গে পুলিশের খণ্ডযুদ্ধ শুরু হয়। এলাকায় অতিরিক্ত সেনা মোতায়ন করা হয়। শহরের সাতটা থানা এলাকায় জনতার চলাফেরার ওপর নজরদারির ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

 

মুখ্যমন্ত্রী মেহেবুবা মুফতি বলেন, এই মৃত্যুর ঘটনা খুবই দুঃখজনক। এই রাজ্যের পুলিশ খুবই সাহসিকতা আর ধৈর্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। অথচ মানুষ তাঁদের বার বার আক্রমণ করছে। ডিএসপি আয়ুব এই এলাকারই বাসিন্দা। তিনি স্থানীয়দের বিশ্বাস করেছিলেন। তিনি তাঁর কর্মীদের উপোস ভেঙে খেতে পাঠিয়েছিলেন। আর নিজে মসজিদ আর মানুষের নিরাপত্তারক্ষার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। আর সেই মানুষই তাঁকে হত্যা করল। এই ঘটনা আর কত দিন চলবে? আর কত দিন দায়িত্ববান পুলিশরা ধৈর্য আর বিশ্বাসের পরীক্ষা দিয়ে যাবেন। এটা আর চলতে পারে না।

ডিএসপি আয়ুবের বোন প্রশ্ন করেছেন, মানুষ কি মসজিদে আসেন খুন করতে? তিনি তো কোনো ইনফর্মার ছিলেন না — তা হলেও কেন হত্যা করা হল? এক জন পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, ঘটনায় প্রাথমিক ভাবে তিন জনকে চিহ্নিত করা গেছে। তার মধ্যে ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সপ্তাহখানেক আগেই অনন্তনাগে সন্ত্রাসবাদীরা স্টেশন হাউস অফিসার ফিরোজ আহমেদ দার-সহ ছ’ জন পুলিশকর্মীকে হত্যা করে।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here