Modi and Xi Jinping at the Hubei Provincial Museum in Wuhan

ওয়েবডেস্ক: দুই দেশের সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে ভারত ও চিন। এ ব্যাপারে একটা ন্যায়সঙ্গত ও পারস্পরিক বোঝাপড়ায় পৌঁছোনোর জন্য দু’ দেশের বিশেষ প্রতিনিধিরা যে চেষ্টা চালাচ্ছেন তা অনুমোদন করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও চিনের প্রেসিডেন্ট ঝি জিনপিং।

শুক্র ও শনিবার দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে কী কথা হল, সে সম্পর্কে সাংবাদিকদের কাছে বিস্তারিত জানাচ্ছিলেন ভারতের বিদেশ সচিব বিজয় গোখেল।

বিতর্কিত ডোকা লা এবং সীমান্ত সমস্যা প্রসঙ্গে বিদেশ সচিব জানান, এ ব্যাপারে তাঁদের প্রতিনিধিরা যে পদক্ষেপ নিয়েছেন তাতে তাঁরা খুশি। তাঁদের মতে, “তাঁরা মনে করেন, এই পদক্ষেপই ন্যায়সঙ্গত এবং যুক্তিযুক্ত। সীমান্ত বরাবর শান্তি রাখা যে অত্যন্ত জরুরি সে বিষয়ে এক মত দুই নেতা। এ ব্যাপারে তাঁরা তাঁদের সেনাবাহিনীকে কৌশলগত নির্দেশ দেবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”

বিদেশ সচিব জানান, চিন সফরে প্রধানমন্ত্রী ছ’টি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। এর মধ্যে চিনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে চার বার একান্তে কথোপকথন হয়েছে। তাঁরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। দুই দেশের সীমান্ত সমস্যা ছাড়াও তাঁরা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য, পর্যটন, সন্ত্রাসবাদ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। তবে দুই দেশের মধ্যে কোনো চুক্তি সই হয়নি বলে বিদেশ সচিব জানান।

সন্ত্রাসবাদ

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং চিনা প্রেসিডেন্ট ঝি জিনপিং, দু’জনেই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কড়া বিরোধিতা প্রকাশ করেছেন বলে বিদেশ সচিব বিজয় গোখেল জানান। তিনি বলেন, “সন্ত্রাসবাদ যে একটা অভিন্ন বিপদ তা স্বীকার করেছেন মোদী ও জিনপিং। যে ভাবে, যে চেহারায় সন্ত্রাসবাদ প্রকাশ হোক না কেন, তাতে যে তাঁদের প্রবল আপত্তি আছে তা তাঁরা ব্যক্ত করেছেন। দুনিয়াজোড়া সন্ত্রাসবাদের তীব্র নিন্দা করেছেন দুই নেতা। সন্ত্রাসবাদ একযোগে ঠেকাতে দুই দেশের দায়বদ্ধতার কথা জানিয়েছেন দুই নেতা।”

আফগানিস্তানে যৌথ প্রকল্প

যে ঘটনায় পাকিস্তান কিছুটা মনমরা হয়ে যেতে পারে, তা হল আফগানিস্তানে একটি যৌথ অর্থনৈতিক প্রকল্প গড়ার ব্যাপারে এক মত হয়েছে ভারত ও চিন। কী ধরনের প্রকল্প গড়া হবে, কী ভাবেই বা হবে, তা দু’ দেশের অফিসারেরা আলোচনা করেভ ঠিক করবেন।

টুইটারে প্রধানমন্ত্রী

চিনা প্রেসিডেন্ট ঝি জিনপিং-এর সঙ্গে শনিবার কী কথা হল, তা তাঁর টুইটারে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি লিখেছেন, জিনপিং-এর সঙ্গে আলোচনার মূল বিষয় ছিল ভারত-চিন সহযোগিতার বিভিন্ন দিক। দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় কড়া, অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার ব্যাপারে আমরা আলোচনা করেছি। অন্যান্য যে বিষয়ে আমাদের কথা হয়েছে তাঁর মধ্যে রয়েছে কৃষি, প্রযুক্তি, শক্তি এবং পর্যটন।”

নৌকাভ্রমণ

শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের লক্ষ্যে একই পথের শরিক ভারত ও চিন। মোদী ও জিনপিং-এর নৌকাভ্রমণ যেন সেই দৃষ্টিভঙ্গির প্রতীক স্বরূপ। শনিবার উহানের ইস্ট লেকে নৌকাভ্রমণ করলেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান।

কী বললেন জিনপিং

দু’ দেশের নধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়ানো উচিত বলে মনে করেন চিনা প্রেসিডেন্ট ঝি জিনপিং। জিনপিং বলেছেন, “দুই দেশই মহান ইতিহাস ও সংস্কৃতির ধারক। এবং দুই দেশের সংস্কৃতির মধ্যে বিপুল সংযোগ আছে। নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়িয়ে প্রাচ্য সভ্যতার পুনর্জাগরণের কাজে সুই দেশ নিজেদের উৎসর্গ করুক।” প্রেসিডেন্টকে উদ্ধৃত করে এ কথা বলেছে চিনা কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র ‘পিপলস্‌ ডেলি’।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here