জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় বিশ্ব জুড়ে গণ-আন্দোলনের ডাক দিলেন মোদী

modi in united nations

রাষ্ট্রপুঞ্জ: জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা করার জন্য আমাদের মধ্যে আচরণগত পরিবর্তন আনতে ‘বিশ্বজোড়া গণ-আন্দোলন’-এর ডাক দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একই সঙ্গে ভারতে অ-জীবাশ্ম জ্বালানির উৎপাদন দ্বিগুণেরও বেশি করার নজিরবিহীন প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি।

সোমবার রাষ্ট্রপুঞ্জে ‘গ্লোবাল ক্লাইমেট সামিট’-এ এই ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: রবিবারের পড়া: বাঁচতে হলে ভাবতে হবে

ভারতে অ-জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৪০০ গিগাওয়াট নির্দিষ্ট করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী। চলতি বছরে স্বাধীনতা দিবসের বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, প্যারিস জলবায়ু চুক্তির প্রতি দায়বদ্ধতার অঙ্গ হিসাবে ভারত ১৭৫ গিগাওয়াট অ-জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদন করবে।

প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ভারত শক্তি ক্ষেত্রে অ-জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার একটু একটু করে বাড়াবে এবং “২০২২ সালের মধ্যে আমরা আমাদের পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার ১৭৫ গিগাওয়াটের বেশি নিয়ে যাব এবং শেষ পর্যন্ত তা ৪০০ গিগাওয়াটে পৌঁছোবে।

মাত্র মাসখানেকের বেশি সময় আগে অ-জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সোমবারের ঘোষণা তার চেয়ে অনেক বেশি ছাপিয়ে গিয়েছে। এবং রবিবার হিউস্টনে আয়োজিত ‘হাওডি মোদী’ অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মঞ্চ ভাগাভাগি করে নেওয়ার পরের দিনই মোদী এই ঘোষণা করলেন। তাঁরা এক সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দিলেন, দু’ দেশের বন্ধুত্ব যে কত গভীর তা বোঝালেন।

কিন্তু ‘জলবায়ু পরিবর্তন’ ইস্যুতে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ আলাদা। প্যারিস চুক্তি থেকে ট্রাম্প সরে এসেছেন ২০১৭-য় এবং তাঁর এই সিদ্ধান্তের জন্য তিনি চিন ও ভারতকে দায়ী করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এই চুক্তি অন্যায্য। কারণ এই চুক্তি থেকে যাদের বেশি উপকার হবে তাদের জন্য গাঁটখরচা হবে আমেরিকার।

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সোমবার বিশ্বনেতাদের এক শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করেন রাষ্ট্রপুঞ্জের সেক্রেটারি জেনারেল আন্তোনিও গুতেরেস। সেই সম্মেলনে বক্তৃতা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের মতো একটা গুরুতর চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা যদি করতে হয় তা হলে আমাদের স্বীকার করতেই হবে এই মুহূর্তে আমরা যা করছি তা যথেষ্ট নয়।”

রাষ্ট্রপুঞ্জে তাঁর প্রথম কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে মোদী বলেন, বিভিন্ন দেশ নিজের মতো করে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে যে লড়াই চালাচ্ছে তা তিনি লক্ষ করছেন। কিন্তু আজ যেটা দরকার তা হল একটা সুসংহত সর্বাঙ্গীণ দৃষ্টিভঙ্গি, যার আওতায় সব কিছু পড়বে, শিক্ষা থেকে মূল্যবোধ, জীবনযাপন থেকে উন্নয়নমূলক দর্শন। ২০১৫ সালে যে প্যারিস চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল তা রূপায়ণে সক্রিয় কাজকারবার আরও বাড়ানোই হল ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন সামিট’-এর লক্ষ্য।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.