modi

ওয়েবডেস্ক: গত ২৮ মে ১০টি বিধানসভা এবং চারটি লোকসভার উপনির্বাচনের ঠিক আগের দিন পরিকল্পিত ভাবে অর্ধসমাপ্ত দিল্লি-মেরঠ হাইওয়ের উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে ওই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপলক্ষ হলে বিজেপির লক্ষ্য যে ছিল অন্য কিছু, তা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন মোদী। তিনি কইরানা লোকসভা থেকে মাত্র মাত্র ঘণ্টা দুয়েকে পথের ব্যবধানে বাগপতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কইরানার ভোটারদের প্রভাবিত করেছিলেন বলে অভিযোগ তুলেছিল বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের কাছে সে অভিযোগ ধোপে টেকেনি। ফলাফল অবশ্য বলছে,  জনতার দরবারে সে অভিযোগের  বিচার হয়েছে বেশ চমকপ্রদ ভাবেই।

উত্তরপ্রদেশের কইরানা লোকসভার উপনির্বাচন প্রথম থেকেই প্রচারের আলোকবৃত্তে ঠাঁই করে নিয়েছে। এক দিকে যখন রাজ্যের য়োগী-সরকারের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে বিজেপি নিজের আসন ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছে, তখন অন্য দিকে আরএলডি, বিএসপি,এসপি, কংগ্রেস-সহ প্রভাবশালী নির্দলরা একজোট হয়ে অভিনব অঙ্কে বিজেপির সঙ্গে সমানে টক্কর দিয়েছে। তার উপর ছিল আগামী ২০১৯ লোকসভা ভোটের আগে বিজেপি-বিরোধী জোটের কাছে অ্যাসিড টেস্টের বিষয়টিও। বিজেপি-বিরোধী জোট আগামী লোকসভায় কতটা সাফল্য পেতে পারে তার একটা ইঙ্গিত কইরানা থেকেই দিয়ে রাখলেন অখিলেশ যাদব, মায়াবতী অ্থবা অজিত সিংহরা।

কিন্তু বিজেপির এই হারের মূল কারণ কী? বিজেপি যখন দেশের ২০টি রাজ্যে শাসন ক্ষমতা দখল করে বাকি রাজ্যগুলিতেও নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে, তখন জেতা আসনই কেন তাদের হাতছাড়া হল?

উত্তরে উঠে আসছে বহুবিধ যুক্তি। তবে এ সবের বাইরে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর টি টুয়েন্টির ঢঙে ম্যাচ জেতার প্রবণতা। তিনি বা তাঁর সতীর্থ যোগী আদিত্যনাথের রাজ্য সরকার ভুলিয়ে গিয়েছিল, কইরানার আখ চাষিরা সরকারি সহায়তা পাচ্ছেন না। আখের সঠিক মূল্যও জুটছে না তাঁদের। আচমকা ভোটের ১২ ঘণ্টা আগে মোদী বাগপতে সভা থেকে আখ চাষিদের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেই সমস্যার গোড়ায় জল সিঞ্চন করলেন। চাষিরা বিশ্বাস করল বিরোধীদের কথাই। বিরোধীরা বলত, বিজেপি সরকার চাষিদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করছে। মানুষ কানে তুলেছে অথবা তোলেনি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী যখন বলেন, তিনি আখ চাষিদের পাশে দাঁড়াবেন তখন চাষিদের কাছে পরিষ্কার হয়ে যায়, এত দিন তা হলে সরকার তাঁদের পাশে ছিল না। আদতে হয়তো ভোটের ময়দান আর ক্রিকেটের মাঠ এক নয়। তবে দু’জায়গাতেই যে ক্লিন বোল্ড হওয়া যায়, তা কইরানার ভোটাররা বুঝিয়ে দিলেন ‘বিশ্বের সব থেকে পরিশ্রমী প্রধানমন্ত্রী’কে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here