আমদাবাদ: ১৯৬১ সালের ৫ এপ্রিল গুজরাতে সর্দার সরোবর বাঁধের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন দেশের প্রথম প্রাধনমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু। ৫৬ বছর পর বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ হয়ে গেলে তার উদ্বোধন করলেন দেশের ১৪তম প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নিজের ৬৭তম জন্মদিনে। বাঁধের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়া উপলক্ষ্যে ১৫দিন ব্যাপী নর্মদা উৎসবে সূচনা করল গুজরাত সরকার।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ডকাউলি বাঁধের পরই রয়েছে ভারতের সর্দার সরোবর বাঁধ। ১.২কিমি দীর্ঘ এই বাঁধের গভীরতা ১৬৩ মিটার। বাঁধের প্রতিটি গেটের ওজন ৪৫০টন। এই বাঁধের ৩০টি গেট খুলে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে নানা বির্তক রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই বাঁধের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে সমাজকর্মী মেধা পটকরের নেতৃত্বে নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন। পরিবশের ক্ষতি এবং পুনর্বাসনের দাবি নিয়ে সুপ্রিমকোর্টে যায় সংগঠন। ১৯৯৬ সালে এই বাঁধ নির্মাণের উপর স্থগিতাদেশ দেয় শীর্ষ আদালত।

২০০০ সালে বাঁধের উচ্চতা কিছুটা বাড়িয়ে এবং প্রকল্পের ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিয়ে এই বাঁধ নির্মাণের অনুমতি দেয় আদালত।

বাঁধের দৈর্ঘ্য ১২১.৯২ মিটার থেকে বাড়িয়ে ১৩৮ মিটার করা হয়। বাঁধের ধারণ ক্ষমতা ৪.৭৩ মিলিয়ন কিউবেক মিটার বাড়ানো হয়েছে। আগে এটাই ছিল ১.২৭ মিলিয়ন কিউবেক মিটার।

এক সর্দার সরোবর প্রকল্প আধিকারিকের মতে, রাজস্থানের বারমের এবং জলোরের মতো ক্ষরাপ্রবণ এলাকায় এই বাঁধ ২লক্ষ ৪৬ হাজার হেক্টর জলসেচের ব্যবস্থা করবে। মহারাষ্ট্রের আধিবাসী অধ্যুবাসী এলাকায় ৩৭হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে জলসেচের ব্যবস্থা করবে এই বাঁধ।  এই বাঁধের জল প্রকল্পে গুজরাতে ৫৩ শতাংশ গ্রাম পানীয় জল পাবে।

এখনও পর্যন্ত এই বাঁধের দুটি পাওয়ার হাউস থেকে মোট ৪,১৪১ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। এসএসএনএল সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁধ থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়, সেটি তিনটি রাজ্যের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। বাঁধ থেকে উৎপাদন হওয়া ৫৭ শতাংশ বিদ্যুৎ যায় মহারাষ্ট্রে, মধ্যপ্রদেশ পায় ২৭ শতাংশ এবং ১৬ শতাংশ পায় গুজরাত।

কংগ্রেস এই বাঁধের উদ্বোধন নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে। সংবাদসংস্থা এএনআইকে কংগ্রেসের গৌরব গগৈ বলেন, ‘‘এই বাঁধ থেকে কে উপকৃত হবে? ছোট চাষীরা তো এর জলই পাবে না? যে সব গ্রামবাসীর জমি গিয়েছে এই বাঁধ প্রকল্পের জন্য তাঁরা কী উপকৃত হবেন?

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন