পাকিস্তানের সঙ্গে এখনই আলোচনা নয়, এই বার্তা দিতেই কি বিমস্টেককে আমন্ত্রণ মোদীর?

0

ওয়েবডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের শপথের অনুষ্ঠান এ বারও জাঁকজমকের মধ্যে দিয়েই করতে চলেছেন নরেন্দ্র মোদী। তাই পাঁচ বছর আগের মতো এ বারও একঝাঁক রাষ্ট্রপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে এ বার আর সার্ক নয়, আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে অন্য একটি সংগঠনের সদস্যভুক্ত দেশগুলিকে।

এই সংগঠনটি হল বিমস্টেক। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে দক্ষিণ এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার উদ্দেশ্যে তৈরি বিমস্টেকের সদস্যদের মধ্যে ভারত ছাড়াও রয়েছে বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার ও থাইল্যান্ড। এই ছয় দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে শপথ অনুষ্ঠানে হাজির থাকার জন্য ইতিমধ্যেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কিরগিজস্তান এবং মরিশাসের রাষ্ট্রপ্রধানদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

একটি বিবৃতিতে বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, “সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের বর্তমান চেয়ারম্যান কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট আর এই বছর প্রবাসী ভারতীয় দিবসের প্রধান অতিথি মরিশাসের প্রধানমন্ত্রীকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।” মোদী নিজেই এই আমন্ত্রণপত্রগুলি সই করে বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

আরও পড়ুন নতুন স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়, পুলিশ ও প্রশাসনিক স্তরে ফের একাধিক রদবদল রাজ্যের

তবে এ বারও মোদীর শপথ অনুষ্ঠানে থাকতে পারছেন না বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চার দিনের জাপান ও ফিনল্যান্ড সফরে বেরিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তাঁর বদলে শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন সে দেশের প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ। অন্য দিকে মায়ানমার থেকে আন সাং সু কি আসবেন না কি প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট আসবেন, সে ব্যাপারেও কিছু জানা যায়নি।

উল্লেখ্য, পাঁচ বছর আগে সার্কের সদস্য দেশগুলিতে আমন্ত্রণ জানিয়ে চমক দিয়েছিলেন মোদী। তার মধ্যে সব থেকে বেশি নজর কেড়েছিল পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের উপস্থিতি। শপথ অনুষ্ঠানের পরের দিন মোদী এবং নওয়াজের মধ্যে বৈঠকও হয়। কিন্তু সম্পর্কের এই উষ্ণতা ক্রমে শীতল হতে শুরু করে। আরও অবনতির দিকে এগিয়ে যায় ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক। সেই সম্পর্কে নতুন ভাবে তলানিতে পৌঁছে যায় পুলওয়ামা হামলা এবং বালাকোটের অভিযানকে কেন্দ্র করে।

এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে মোদী আমন্ত্রণ জানাবেন কি না, সেই নিয়ে কৌতূহল ছিল। গত কয়েক দিনে ভারত এবং পাকিস্তানের সম্পর্কে আবার কিছুটা উষ্ণতা লক্ষ করা গিয়েছে। ইমরান এবং মোদীর মধ্যে ফোনে আলোচনা হয়েছে। সন্ত্রাস নিয়ে কড়া বার্তার পাশাপাশি দারিদ্র দূরীকরণ নিয়েও কথা হয়েছে দুই নেতার মধ্যে।

কিন্তু ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, এখনও পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসতে রাজি নয় ভারত। আর তাই সুকৌশলে সার্কের বদলে বিমস্টেকের দেশগুলিকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিলেন মোদী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.