rahul gandhi congress president

বার্কলে (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র): তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের সঙ্গে ন’বছর ধরে কাজ করে কাশ্মীরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে তুলেছিলেন তিনি, কিন্তু বিজেপির জন্যই কাশ্মীরের পরিস্থিতি ফের অশান্ত হয়ে উঠল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে এক হাত নিয়ে রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, তাঁর জন্যই সন্ত্রাসবাদ বেড়েছে কাশ্মীরে।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইন্ডিয়া অ্যাট ৭০ – রিফ্লেকশন্স অন দ্য পাথ ফরওয়ার্ড’ শীর্ষক আলোচনাসভায় অংশগ্রহণ করেছিলেন কংগ্রেস সহ-সভাপতি। সেখানেই ভারতের রাজনীতির প্রসঙ্গে নানা কথা বলেন তিনি। তাঁর কথায়, কাশ্মীরে শান্তি ফেরানোর লক্ষ্যে ২০০৪-এ বেশ কিছু পদক্ষেপ করেছিল কংগ্রেস। নেপথ্যে মনমোহন এবং নিজে ছাড়াও ছিলেন পি চিদম্বরম এবং জয়রাম রমেশও। তাঁর কথায়, “আমরা যখন শুরু করেছিলাম, কাশ্মীর তখন অশান্ত। ২০১৩-তে যখন পৌঁছোলাম, তখন কাশ্মীরের পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। আমরা সন্ত্রাসবাদের শিরদাঁড়াটাই ভেঙে দিতে সক্ষম হয়েছিলাম।”

এর জন্য পিডিপিকেও কৃতিত্ব দিয়েছেন রাহুল। ২০০২ সালে পিডিপির সঙ্গে জোট করে কাশ্মীরে সরকার গঠন করে কংগ্রেস। সেই জোট থেকেই কাশ্মীরের উন্নতি শুরু বলে মন্তব্য তাঁর। বেকারত্ব কমানোর জন্য মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিল পিডিপি। পাশাপাশি রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন শুরু করা, মহিলাদের নিয়ে স্বনির্ভর গোষ্ঠী, সবই ইউপিএ আমলে করা হয়েছিল বলে দাবি করেন রাহুল।

কিন্তু ২০১৪ সালে নির্বাচনের পর পিডিপির সঙ্গে বিজেপির হাত মেলানোর পরেই রাজ্যে ফের সন্ত্রাসবাদের বাড়বাড়ন্ত শুরু হয়ে যায় বলে দাবি রাহুলের। তাঁর কথায়, “এই জোটের পরেই আমি শুনেছিলান রাজ্যের যুবকদের একটা বিশাল অংশ সন্ত্রাসবাদের দিকে পা বাড়িয়েছে। মোদীই কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদীদের সুযোগ করে দিয়েছেন।”

শুধু কাশ্মীর নিয়েই নয়, বিমুদ্রাকরণ এবং গোহত্যার গুজবে খুনের ব্যাপারেও মোদীর তুলোধোনা করেন রাহুল। তাঁর কথায়, প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা এবং সংসদকে অবগত না করেই বিমুদ্রাকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হঠকারী ঢঙে নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এর ফলে দেশে বৃদ্ধির হার কমেছে। সেই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, “সাংবাদিকরা খুন হচ্ছেন, মানুষ গণপিটুনির শিকার হচ্ছে, গোমাংসের গুজবে দলিতরা খুন হচ্ছে, মুসলিমরা খুন হচ্ছে। এটাই নতুন ভারত।”

বংশপরম্পরায় রাজনীতিক হয়েছেন রাহুল, মাঝেমধ্যেই এই কথা শুনতে হয় তাঁকে। সেই অভিযোগকেও ছক্কা মেরে দেন তিনি। তাঁর কথায়, “শুধু আমার পেছনেই পড়া হচ্ছে কেন। অখিলেশ যাদব, এমকে স্তালিন (করুণানিধির ছেলে), অনুরাগ ঠাকুর (হিমাচলের বিজেপি নেতা প্রেমকুমার ধুমলের ছেলে), অভিষেক বচ্চন, মুকেশ আম্বানি, সবাই তো তাই।” এর সঙ্গে তিনি জানান, কংগ্রেস যদি তাঁকে নির্বাচিত করে, তা হলে প্রধান হতেও রাজি তিনি।

তবে ইউপিএ আমলের শেষ দিকে কংগ্রেসের মধ্যে অহংকার এসে গিয়েছিল এবং তার জন্য মানুষের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হতে হয় বলে মত রাহুলের।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here