gujarat election result

ওয়েবডেস্ক: গুজরাত বিধানসভা নির্বাচনে কি আদৌ কাজ করেছে ‘মোদী ম্যাজিক’? ফলাফল ঘোষণার পর শাসকদল বিজেপি ক্ষমতা ধরে রাখতে পারলেও এই প্ৰশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।

গুজরাতে এ বারের নির্বাচনে ভোটারদের মতদানে মেরুকরণের চিত্র স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়েছে। বিজেপি এবং কংগ্রেস উভয় দলেরই প্রাপ্ত ভোটের শতকরা হার বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদের ভোট কমেছে। ২০১২ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ও কংগ্রেসের  প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল ৪৭ এবং ৩৮ শতাংশ। সেই জায়গা থেকে এ বার ভোটের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৪৯ এবং ৪১ শতাংশ। অর্থাৎ গুজরাতের নির্বাচনে বরাবরই সক্রিয় থাকা দ্বিদলীয় ব্যবস্থা এ বার আরও শক্তিশালী হয়েছে। পাতিদার ও অন্যান্য পিছিয়ে থাকা অংশের নেতাদের একজোট করে নিজেদের পক্ষে টেনে আনার যে কৌশল কংগ্রেস নিয়েছিল, তাতে তারা লাভবান হয়েছে। বিপরীতে পাতিদার-ওবিসি দ্বন্দ্বের সুফল তুলেছে বিজেপি। এই গোটা মেরুকরণে শেষ পর্যন্ত আসন কমলেও. ক্ষমতা ধরে রাখতে পারল বিজেপি।

অন্য দিকে গত ২০১৪-র লোকসভা নির্বাচনে গুজরাতে বিজেপি এবং কংগ্রেসের প্রাপ্ত ভোটের শতকরা হার ছিল যথাক্রমে ৫৯.১ এবং ৩২.৯ শতাংশ। যদি বিধানসভার নিরিখে বিচার করা যায়, তা হলে দেখা যাচ্ছে, ২০১৪-র লোকসভা ভোটের তুলনায় বিজেপির আসন কমেছে প্রায় ৬০টি। অন্য দিকে কংগ্রেসের আসন বেড়েছে ৫৭টি।

এর থেকে পরিষ্কার মোদী ম্যাজিকের ঝড় এ বারের শীতে গুজরাতে গতি কমিয়ে মৃদুমন্দ হাওয়ায় পরিণত হয়েছে। ৪১টি জনসভা করেছেন তিনি। এমনকি মোদী তাঁর প্রচারের শেষ বেলায় যে ভাবে মণিশঙ্কর আয়ারের মতো গুরুত্বহীন নেতার মন্তব্য, গুজরাত ভোটে পাকিস্তানের হস্তক্ষেপ, তাঁকে মারার জন্য পাকিস্তানের সুপারি দেওয়া – ইত্যাদি লঘু বিষয়কে তুলে এনেছিলেন, তাতে বোঝাই যায় এই নির্বাচন নিয়ে কতটা চাপে ছিলেন তিনি এবং তাঁর দল। এর সঙ্গে যোগ করতে হবে, ভোটের কিছু দিন আগেই জিএসটি-র হারে রদবদলের সরকারি সিদ্ধান্তের কথা। সকলেই জানেন, এই রদবদল করা হয়েছিল গুজরাত নির্বাচনকে মাথায় রেখেই।

সব তাসই খেলেছে বিজেপি। রাজ্যের সরকার-বিরোধী হাওয়া, রাহুলের নেতা হিসেবে উঠে আসা, কংগ্রেসের জাতপাত ভিত্তিক জোটগঠন – সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে প্রচারের শেষ বেলায় উন্নয়নের কথা মুখে আনেননি বিজেপি নেতারা। বদলে ভারতের একটি অঙ্গরাজ্যের ভোটেও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলার চেষ্টা করা হয় পাকিস্তানকে। আর সেই কাজ এ দেশে মোদীর চেয়ে ভালো কেই-বা করতে পারেন। তার পর এ তাঁর নিজের রাজ্য। ফলে, বলা যায় বিজেপি যে এ বার শেষ অবধি কোনো মতে গুজরাত ধরে রাখতে পারল, সেটা সেই ৫৬ ইঞ্চি বুকের দৌলতেই।

জনগণের জীবনের নিত্য দিনের সংকটের উত্তর তা হলে আরএসএস-এর কিংবদন্তিসম সংগঠনের কাছেও নেই।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here