২৬/১১-এর হামলায় বেঁচে যাওয়া মোশেকে বুকে টেনে নিলেন মোদী, হল এক গুচ্ছ চুক্তি

0
543

তেল আভিভ: ২৬ নভেম্বর, ২০০৮। মুম্বইয়ের জুইশ সেন্টারে হানা দিল দুই বন্দুকবাজ জঙ্গি। এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করল তারা। আতঙ্ক, আর্তনাদ, একের পর এক মৃত্যুর মধ্যেই স্যান্ড্রা স্যামুয়েল তাঁর দু’ বছরের নাতিকে নিয়ে একটা ঘরে লুকিয়ে পড়লেন। বেঁচে গেল দু’ বছরের শিশু মোশে হোলৎসবার্গ। কিন্তু সেই নিধনযজ্ঞে মারা গেল মোশের বাবা-মা ও আরও ছ’ জন। মোশেকে নিয়ে ইজরায়েলে চলে এলেন ভারতীয় স্যান্ড্রা। তাঁকে ইজরায়েলের সাম্মানিক নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে। ৫৩ বছরের স্যান্ড্রা থাকেন জেরুজালেমে। আর সেই ছোট্টো মোশে আজ ১১ বছরের বালক। থাকে তার দাদু-ঠাকুমার সঙ্গে জেরুজালেম থেকে ৯৫ কিমি দূরে, আফুলায়। মোশের সঙ্গে তার ভারতীয় দিদার সাক্ষাৎ হয় প্রতি রবিবার। স্যান্ড্রা আসেন জেরুজালেম থেকে আফুলায়, তাঁর প্রিয় নাতিকে দেখতে।

২৬/১১-এর ঠিক পরেই। জুইশ সেন্টারে জঙ্গি হামলায় নিহতদের স্মরণ অনুষ্ঠানে স্যান্ড্রার কোলে মোশে।

বুধবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা। শত ব্যস্ততার মধ্যেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সময় করে নিয়েছিলেন ২৬/১১-এর হামলায় বেঁচে যাওয়া মোশের সঙ্গে। হাসিখুশি মোশের চোখে এখন চশমা। মোশেকে বুকে টেনে নিয়ে আদর করলেন মোদী। ভারতে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানালেন মোশের দাদু-ঠাকুমা রব্বি শিমন ও ইয়েহুডিট রোজেনবার্গকে। বললেন, “তোমরা যে কোনো সময়ে ভারতে আসতে পারো, যে কোনো সময়ে।”

এ দিন সকালে প্রধানমন্ত্রী ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট রভেন রুভি রিভলিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। রিভলিনও প্রোটোকল ভেঙে নিজেই প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। দু’জনের বৈঠক হয়। রিভলিন বলেন, ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীর করার ব্যাপারে ইজরায়েল আশাবাদী। মোদীর প্রশংসা করে রিভলিন বলেন, মোদী এমন একজন নেতা যিনি তাঁর দেশের মানুষের চাহিদা ও সুযোগসুবিধার দিকে দৃষ্টি দেন।

এ দিন বিকেলে ভারত-ইজরায়েল এক গুচ্ছ চুক্তি সই হয়। ওই সব অনুসারে দু’টি দেশ জল, কৃষি ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ব্যাপারে একমত হয়। এই উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পাশে দাঁড়িয়ে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানইয়াহু বলেন, এই সহযোগিতায় যেন ‘স্বর্গে দু’টি হাত এক হল’। ভারত-ইজরায়েল কূটনৈতিক সম্পর্কের ২৫ বছর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর তিন দিনব্যাপী সফরের মূল উদ্দেশ্য হল এই সহযোগিতা চুক্তি।

দুই প্রধানমন্ত্রীর আলোচনার পর জারি হয় যৌথ বিবৃতি। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক যে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বে’ উন্নীত হয়েছে, সে কথা ঘোষণা করা হয় যৌথ বিবৃতিতে। দুই নেতার আলোচনাও আনুষ্ঠানিক স্তর থেকে ব্যক্তিগত স্তরে পৌছে যায়। নেতানইয়াহু ও তাঁর পরিবারকে মোদী ভারত সফরে আমন্ত্রণ জানানোর সঙ্গে সঙ্গে কোনো রকম কূটনৈতিক নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে নেতানইয়াহু বলে ওঠেন, “আই অ্যাকসেপ্ট’।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে জেরুজালেমে তাঁদের বাসভবনে মোদীকে নৈশভোজে আপ্যায়ন করেন ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রী। সেখানে তাঁরা মোদীকে ফ্রেমে বাঁধানো একটি ছবি উপহার দেন। তাতে দেখা যাচ্ছে, জেরুজালেমকে মুক্ত করতে আসা ব্রিটিশ মিলিটারি কলমের সামনে রয়েছে ভারতীয় সেনারা। মোদীও তাঁদের হাতে তুলে দেন কেরলের নবম-দশকের তামার প্লেটের দু’টি সেট। এই প্লেট ভারতে জুইশ ইতিহাসের স্মারক হিসাবে চিহ্নিত।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here