নয়াদিল্লি ও কলকাতা : এক দিকে নোট বাতিলে ভোগান্তি সহ্য করেও ‘অচ্ছে দিন’-এর কাণ্ডারী হওয়ার জন্য দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অন্য দিকে নোট বাতিলের সিদ্ধান্তে আদতে লাভবান হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী আর তাঁর কাছের কিছু লোক, এমনই অভিযোগ তুলে মোদীকে একহাত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সব মিলিয়ে নোট বাতিলের মাসপূর্তিতে ফের তুঙ্গে কেন্দ্র-রাজ্য চাপানউতোর।

নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের ফলে ‘সাময়িক’ ভোগান্তি উপেক্ষা করেও মানুষ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বলে তাঁদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন মোদী। টুইটারে তিনি জানান, “দুর্নীতি, সন্ত্রাসবাদ আর কালো টাকার বিরুদ্ধে এই যজ্ঞে অংশ নেওয়ার জন্য দেশবাসীকে স্যালুট জানাই।”

পরের টুইটে তিনি কৃষক, শ্রমিক আর ব্যবসায়ীদের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। সেই প্রসঙ্গে তিনি জানান, “এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের শিরদাঁড়া, অর্থাৎ কৃষক, শ্রমিক আর ব্যবসায়ীরা অনেক লাভবান হবেন। এখন থেকে গ্রামবাসীদের দুর্নীতি আর কালো টাকার খপ্পরে পড়তে হবে না।”

নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত যে ভারতকে ‘ক্যাশলেস’ করার পথে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ তা উল্লেখ করে মোদী বলেন, “দেশের যুবসমাজ পরিবর্তনের প্রতিনিধি। তারাই পারবে দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করে দেশকে আরও নগদহীন লেনদেনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে।”

তবে মোদী সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদ দিলেও, সেই সাধারণ মানুষকেই হাতিয়ার করে তাঁকে একহাত নিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নোট বাতিলের এই সিদ্ধান্তে যে দেশে অঘোষিত অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা চলছে সেই প্রসঙ্গে টেনে প্রধানমন্ত্রীকে একনায়কের সঙ্গে তুলনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই সিদ্ধান্তে যে সাধারণ মানুষের আদতে কোনো লাভই হয়নি সেই প্রসঙ্গ এনে মমতা বলেন, “এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষ নয়, লাভবান হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কাছের কিছু লোক।”

এরপর মমতা যোগ করেন, “কোথায় কালো টাকা? প্রধানমন্ত্রী তো সাধারণ মানুষের টাকাই নিয়ে নিয়েছেন।” ‘ফকির’ প্রসঙ্গ টেনে এনে প্রধানমন্ত্রীকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি মমতা। তাঁর কথায়, “উনি নিজেকে ফকির বলছেন। তা হলে ফকিরের এত পয়সা এল কী করে?”

এর পর প্রধানমন্ত্রীর ’৫৬ ইঞ্চি কাঁধ’-এর প্রসঙ্গে মমতা বলেন, “কাঁধ চওড়া তো রাবণেরও ছিল। চওড়া কাঁধ আর ছাতি থাকলেই রাজনীতি করা যায় না, তা হলে সব কুস্তিগিরই রাজনীতিক হয়ে যেতেন।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here