uttarpradesh police

ওয়েবডেস্ক: উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এমার্জেন্সি রেসপন্স সেন্টারের (ইউপি১০০) ফোনটা আসতেই নিজেদের তৈরি করতে শুরু করেছিলেন পুলিশ আধিকারিকরা। ভেবেছিলেন কোনো চুরি-ডাকাতি-খুন-ধর্ষণের অভিযোগ আসবে। কিন্তু যে অভিযোগ এল, সেটা শুনে যেন নিজেদের কানকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না তাঁরা।

ওপার থেকে এক ব্যক্তির করুন আর্তি, “আমার মোষ আমার বাড়ির ছাদে উঠে গিয়েছে। আমাকে সাহায্য করুন।” এটা একমাত্র নয়, ইউপি১০০-তে ফোন করে অদ্ভুত সব অভিযোগ জানাচ্ছে সাধারণ মানুষ। পুলিশেরও এখন কাজ হয়েছে অত্যন্ত সহজ ভাষায় সেই সব অভিযোগগুলো ফিরিয়ে দেওয়া।

তবে অভিযোগ ফিরিয়ে দেওয়ার সময়ে কিছু উপায়ও বাতলে দিচ্ছেন পুলিশ আধিকারিকরা। ইউপি১০০-এর ডিরেক্টর জেনারেল আদিত্য মিশ্র বলেন, “এই মোষের অভিযোগের ক্ষেত্রে আমাদের আধিকারিকরা ওই অভিযোগকারীকে বোঝায় তিনি যেন শাক-সবজি, খাবারদাবার দিয়ে মোষকে প্রলোভন দেখান, যাতে সে নেমে আসতে পারে।”

তবে যত উদ্ভট দাবিই হোক না কেন, অভিযোগ ফিরিয়ে দেওয়ার আগে অভিযোগকারীকে কিছু উপদেশ দিচ্ছেন আধিকারিকরা। তবে যতই তুচ্ছ হোক না কেন, কিছু অভিযোগের ক্ষেত্রে পুলিশ অভিযোগকারীর বাড়ি যাচ্ছে। মিশ্রের কথায়, “কোন অভিযোগ বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেটা আন্দাজ করার ক্ষমতা আমাদের আধিকারিকদের রয়েছে। তবে কিছু তুচ্ছ অভিযোগের ক্ষেত্রেও আমরা অভিযোগকারীর বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়েছি। কারণ অনেক সময়ে ছোটো ঘটনা বড়ো আকার ধারণ করতে পারে।”

যেমন ধরা যাক এই অভিযোগটির কথা – স্ত্রী চা দিচ্ছে না, সটান ইউপি১০০ ডায়াল করে বসেন স্বামী। পুলিশ কিন্তু তাঁদের বাড়িতে যায়, এবং স্বামী আর স্ত্রীর সঙ্গে কাউন্সেলিং করে আসে।

অন্য একটি অভিযোগ ছিল এই রকম। বাড়ির দরজা খুলেই ঘুমিয়ে পড়েন স্ত্রী, এই অভিযোগ জানিয়ে ফোন করে বসেছিলেন স্বামী। পুলিশ আধিকারিকের বক্তব্য ছিল স্ত্রী ঘুমিয়ে পড়লে, তিনি যেন বাড়ির দরজা বন্ধ করে দেন। জবাবে স্বামী জানিয়ে দেন, এ রকম কিছু করলে ঘুম থেকে উঠে তাঁর স্ত্রী তাঁকে খুব বকবে। উপায় না দেখে স্ত্রীয়ের সঙ্গে কথা বলেন ওই আধিকারিক। দরজা বন্ধ রাখার উপকারিতা বোঝান তাঁকে।

তবে অনেক ক্ষেত্রেই পুলিশও নিরুপায়। মন্দিরের চৌহদ্দিতে একটি বাঁদর তাকে চড় মেরেছে, পুলিশের কাছে এক ব্যক্তি এই অভিযোগ করলে সেটা ফিরিয়ে দেওয়া ছাড়া পুলিশের আর কোনো উপায় ছিল না। অন্য দিকে আরও একটি অভিযোগেও পুলিশ কিছু করতে পারেনি, যেখানে এক ব্যক্তি অভিযোগে জানান, তাঁর স্ত্রী বাড়িতে নেই বলে তাঁর সন্তানকে ঘুম পাড়ানো যাচ্ছে না। অভিযোগকারীর বক্তব্য ছিল, পুলিশ যদি এক বার তাঁর বাড়িতে আসে, তা হলে পুলিশের ভয় দেখিয়ে তাঁর সন্তানকে ঘুম পাড়ানো যাবে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন