Connect with us

দেশ

২৫ বছরের রেকর্ড ভেঙে দিল বর্ষা, দেশ জুড়ে মৃত্যুমিছিল

ওয়েবডেস্ক: ২৫ বছরের মধ্যে সব থেকে ভয়াবহ বর্ষা দেখল ভারত। বৃষ্টির পরিমাণে ভেঙে গেল আড়াই দশকের রেকর্ড। সেই সঙ্গে দেশ জুড়ে চলেছে মৃত্যু মিছিল।

কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে এ বার দেশে গড় বৃষ্টি হয়েছে স্বাভাবিকে থেকে ১০ শতাংশ বেশি। শেষবার এমন বৃষ্টি হয়েছিল ১৯৯৪ সালে। শুধু তাই নয়, এ বার বর্ষায় যে ভাবে মানুষের মৃত্যু হয়েছে তাও নজিরবিহীন।

সরকারি তথ্য বলছে এ বার বর্ষা মোট ১৬৭৩ জনের প্রাণ কেড়েছে। গত কয়েকদিনে শুধুমাত্র বিহার এবং উত্তরপ্রদেশে মৃত্যু হয়েছে ১৪৪ জনের।

আবহাওয়া দফতর তাজ্জব কারণ যে এ বার জুনে বর্ষা যা হাল ছিল, তাতে কোনো ভাবেই এই ধরনের রেকর্ড করা সম্ভব ছিল না। আবহাওয়া দফতরের রিপোর্ট বলছে, এ বার জুনে দেশে বর্ষা ছিল স্বাভাবিকের ৩০ শতাংশ কম। জুলাই, আগস্ট এবং সেপ্টেম্বরে তা স্বাভাবিকের থেকে যথাক্রমে ৫, ১০ এবং ৫২ শতাংশ বেশি হয়েছে।

আরও একটা অবাক করা ঘটনা হয়েছে যে শুরুর দিকে বৃষ্টিহীন থাকা অঞ্চলগুলি বন্যার কবলে পড়া। এর মধ্যে অন্যতম গুজরাত। জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই রাজ্যে গড় বৃষ্টির ঘাটতি ছিল ৫০ শতাংশের বেশি।

কিন্তু গুজরাত মরশুম শেষ করেছে প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়তি বৃষ্টি নিয়ে। এত কম সময়ে এত বৃষ্টি হলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। ব্যাপক বন্যার মুখে পড়েছে রাজ্যটি।

আরও পড়ুন বেনজির সিদ্ধান্ত! এগিয়ে এল জয়েন্ট এন্ট্রাস পরীক্ষা

কেরলও তাই। কেরল মরশুম শেষ করেছে ১৩ শতাংশ বাড়তি বৃষ্টি নিয়ে। কিন্তু জুলাইয়ের শেষেও তাঁর ঘাটতি ছিল ৪৫ শতাংশ। আগস্টে এমন বৃষ্টি হল যে আরও একবার ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি পড়ল সে।

পশ্চিমবঙ্গ, বিশেষত দক্ষিণবঙ্গই বা কম কী! আগস্টের শুরুতে ৫০ শতাংশ ঘাটতি থাকা দক্ষিণবঙ্গ মরশুম শেষ করেছে মাত্র কুড়ি শতাংশ ঘাটতি নিয়ে। ফলে এখানেও বন্যার ভ্রূকুটি। জলবন্দি একাধিক জেলা।

এ বার বর্ষায় বন্যার সম্মুখীন হয়েছে কেরল, মহারাষ্ট্র, কর্নাটক, গুজরাত, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, বিহার, ছত্তীসগঢ়, অসম, মধ্যপ্রদেশ এবং উত্তরপ্রদেশ। এক মরশুমে এতগুলো রাজ্য একসঙ্গে বন্যা কবলিত হয়ে পড়ার নজিরও বিশেষ নেই।

সব মিলিয়ে এ বারের বর্ষা অন্যবারের থেকে এক্কেবারেই আলাদা।

আরও একটা রেকর্ড করে ফেলেছে সে। একশো বছরেরও বেশি ইতিহাসে এই প্রথম সব থেকে দেরিতে শুরু হবে বর্ষার বিদায়যাত্রা। ১৯৬১ সালে বর্ষা বিদায়যাত্রা শুরু করেছিল ১ অক্টোবর। এ বার সেই রেকর্ডও ভেঙে গেল।

তবে স্বস্তির খবর এই যে বর্ষার বিদায়যাত্রা শুরু হওয়ার ইঙ্গিত পেতে শুরু করেছে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর। তারা জানিয়েছে ১০ অক্টোবর থেকে বর্ষা বিদায় নিতে শুরু করবে। তার প্রাথমিক ইঙ্গিত হিসেবে বৃহস্পতিবার থেকেই সমগ্র উত্তর ভারত এবং গুজরাতে উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে যাবে বৃষ্টিপাত।

বর্ষা শেষে এখন জম্পেশ শীতের অপেক্ষা শুরু হবে দেশবাসীর।

Advertisement
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

দেশ

পাঁচ রাজ্যে নতুন করে করোনা-আক্রান্ত ১৬,৭৯৯ বাকি দেশে ৫,৯৭২

খবরঅনলাইন ডেস্ক: যত দিন যাচ্ছে ভারতে করোনা-পরিস্থিতির ছবিতে একটি বিভাজন স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এক একটি রাজ্যে করোনাভাইরাসের (Coronavirus) একরকম ছবি দেখা যাচ্ছে।

এই যেমন গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২২,৭৭১ জন। এর মধ্যে ১৬,৭৯৯ জনই পাঁচ রাজ্যের। অর্থাৎ, ভারতের বাকি অংশে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন মাত্র ৫,৯৭২ জন।

শনিবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের (Ministry of Health and Family Welfare) তথ্য অনুযায়ী ভারতে করোনা-আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬ লক্ষ ৪৮ হাজার ৩১৫। এর মধ্যে সক্রিয় রোগী রয়েছেন ২ লক্ষ ৩৫ হাজার ৪৩৩। সুস্থ হয়েছেন ৩ লক্ষ ৯৪ হাজার ২২৭। মৃত্যু হয়েছেন ১৮,৬৫৫ জনের।

গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে সুস্থ হয়েছেন ১৪,৩৩৫ জন। মৃত্যু হয়েছে ৪৪২। দেশে সুস্থতার হার বর্তমানে রয়েছে ৬০.৮০ শতাংশ।

যে পাঁচ রাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা সব থেকে বেশি তারা হল, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, দিল্লি, তেলঙ্গানা আর কর্নাটক।

মহারাষ্ট্রে সুস্থ হয়েছেন এক লক্ষের বেশি

গত ২৪ ঘণ্টায় সব থেকে বেশি আক্রান্তের খবর পাওয়া গিয়েছে মহারাষ্ট্র থেকেই (৬৩৬৪)। কিন্তু সে রাজ্যে সুস্থতার হারও আশাব্যঞ্জক। এখনও পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা দু’লক্ষের গণ্ডি না পেরোলেই ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন এক লক্ষ চার হাজার ৬৮৭। সক্রিয় রোগী এখন রয়েছেন ৭৯,৯২৭।

এ রাজ্যে করোনায় মারা গিয়েছেন ৮৩৭৬ জন। ফলে মহারাষ্ট্রে মৃত্যুহার এখন রয়েছে ৪.৩৪ শতাংশ।

তামিলনাড়ুতে আক্রান্ত এক লক্ষ

মহারাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় রাজ্য হিসেবে আক্রান্তের সংখ্যা এক লক্ষের গণ্ডি পেরোলো তামিলনাড়ুতে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ রাজ্যে নতুন করে ৪৩২৯ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে তামিলনাড়ুতে এখন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে

তবে তামিলনাড়ুতে রোজ ৩০ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। আর সুস্থতার হারও এই রাজ্যে ৫০ শতাংশের ওপরে রয়েছে। অন্যদিকে মৃত্যুহারও মাত্র এক শতাংশের কিছু বেশি রয়েছে।

এক লক্ষের পথে এগোলেও দিল্লির পরিস্থিতি কিছুটা থিতু হচ্ছে

দিল্লির করোনা-পরিস্থিতি কিছুটা থিতু হচ্ছে বলেই মনে করছে রাজ্য সরকার। গত কয়েকদিন ধরেই নতুন আক্রান্তের সংখ্যা দুই থেকে আড়াই হাজারের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। কিছুদিন আগেও সংখ্যাটা সাড়ে তিন হাজারের ওপরে ছিল। ফলে দিল্লিতে আক্রান্তের সংখ্যা হাজার হলেও কিছুটা স্বস্তিতেই রয়েছে প্রশাসন। রাজধানীতে সুস্থতার হারও বিপুল ( ৬৯.৩০ শতাংশ)। দিল্লিতে মোট আক্রান্তের সঙ্খ্যে ৯৪ হাজারের গণ্ডি পেরোলেও সক্রিয় রোগী রয়েছেন মাত্র ২৬,১৪৮।

পশ্চিমবঙ্গকে টপকে যাওয়ার পথে তেলঙ্গানা, কর্নাটক

পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এই পরিসংখ্যানে কিছুটা হলেও স্বস্তি পেতে পারেন যে গত কয়েকদিনে যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে তাতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যায় পশ্চিমবঙ্গকে টপকে যেতে চলেছে তেলঙ্গানা আর কর্নাটক।

এর মধ্যে তেলঙ্গানার ছবি, সব থেকে ভয়াবহ। গত ২৪ ঘণ্টায় এ রাজ্যে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১,৮৯২ জন। এর ফলে এই রাজ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা এখন চলে এসেছে ২০,৪৬২-তে। পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে আক্রান্তের সংখ্যা ২০,৪৮৮। কিন্তু তেলঙ্গানার কাছে ভয়াবহ ব্যাপারটি হল তেলঙ্গানায় যত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে, তার পাঁচগুণ বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে।

পিছিয়ে নেই কর্নাটকও। গত ২৪ ঘণ্টায় এ রাজ্যে ১৬০০-এর বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় রাজ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৯,৭১০। তেলঙ্গানা আর কর্নাটকে সুস্থতার হার ৫০ শতাংশের নীচে রয়েছে।

মোট নমুনা পরীক্ষা

আইসিএমআরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ২ লক্ষ ৪২ হাজার ৩৮৩টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এর ফলে এখনও পর্যন্ত ভারতে ৯৫ লক্ষ ৪০ হাজার ১৩২টি নমুনা পরীক্ষা হয়ে গিয়েছে।

Continue Reading

দেশ

কোভিড আপডেট: নতুন করে আক্রান্ত ২২,৭৭১, সুস্থ ২৪,৩৩৫

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ভারতে করোনা-আক্রান্তের সংখ্যায় কোনো রকম লাগাম না টানা গেলেও লকডাউনের কড়াকড়ি অনেকটাই শিথিল করা হয়েছে। শুরু হয়েছে আনলক পর্ব। মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছেন। স্বাভাবিক ভাবেই এখন আক্রান্তের সংখ্যা আগের থেকে অনেকটাই বাড়বে। মঙ্গলবার, তথা ১ জুলাই থেকে নতুন করে কোভিড আপডেট শুরু করল খবরঅনলাইন। ৩০ জুন পর্যন্ত যাবতীয় আপডেট পড়ার জন্য ক্লিক করুন এখানে

==================================================================

৪ জুলাই, সকাল দশটা

শনিবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের (Ministry of Health and Family Welfare) তথ্য অনুযায়ী ভারতে করোনা-আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬ লক্ষ ৪৮ হাজার ৩১৫। এর মধ্যে সক্রিয় রোগী রয়েছেন ২ লক্ষ ৩৫ হাজার ৪৩৩। সুস্থ হয়েছেন ৩ লক্ষ ৯৪ হাজার ২২৭। মৃত্যু হয়েছেন ১৮,৬৫৫ জনের।

গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ২২,৭১১ জন। সুস্থ হয়েছেন ১৪,৩৩৫ জন। মৃত্যু হয়েছে ৪৪২। দেশে সুস্থতার হার বর্তমানে রয়েছে ৬০.৮০ শতাংশ।

৩ জুলাই, সকাল সাড়ে ন’টা

শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের (Ministry of Health and Family Welfare) রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬ লক্ষ ২৫ হাজার ৫৪৪। এর মধ্যে সুস্থতার হারই পৌঁছে গিয়েছে ৬০.৭৯ শতাংশ মানুষ। অর্থাৎ ৩ লক্ষ ৭৯ হাজার ৮৯২ মানুষ সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

দেশে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২ লক্ষ ২৭ হাজার ৪৩৯ জন। মৃত্যু হয়েছে ১৮,২১৩ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ২০,৯০৩ জন। সুস্থ হয়েছেন ২০,০৩২ জন। মৃত্যু হয়েছে ৩৭৯ জনের। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল গত ২৪ ঘণ্টায় সক্রিয় রোগী বেড়েছে মাত্র ৮৯২।

২ জুলাই, সকাল সাড়ে ন’টা

বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের (Ministry of Health and Family Welfare) রিপোর্টে দেখা গিয়েছে যে এই মুহূর্তে ভারতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬ লক্ষ ৪ হাজার ৬৪১। যদিও এর মধ্যে ৫৯.৫১ শতাংশ মানুষই সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

এখনও পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষের সংখ্যা ৩ লক্ষ ৫৯ হাজার ৮৬০। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২ লক্ষ ২৬ হাজার ৯৪৭ জন। মৃত্যু হয়েছে ১৭,৮৩৪ জনের।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১৯,১৪৮ জন। সুস্থ হয়েছেন ১১,৯১২ জন। মৃত্যু হয়েছে ৪৩৪ জনের। রোগীবৃদ্ধির হার কিছুটা কমে এখন রয়েছে ৩.২৭ শতাংশ।

১ জুলাই, সকাল সাড়ে ন’টা

বুধবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক (Ministry of Health and Family Welfare) যে পরিসংখ্যান দিয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে যে এই মুহূর্তে ভারতে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫ লক্ষ ৮৫ হাজার ৪৯৩। এর মধ্যে সক্রিয় রোগী রয়েছেন ২ লক্ষ ২০ হাজার ১১৪। সুস্থ হয়েছেন ৩ লক্ষ ৪৭ হাজার ৯৪৮। মৃত্যু হয়েছে ১৭,৪০০ জনের।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১৮,৬৫৩ জন। সুস্থ হয়েছেন ১৩,১২৬ জন। মৃত্যু হয়েছে ৫০৭ জনের।

Continue Reading

দেশ

“১৫ আগস্টেই বাজারে আসবে, তবে ২০২১-এ,” কোভ্যাক্সিন নিয়ে সরকারি সময়সীমার তীব্র নিন্দা বিশেষজ্ঞদের

খবরঅনলাইন ডেস্ক: গত সোমবারই, ভারতে তৈরি প্রথম করোনা-ভ্যাকসিন ‘কোভ্যাক্সিন’ (Covaxin) এর মানবশরীরে পরীক্ষানিরীক্ষা চালানোর জন্য ভারত বায়োটেককে ছাড়পত্র দিয়েছিল ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (ডিসিজিআই)। তার চার দিনের মাথায় আইসিএমআর (ICMR) জানিয়ে দিল, তারা চায় ১৫ আগস্ট এই টিকাটিকে বাজারজাত করতে।

দেশের যে ১২টি প্রতিষ্ঠানে কোভ্যাক্সিনের পরীক্ষানিরীক্ষা চালানো হবে, সেই প্রতিষ্ঠানগুলিতে চিঠি দেন আইসিএমআরের ডিরেক্টর ডঃ বলরাম ভার্গব।

সে সব স্বেচ্ছাসেবকের ওপরে এই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হবে, ৭ জুলাইয়ের মধ্যে তাদের নাম নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে আইসিএমআর। আইসিএমআর জানিয়েছে, কোভিডের (Covid 19) মতো সংক্রমণ রুখতে ও দ্রুত প্রতিষেধক বাজারে আনার তাগিদে ওই সংস্থাগুলিকে সমস্ত প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দ্রুত জোগাড় করে কাজ শুরু করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভার্গব চিঠিতে লিখেছেন, প্রকল্পটির নজরদারি চলছে সরকারের একেবারে শীর্ষ স্তর থেকে। নির্দেশ না মানলে কঠোর মনোভাব নেবে সরকার।

মানবশরীরে প্রয়োগ করার ছাড়পত্র পাওয়ার মাত্র দু’ মাসের মধ্যে কোনো টিকা বাজারে চলে এল, এই ধরনের ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। আর এটা কার্যত অসম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

ইন্ডিয়ান জার্নাল অব মেডিক্যাল এথিক্সের সম্পাদক অমর জেসানি এই প্রসঙ্গেই বলেন, “মানবশরীরে প্রয়োগ শুরু হওয়ার আগেই বাজারে নিয়ে আসার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করে দেওয়া হল। আমি জানি না, এই ধরনের ঘটনা বিশ্ব আর কখনও ঘটেছে কি না। বিজ্ঞান এ ভাবে কাজ করে না।”

ভার্গবের এই চিঠির প্রসঙ্গে আইসিএমআরেরই এক কর্তা বসন্ত মুতুস্বামী বলেন, “আমার নিজের অভিজ্ঞতা বলছে টিকাকে বাজারে নিয়ে আসার জন্য এত কম সময়সীমা দেওয়া যায় না।”

যে সব চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে এই টিকাটি মানবশরীরে প্রয়োগ করা হবে, তাঁরাও বলছেন এই সময়সীমা আদৌ বাস্তববাদী নয়।

‘এটা মানবশরীরে প্রয়োগ করতে হবে, কোনো জীবজন্তুর শরীরে নয়’

যে ১২টি প্রতিষ্ঠান এই পরীক্ষা চালাবে, তাদের মধ্যে ৭টা প্রতিষ্ঠান এখনও স্বাধীন নীতি কমিটির (Independent Ethics Committee) কোনো ছাড়পত্রই জোগাড় করতে পারেনি। এই ছাড়পত্র না পেলে মানবশরীরে প্রয়োগ করার কাজটি শুরুই করা যায় না।

এই ১২টি প্রতিষ্ঠানের অন্যতম ভুবনেশ্বরের ইন্সটিটিউট অব মেডিক্যাল সায়ান্সেস। সেখানকার চিকিৎসক, তথা এই পরীক্ষানিরীক্ষার দায়িত্বে থাকা ডঃ বেঙ্কট রাও বলেন, “যে যা-ই বলুক, আমি নীতি কমিটির ছাড়পত্র না পেলে এক চুলও এগোবো না।”

তিনি যোগ করেন, “আমার কোনো অনমনীয় মনোভাব নেই। কিন্তু আমি বলছি, সব নিয়ম পরিষ্কার ভাবে পালন করে তবেই আমি এগোব। আমার প্রাথমিক উদ্দেশ্য হল কারও কোনো ক্ষতি করা যাবে না।”

আরও একটি প্রতিষ্ঠানের এক কর্তা বলেন, “এটা বিজ্ঞানসম্মত কোনো চিঠিই নয়। নীতি কমিটি ছাড়পত্র না দিলে ৭ জুলাই কেন, ৭ ডিসেম্বরও মানবশরীরে প্রয়োগ করার পরীক্ষা শুরু করতে পারব না। প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ করলেও প্রোটোকল থেকে সরতে পারব না। এটা মানবশরীরে প্রয়োগ করতে হবে, জীবজন্তুর শরীরে নয়।”

এখনও পর্যন্ত যে ৫টি প্রতিষ্ঠান এই ছাড়পত্র জোগাড় করেছে, তাদের মধ্যে চারটেই বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে একটি, কর্নাটকের বেলগাঁওয়ের জীবনরেখা হাসপাতাল। সরকারি সময়সীমা মানার ব্যাপারে এই হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট আশাবাদী।

হাসপাতালের এক কর্তা বলেন, “১৫ আগস্টের মধ্যে সব কাজ শেষ হবে বলে আমরা আশাবাদী। সরকার যদি একটা তারিখ নির্দিষ্ট করে থাকে, নিশ্চয় তারা কিছু ভেবেচিন্তেই করেছে।”

তিন ধাপে মানবশরীরে প্রয়োগ করা হয়

অনেক প্রতিষ্ঠানই এই সময়সীমা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে দিয়েছে। প্রথমত, ৭ জুলাইয়ের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবকদের নথিভুক্ত করা কোনো ভাবেই সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন লখনউয়ের কিং জর্জ হাসপাতালের এক কর্তা। তাঁর কথায়, “আদৌ আমরা এই সময়ের মধ্যে ছাড়পত্র (নীতি কমিটির) পাই কি না, সেটাই দেখার।”

সেই ছাড়পত্র যদিও বা পাওয়া যায়, ১৫ আগস্টের মধ্যে মানবশরীরে পরীক্ষার ফল, অর্থাৎ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফল কোনো ভাবেই প্রকাশ করা যাবে যাবে না, এমনই জানাচ্ছেন ওই কর্তা। এই ১২টি প্রতিষ্ঠানে মোট ১১২৫ জনের শরীরে এই টিকা পরীক্ষামূলক ভাবে প্রয়োগ করার কথা।

সাধারণত তিনটে ধাপে একটি নতুন টিকার মানবশরীরে প্রয়োগের পরীক্ষা চালানো হয়। প্রথম ধাপে, অল্প সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবকের ওপরে এই টিকা প্রয়োগ করা হয়। টিকাটি কতটা নিরাপদ, সেটা দেখা হয়। দ্বিতীয় ধাপে, স্বেচ্ছাসেবকদের সংখ্যা অনেকটাই বাড়ে। সেখানে দেখা হয়, এই ভ্যাকসিনের কারণে নির্দিষ্ট রোগের প্রতিরোধ ক্ষমতা মানবশরীরে তৈরি হচ্ছে কি না।

এর পর আসে তৃতীয় ধাপ। এই ধাপে বিপুল সংখ্যক মানুষের ওপরে এই টিকা প্রয়োগ করা হয়। সেই পরীক্ষা সফল হলে তবেই তা বাজারজাত করার ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

বর্তমানে অক্সফোর্ডের তৈরি করোনার টিকাটির তৃতীয় ধাপের পরীক্ষানিরীক্ষা চলছে। আগামী মাসে মার্কিন সংস্থা মডার্নার টিকাটির তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা শুরু হবে।

এ দিকে কোভ্যাক্সিনের ক্ষেত্রে তৃতীয় ধাপের পরীক্ষার কোনো উল্লেখই কোথাও করা নেই!

এই প্রসঙ্গেই একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলেন, “১৫ আগস্টের মধ্যে প্রথম ধাপের পরীক্ষাই শেষ হবে না।” আরও চাঁচাছোলা ভাষায় তাঁর বক্তব্য, “আমার মনে হয়, ওঁরা ঠিক তারিখটাই (১৫ আগস্ট) বলেছে, কিন্তু বছরটা লিখতে ভুল করেছে। ওটা ২০২১ হবে।”

Continue Reading
Advertisement
দেশ18 mins ago

পাঁচ রাজ্যে নতুন করে করোনা-আক্রান্ত ১৬,৭৯৯ বাকি দেশে ৫,৯৭২

শিল্প-বাণিজ্য42 mins ago

ভারত অ্যাপ নিষিদ্ধ করতেই চিনের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছে টিকটক

রাজ্য45 mins ago

করোনা-আক্রান্তের সংখ্যায় কলকাতাকে পেছনে ফেলে দিল হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু

দেশ47 mins ago

কোভিড আপডেট: নতুন করে আক্রান্ত ২২,৭৭১, সুস্থ ২৪,৩৩৫

দেশ2 hours ago

“১৫ আগস্টেই বাজারে আসবে, তবে ২০২১-এ,” কোভ্যাক্সিন নিয়ে সরকারি সময়সীমার তীব্র নিন্দা বিশেষজ্ঞদের

বিনোদন13 hours ago

‘সড়ক ২’ পোস্টার: ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগে মহেশ ভাট, আলিয়া ভাটের বিরুদ্ধে মামলা

রাজ্য14 hours ago

রেকর্ড সংখ্যক পরীক্ষার দিন আক্রান্তের সংখ্যাতেও নতুন রেকর্ড, রাজ্যে বাড়ল সুস্থতার হারও

দেশ14 hours ago

নতুন নিয়মে খুলছে তাজমহল!

দেশ47 mins ago

কোভিড আপডেট: নতুন করে আক্রান্ত ২২,৭৭১, সুস্থ ২৪,৩৩৫

ক্রিকেট3 days ago

আইসিসির চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন শশাঙ্ক মনোহর, এ বার কি সৌরভ?

বিজ্ঞান3 days ago

কোভাক্সিন কী? জেনে নিন বিস্তারিত

ক্রিকেট3 days ago

২০১১ বিশ্বকাপ কাণ্ড: ফাইনালে খেলা ক্রিকেটারকে জিজ্ঞাসাবাদ শ্রীলঙ্কা পুলিশের

দেশ3 days ago

করোনিল বিক্রিতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, সারা দেশেই পাওয়া যাবে: রামদেব

দেশ1 day ago

দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যায় নতুন রেকর্ড, সুস্থতাতেও রেকর্ড

ক্রিকেট2 days ago

চলে গেলেন ‘থ্রি ডব্লু’-এর শেষ জন স্যার এভার্টন উইকস, শেষ হল একটা অধ্যায়

শিল্প-বাণিজ্য3 days ago

পিপিএফ, এনএসসি-সহ অন্যান্য ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পে সুদের হার অপরিবর্তিত

নজরে