global peace index

ওয়েবডেস্ক: কাশ্মীরিদের কাছে টানার জন্য গত বছর লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, “গুলিতে নয়, গালিতে নয়, কাশ্মীরিদের গলায় জড়িয়ে কাছে টানতে হবে।” কিন্তু যত দিন যাচ্ছে তত যেন ভারতের সঙ্গে ক্রমশ নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে কাশ্মীরের যুবসম্প্রদায়।

শুক্রবার, পুলওয়ামার স্নাতক স্তরের এক ছাত্র আশিক হুসেন জ্ঞানী জঙ্গিশিবিরে নাম লেখানোর কথা ঘোষণা করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একে-৪৭ এবং একটি পিস্তল হাতে নিয়ে ছবিও পোস্ট করেছে সে। এতেই চিন্তিত স্থানীয় প্রশাসন এবং নিরাপত্তাবাহিনী। যতই কাশ্মীরিদের কাছে টানার কথা বলুন প্রধানমন্ত্রী, জঙ্গিশিবিরে নাম লেখানোর প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে। শুধুমাত্র গত মাসেই ২৮ জন জঙ্গিশিবিরে নাম লিখিয়েছে। এই বছর এখনও পর্যন্ত সংখ্যাটা ৪৫। ২০১৬-এর জুলাইয়ে হিজবুল নেতা বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পরে সংখ্যাটা ক্রমশ বাড়ছে।

গত কয়েক দিনে যারা জঙ্গিদলে ঢুকেছে তাদের মধ্যে রয়েছে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন পিএইচডি ছাত্র, প্রাক্তন এক সেনাকর্মী, একজন অধ্যাপক (জঙ্গিবাদে শপথ নেওয়ার পরের দিনই তাঁর মৃত্যু হয়) এবং বেশি কিছু স্নাতকস্তরের ছাত্র।

তবে জঙ্গিশিবিরে নাম লেখানোর প্রবণতা গত বছরে যা ছিল,  এবারও সেটাই আছে বলে মনে করেন কাশ্মীর পুলিশের ডিজি এসপি বৈদ। তিনি বলেন, “গত বছর ১২৭ জন জঙ্গিশিবিরে ঢুকেছিল। এ বছর এখনও পর্যন্ত ৪৫। সুতরাং প্রবণতা বাড়ছে বলে মনে করছি না, কিন্তু এটা একটা চিন্তার বিষয়।”

গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মতে, গত এপ্রিলের ১ তারিখ নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল যাদের মধ্যে ১৩ জন জঙ্গি এবং চার জন সাধারণ মানুষ ছিলেন। এই ঘটনার পর থেকেই আবার জঙ্গিপনার প্রবণতা বেড়েছে কাশ্মীরে।

শুক্রবার জঙ্গিশিবিরে নাম লেখানো জ্ঞানী পুলওয়ামার বাসিন্দা। এই পুলওয়ামা, কুলগাম এবং শোপিয়ানেই সব থেকে বেশি যুবক জঙ্গিশিবিরে নাম লিখিয়েছে। উল্লেখ্য, বুরহান ওয়ানির মৃত্যু পরবর্তী সংঘর্ষে এই তিন জেলাই সব থেকে বেশি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। মৃত্যু হয়েছিল একশোরও বেশি সাধারণ মানুষের।

এখানেই একটি মহলের ধারণা, নিরাপত্তাবাহিনীর ‘অত্যাচারের’ প্রতিবাদেই জঙ্গিশিবিরে নাম লেখানোর প্রবণতা বেড়েছে। সাংবাদিক শেখ মুস্তাকের ব্যাখ্যায়, “যত বেশি মৃত্যু তত বেশি জঙ্গিশিবিরে যাওয়ার প্রবণতা। আবার যত বেশি জঙ্গিশিবিরে যাওয়ার প্রবণতা তত বেশি মৃত্যু। এটা একটা চক্রের মতো কাজ করছে।”

জ্ঞানী জানিয়েছিল সে পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন লস্করে নাম লিখিয়েছে। তবে বেশির ভাগই স্থানীয় জঙ্গিসংগঠন হিজবুল মুজাহিদিনে নাম লেখায়। ডিজিপি বৈদের মতে, নতুন নিয়োগের পরে এই মুহূর্তে কাশ্মীরে মোট জঙ্গির সংখ্যা আড়াইশো ছাড়িয়ে গিয়েছে। তিনি বলেন, “এই ২৫০ জঙ্গির মধ্যে ১৫০ স্থানীয় এবং ১০০ জন পাকিস্তানি রয়েছে।” এই বছর এখনও পর্যন্ত ৬০ জন জঙ্গিকে শেষ করতে সফল হয়েছে নিরাপত্তাবাহিনী। গত বছর এই সময় পর্যন্ত সংখ্যাটা ছিল ৪২।

এখনও পর্যন্ত নিরাপত্তাবাহিনীর কুড়ি জন এবং ২৫ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে এর পাশে একটি আশার কথাও শুনিয়েছেন বৈদ। গত চার পাঁচ মাসে অন্তত ১৬ জন জঙ্গিশিবির ছেড়ে মূল স্রোতে ফিরে এসেছে বলেও জানালেন তিনি।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে জঙ্গিশিবিরে নাম লেখানোর প্রবণতা কেন এত বেশি?

সমাজবিজ্ঞানী নূর আহমেদ বাবা বলেন, উপত্যকার রাগ কমানোর জন্য কোনো বার্তা দিতে পারেনি সরকার। ঠিক তেমনই কাশ্মীরের মনে হয়েছে সারা দেশের থেকে সামাজিক ভাবে তারা বিচ্ছিন্ন। অন্য দিকে বৈদ মনে করেন, মিডিয়ার একটা অংশ এখন জঙ্গিবাদকে আকর্ষণীয় করে দেখাচ্ছে, এর ফলে জঙ্গিবাদে আকৃষ্ট হচ্ছে যুবসম্প্রদায়। ছেলেপুলেদের সঠিক পথে চালানোর জন্য পরিবার এবং সমাজের একটা বড়ো ভূমিকা রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here