নয়াদিল্লি : গোরক্ষার নামে বেছে বেছে মুসলিম, দলিতদের হত্যার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিলেন সশস্ত্রবাহিনীর ১১৪ জন অবসরপ্রাপ্ত অফিসার। তাঁরাও ‘নট ইন মাই নেম’ শিবিরের পাশে দাঁড়ালেন। প্রসঙ্গত কিছু দিন আগে দিল্লির কাছে একটা ট্রেনে ১৬ বছরের মুসলমান কিশোরকে ‘গরু খাদক’ বলে আক্রমণ করা হয়। তাকে খুন করা হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ পথে নামেন। প্রতিবাদী মানুষের এই দলই ‘নট ইন মাই নেম’ শিবির বলে পরিচিত। পত্রলেখক সেনা অফিসারেরা এই পরিস্থিতিকে ভয় আর হুমকির আবহ বলে বর্ণনা করেছেন। যদিও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে খোদ প্রধানমন্ত্রীই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, গোরক্ষার নামে মানুষ খুনের ঘটনা মেনে নেওয়া হবে না। তবুও কথায় আছে, চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনি। ঠিক তেমনই কাজ হচ্ছে না নরেন্দ্র মোদীর সেই হুংকারেও।

এই চিঠিতে তাঁরা বলেছেন, “আমরা আর এই সব ঘটনা থেকে মুখ ঘুরিয়ে থাকতে পারি না”। তাঁরা বলেন, “ভিন্ন মত পোষণ করা দেশদ্রোহ নয়, প্রকৃতপক্ষে এটিই গণতন্ত্রের মূল উপাদান”।

স্থল, বায়ু ও নৌবাহিনীর ওই ১১৪ জন অবসরপ্রাপ্ত অফিসার তাঁদের স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলেছেন, দেশের নিরাপত্তার জন্য তাঁরা সারা জীবন ব্যয় করেছেন। পাশাপাশি এ-ও জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক নেই। তাঁরা শুধু ভারতের সংবিধানের কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ।

তাঁরা লিখেছেন, “বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের প্রতীক হল সশস্ত্রবাহিনী। ধর্ম, ভাষা, জাতপাত, সংস্কৃতি বা অন্য কোনো ধরনের ভেদাভেদ সশস্ত্রবাহিনীর সংহতিতে কোনো আঘাত হানতে পারে না। বিভিন্ন পরিবেশ থেকে উঠে আসা মানুষজন বাহিনীতে যোগ দিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশকে রক্ষা করে এসেছেন, আজও তাই করছেন। আমরা একটা পরিবার। আমাদের ঐতিহ্য হল বহু বর্ণের লেপের মতো। এবং এটাই হল ভারত, এবং এই প্রাণোচ্ছল বৈচিত্র্যকেই আমরা পরম যত্নে আগলে রাখি।”

চিঠিতে বলা হয়েছে, “আমরা ‘নট ইন মাই নেম’ শিবিরের পাশে দাঁড়িয়েছি। সংগঠিত এই প্রতিবাদী মানুষের দল দেশের মধ্যে ঘটে চলা ভয়, হুমকি, ঘৃণা এবং সন্দেহের এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন”। অবসরপ্রাপ্ত সেনারা চিঠিতে আরও বলেন, দেশের সংবিধান, দেশের সশস্ত্রবাহিনী যার প্রতীক, সেখানেই আঘাত হানছে  বর্তমান পরিস্থিতি। এই আঘাত হানছে হিন্দুত্ব রক্ষায় স্বনিযুক্ত বাহিনী।

প্রাক্তন সেনা অফিসারেরা বলেছেন, “দলিত আর মুসলমানদের লক্ষ করে যে আক্রমণ ঘটছে তার নিন্দা করার পাশাপাশি আমরা নিন্দা করছি গণমাধ্যম, প্রচারমাধ্যমের ওপর হামলা, সমাজের বিভিন্ন সংগঠন, বিশ্ববিদ্যালয়, সাংবাদিক ও প্রাজ্ঞজনদের জাতীয়তাবিরোধী আখ্যা দিয়ে তাঁদের বাক স্বাধীনতা হরণ করার ঘটনাকে”।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন