child-killed

ওয়েবডেস্ক: গত বুধবার পুলিশের কাছে খবর যায় ছ’বছরের একটি শিশু কন্যাকে পাওয়া যাচ্ছে না। গত কাল পুলিশ তাকে খুঁজে পেয়েছে। কিন্তু অন্য কোথাও নয়, বাড়ির ছাদে মিলেছে তার গলার নলি কাটা দেহ।

ওই এক রত্তি শিশুটির হত্যাকারী আর অন্য কেউ নয়, তার নিজের মা এবং মায়ের প্রণয়ী। বুধবার সন্ধ্যাবেলা বাড়ির কর্তা, পেশায় ফেরিওয়ালা বেরিয়ে যান মদ্যপানের উদ্দেশে। বাড়িতে তখন তাঁর স্ত্রী, ছ’বছরের ওই শিশুকন্যা এবং একটি সাড়ে চার বছরের ছেলে। একটি ঘরে ভাইবোনে মিলে টিভি দেখছিল। আর অন্য ঘরে তখন এক ৩০ বছরের মহিলা এবং তাঁর ২০ বছর বয়স্ক প্রেমিক। তাদের মধ্যে কী কথা হচ্ছিল বা কী ঘটছিল তার পুরোটাই অনুমান-নির্ভর। তবে এমন একটা জিজ্ঞাসা নিয়েই হয়তো শিশুকন্যাটি ছুটে যায় সেই ঘরে। সেখানে গিয়ে এমন একটা কিছু দেখে ফেলে সে, যাতে রেগে অগ্নিবর্মা হয়ে যায় তার মা।

মেয়েটিও চিৎকার করে বলতে থাকে, সে যা দেখেছে সব বাবা এলে জানিয়ে দেবে।  নিষিদ্ধপ্রণয়ী যুগল তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেও বিফল হয়। ভয় দেখানো হয়। তাতেও দমে না সে মেয়ে। অগত্যা হাতে তুলে নেয় ছুরি। প্রথম শ্রেণীতে পাঠরতা মেয়েটির গলার নলি কেটে ছাদের উপর লুকিয়ে রাখা হয়।পুলিশ বলছে, কিছু ঘুমের ওষুধের নমুনাও পাওয়া গিয়েছে মৃতদেহে।

কু-কর্ম চুকে যাওয়ার পর পেশায় শ্রমিক সুধীর নামের ওই প্রণয়ী বেরিয়ে যায়। এদিকে মা বেরোয় প্রতিবেশীদের বাড়ি। যেন কিছুই ঘটেনি এমনটা ভাব করে সে জানায়, মেয়েকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিবেশীরাও তার কথা বিশ্বাস করে পাড়াময় খুঁজে ফেলে তন্ন তন্ন করে। মেয়েটির মাদকাসক্ত বাবাও সেই দলে যোগ দেয়। কিন্তু তার হদিশ মেলে না। অবশেষে থানায় অভিযোগ জানায়।

গতকাল প্রতিবেশীদের কাছ থেকে তথ্য মিললে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং মা ও তার প্রেমিককে গ্রেফতার করে। দিল্লি (পূর্ব)-র ডিসিপি ওমবীর সিংহ জানিয়েছেন, প্রথমে ওই মহিলা সন্দেহের তালিকায় ছিল না। কারণ তার আচার-আচরণে তেমন কোনও বহি‌:প্রকাশই ছিল না। কিন্তু প্রতিবেশীদের কাছ থেকে মায়ের নিষিদ্ধ প্রণয়ের ঘটনার কথা জানতে পেরেই পুলিশের সন্দেহ ঘণীভূত হয়। পরে তাদের জেরা করে মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়। পাওয়া গিয়েছে ছুরিটিও।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here